সাম্প্রতিক

চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গায় ঘুমন্ত যুবককে গুলি করে হত্যা

সাম্প্রতিকী ডেস্কঃ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ঘুমন্ত যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। শুক্রবার গভীররাতে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা ঘরে ঢুকে তার চোখের কাছে গুলি করে। আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামে চেয়ারম্যানপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সবুর আলী ওই গ্রামের পলান ম-লের ছেলে। তিনি পান ব্যবসায়ী ছিলেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। দুপুরে লাশের ময়না তদন্ত শেষে নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনার পর গ্রাম জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কানাই লাল সরকার জানান, ‘নিহত সবুর আলী (৩৮) পান ব্যবসায়ী ছিলেন। নিজ বাড়িতে গরু পালন করতেন। গরু চুরির ভয়ে রাতে বারবার ঘুম থেকে উঠে গরু দেখতেন তিনি।’ সে কারণে হয়তো ঘরের দরজা খুলে ঘুমিয়েছিলেন।
এ সময় গভির রাতে অজ্ঞাত সন্ত্রসীরা ঘরে ঢুকে ওয়ান শুটার গান দিয়ে গুলি করে হত্যা নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলির শব্দ পেয়ে নিহতের স্ত্রী পাশের ঘর থেকে স্বামীর ঘরে আসতে গেলে দেখে তার ঘরের দরজায় বাইরে থেকে সন্ত্রাসীরা সিটকানি লাগিয়ে দেয়। স্ত্রী সালমা খাতুন চিৎকার করলে পাশের বাড়িতে থাকা বড় ভাই ও ভাবি এসে দেখে সবুর আলী রক্তাক্ত অবস্থায় খাঁটের উপর পড়ে আছে। আর সালমা খাতুনের ঘরের দরজার সিটকানি খুলে দেয়।

নিহতের স্ত্রী সালমা খাতুন জানান, ঘরের ভেতর গুলির শব্দ শুনে বাইরে আসতে চাইলে প্রথমে আসতে পারিনি। পরে অন্যদের সহযোগিতায় দরজার সিটকানি খুলে বাইরে এসে দেখি স্বামি গুলিবৃদ্ধ অবস্থায় বিছানায় শুয়ে ছিল। কারা আমার স্বামীকে হত্যা করল বুঝতে পারছিনা। স্বামীর যারা হত্যাকারী তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কানাই লাল সরকার জানান, হত্যা রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। যারাই জড়িত থাকনা কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখনও কোন মামলা হয়নি।

হারদী গ্রামের ইউনিয়ন কৃষকলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, নিহত সবুর গরু মোটাতাজাকরন  ও আলমডাঙ্গা পান বাজারে ব্যবসা করতেন। রাতে বার বার উঠে গরু দেখভাল করতে হত। সে কারণে রাতে ঘরের দরজা খুলে ঘুমিয়েছিলেন। তার স্ত্রী পাশের রুমে ঘামাচ্ছিলেন। ঘাতক সেই সুযোগে ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত সবুর আলীকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে প্রতিবেশিদের ধারণা। গুলির শব্দ স্ত্রী শুনলেও দ্রুত নিজের রুম থেকে বের হতে পারেননি। ঘাতকরা স্ত্রীর রুমের দরজার শিকল আটকে দিয়েছিল।

লাশের ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক অবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামিম কবির জানান, ওয়ান শুটার গান দিয়ে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। গুলি মাথার ভেতর ছড়িয়ে পড়ে। চোখের কাছে ঠেকিয়ে এক রাউন্ড গুলি করা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্ত সম্পর্ণ হয়েছে।

x

Check Also

সহযোগিতা ছাড়া পৃথিবীতে কোন মহৎ ও বৃহৎ কাজ করা সম্ভব না- আলমডাঙ্গার ইউএনও

মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও স্থানীয় সন্মানীত ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় সভা করলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার সদ্য যোগদানকারি নির্বাহি ...