সাম্প্রতিক

আলমডাঙ্গায় বৃদ্ধাশ্রম শান্তি নিবাস নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার

আলমডাঙ্গা শহরের ওয়াবদা কলোনিতে বৃদ্ধাশ্রম – শান্তি নিবাস নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেছেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া। দুপুরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন।
পরে ওয়াবদার প্রাক্তন লং টেনিস কোর্টে এ বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ বিষয়ে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া। প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার বলেন, একসময় উন্নত বিশ্বের দেশের গ্রামে গিয়ে চিন্তা করতাম কবে আমাদের দেশের গ্রামগুলি এমন হবে? গ্রামের বসতবাড়ি পাকা হবে, বিদ্যূত থাকবে, পানীয়জলের সুব্যবস্থা থাকবে। যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হবে। ঘরে ঘরে মোটরসাইকেল, কার থাকবে। এখন বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র দূর হয়েছে। দারিদ্র এখ চিড়িয়াখানায়। এখন গ্রাম হবে শহর। আমার গ্রাম আমার শহর। তিনি মজা করে বলেন, এখন শিশু ভূমিষ্ঠ হয় না, দালানস্থ হয়।বাংলাদেশ আর স্বপ্নের দেশ না, বাস্তবের দেশ। তিনি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ২৫ জনে একজন মাদকাসক্ত। মাদকাসক্তি সামাজিক ব্যাধি। এ সামাজিকব্যাধিমুক্ত করতে বাপ-মাকেই সবচে বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। সন্তানের সবসময় খবরাখবর রাখতে হবে। সন্তান রাতে ঘুমালেও তার নিঃশ্বাস পরখ করতে হবে। পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর সুসম্পর্ক না থাকলে সবচে ভোগাআন্তি বাড়ে সন্তানের। যে পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভারত- পাকিস্তানের মত বৈরি, তাদের সন্তানদের মাদকাসক্ত হওয়ার বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তিনি ভারত-পাকিস্তানের মত ভয়াবহ সম্পর্কের পরিবর্তে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে উত্তর –সুচিত্রার মত রোমান্টিক করে তুলতে অভিভাবকদের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, যে ঘরে বসবাস করবেন, সে ঘরের ভেতর দেয়াল তুলবেন না।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, আলমডাঙ্গার নির্মিতব্য বৃদ্ধাশ্রম শান্তি নিবাস প্রধানমন্ত্রি ও বিভাগীয় কমিশনারের চিন্তার ফসল। তিনি বলেন, ২ বার এ স্থানটি দেখে এখানে বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ – অনেক বৃদ্ধাশ্রম এমন স্থানে অবস্থিত যে সেখানে কেউ বসবাসই করতে চান না।
আলমডাঙ্গা কলেজিয়েট স্কুলের উপাধ্যক্ষ শামীম রেজার উপস্থাপনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাহাত মান্নান, আলমডাঙ্গা পৌর মেয়র উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাসান কাদির গনু, আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ মুন্সি আসাদুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামীলীগ সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাস্টার, হারদী ইউপি চেয়ারম্যান বিশিষ্ঠ শিক্ষানুরাগী নুরুল ইসলাম, জামজামী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, বেলগাছী ইউপি চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মন্টু, কালিসাপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, পৌর কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক, আলাল উদ্দিন, নবনির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সালমুন আহমেদ ডন, নবনির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মারজাহান নিতু, মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ নূর মোহাম্মদ জকু, প্রেস ক্লাস সভাপতি শাহ আলম মন্টু, সম্পাদক হামিদুল ইসলাম আজম। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌর আওয়ামীলীগের সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা সরকারী ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম সরোয়ার মিঠু, মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আবু ছালেহ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, আলমডাঙ্গা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনিসুজ্জামান, আল ইকরা ক্যাডেট একাডেমির প্রধান শিক্ষক এনামুল হক, উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল্লাহ হিল কাফি, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার হাসানুজ্জামান খান, উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলী জিন্না, সমাজ সেবা অফিসার আফাজ উদ্দিন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার শামসুজ্জোহা, মহিলা বিষয়ক অফিসার উম্মে সালমা আক্তার, মৎস্য কর্মকর্তা ফাতেমা কামরুন্নাহার আখি, বিআরডিবি কর্মকর্তা শায়লা শারমীন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, সমবায় কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি মল্লিক, খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোফাক্ষারুল ইসলাম।