সাম্প্রতিক

নীরবে কাঁদে গড়াই…

গড়াই আর সেই গড়াই নেই। হারিয়ে গেছে জৈববৈচিত্র।  এক কালের সুন্দরী গড়াইকে এখন দেখলে বড় বিমর্ষ মনে হয়।

এক সময় নদীটিতে শৈল, বোয়াল, চিতলসহ নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলেও, এখন দেখা মেলে না তার কিছুই। অথচ প্রমত্ত পদ্মার এই শাখা নদী ঘিরে, আশেপাশের কয়েক লাখ মানুষের জীবন জীবিকা নির্বাহ হলেও, বছর দশেক হলো থমকে গেছে সব। তাই সারা বছর পানি প্রবাহ ধরে রাখতে কার্যকরী পদক্ষেপের বিকল্প নেই বলে মনে করেন পরিবেশবিদরা।
গড়াই নদীর পাড় ঘেঁষা জুগিয়া গ্রাম। প্রতিদিনের মতই নদীতে মাছ পাওয়ার আশায় জাল ফেলেন গ্রামের জেলেরা। কিন্তু প্রাপ্তির খাতা শূন্য।
একই পরিস্থিতি মিন্টু মিয়ার। নদীতে পানি না থাকায় মাছ ধরার একমাত্র নৌকাটাও নোঙর করে রেখেছেন।
নাব্য সংকট আর খননের অভাবে একসময়ের উত্তাল গড়াই আজ কেবলই বালুচর। কিন্তু এই নদীকে ঘিরেই. একদিন গড়ে উঠেছিল আশপাশের অন্তত ১৪ জেলার মানুষের জীবন-জীবিকা।
গড়াই নদীতে মাছের খাদ্য, প্ল্যাঙ্কটন, পোনাসহ নানা ধরনে কীটপতঙ্গ পাওয়া যেতো। পানি না থাকায়, আজ তার কিছুই মিলছে না। তাই কমেছে মাছও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনসহ দেশের উপকূলভাগের জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় পদ্মার এই শাখা নদীতে সারা বছর পানির প্রবাহ ধরে রাখা প্রয়োজন।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আগে গড়াই নদীতে ৫৪ থেকে ৫৫ হাজার কিউসেক পানি ছিল। কিন্তু নাব্য সংকট আর পলি পড়ে এখন পাওয়া যায় মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজার কিউসেক!