সাম্প্রতিক

চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতির দীর্ঘ ১০ বছর পর পুনরায় এমপিও ভূক্তির অপচেষ্টা

চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতির দীর্ঘ ১০ বছর পর পুনরায় সেই শিক্ষককে অবৈধভাবে এমপিও ভূক্তির অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে গাংনী উপজেলার এসএআরবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, খুলনা বিভাগীয় শিক্ষা অফিস ও ডিজি বরাবর অভিযোগপত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার এসএআরবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে গত ১/১/২০০৪ তারিখে মিফতাহুল জান্নাত যোগদান করেন। এমপিও বিহীন প্রায় ৫ বছর চাকুরি করার পর তিনি গত ৯/৫/২০০৯ তারিখে স্বেচ্ছায় চাকুরি থেকে অব্যাহতি নেন। এরপর দীর্ঘ ১০ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার পরও আবার তার চাকুরি এমপিওভূক্তির জন্য অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল ইসলামের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, মিফতাহুল জান্নাত অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল ইসলামের স্ত্রী।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ি সভাপতি মাজেদুল হকের আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসার শাহীন আক্তার এ সংক্রান্ত তদন্তের জন্য ২ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করেন। এ তদন্ত কমিটি গত ৭/৩/২০১৮ তারিখে জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্তকারি অফিসারদ্বয় অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পান। তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয় যে, মিফতাহুল জান্নাত সহকারি শিক্ষক হিসেবে ১/১/২০০৪ তারিখে যোগদান করেন এবং ৯/৫/২০০৯ তারিখে স্বেচ্ছায় চাকুরি থেকে অব্যাহতি নেন। তার আবেদনপত্রের স্বাক্ষরের সাথে শিক্ষক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের মিল নেই। তিনি ২০১১ সালে ৭ম শ্রেণির খ শাখায় বাংলার শিক্ষক হিসেবে পুনরায় যোগদান করেন বলে মৌখিক দাবি করেন। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তাছাড়া ৭ম শ্রেণিতে মাত্র ৪৭ জন শিক্ষার্থি ভর্তি হয়েছে। মাত্র ৪৭ জন শিক্ষার্থি নিয়ে কীভাবে ২টি সেকশন খোলা হল? ৭ম শ্রেণির খ সেকশনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০১০ সাল থেকে ২০১১ সাল অবধি শিক্ষক হাজিরা খাতায় তার কোন স্বাক্ষর নাই। ২০১২ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত স্বাক্ষর পাওয়া গেলেও ২০১৪ সাল থেকে আর কোন স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। ২০১৬ সালের ক্লাস রুটিনে তার নাম পাওয়া যায়নি। তিনি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত চিলেন যা চাকুরি বিধির পরিপন্থি। সুতরাং তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এতদসত্বেও প্রধান শিক্ষক ১০ বছর পূর্বে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়া শিক্ষিকার এমপিও ভুক্তির অপচেষ্টা করছেন। এ ব্যাপারে পৃথকভাবে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও সহকারি শিক্ষকরা জেলা প্রশাসক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, খুলনা বিভাগীয় শিক্ষা অফিস ও ডিজি অফিসে অভিযোগপত্র প্রেরণ করেছেন।

x

Check Also

শাহবাগ ছেড়েছেন আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি তুলে নিয়েছেন। বুধবার ...