সাম্প্রতিক

আলমডাঙ্গার হাটবোয়ালিয়ায় বৈঠক থেকে জামায়াতের ৪৪ মহিলা নেতাকর্মী আটক

আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া থেকে পুলিশ জামায়াত ইসলামীর ৪৮ মহিলা নেতা-কর্মী আটক করেছে। পরে মানবিক কারণে অন্তর্স্বত্বা, জটিল রোগি, দুগ্ধপোষ্য শিশুর মাসহ ৪ জন মহিলাকে মানবিক কারণে মামলা থেকে অব্যহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৪ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে হাটবোয়ালিয়া গ্রামের জাহিদুর ইসলাম টিটুর বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের অভিযানকালে প্রায় ২৪/২৫ জন মহিলা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ নগরবোয়ালিয়া গ্রামের জামায়াতের মহিলা নেত্রী পলাতক মর্জিনা খাতুনের স্বামী খবির উদ্দীনকে আটক করে। পুলিশি অভিযানকালে বাড়ির মালিক জাহিদুর রহমান টিটু অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু জামায়াতের সাংগঠণিক বইপত্র ও মাসিক চাঁদার রশিদ বই উদ্ধার করেছে। আটককৃত ৪৫জনকে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫-ডি আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্তর্ঘাত মূলক কর্মূকান্ড করার জন্য সমবেত ষড়যন্ত্র ও একঅপরকে সহযোগীতা করার অভিযোগের তাদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জানা গেছে, গতকাল ১৪ মে সকাল ৯টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের মৃত ইলিয়াস মিয়ার ছেলে জাহিদুল ইসলাম টিটোর বাড়িতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের জামায়াতে ইসলামির মহিলা সংগঠণের সাথে জড়িত প্রায় শতাধিক মহিলা উপস্থিত হন। ইফতার ও আলোচনাসভার নামে তাদেরকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে আটক অনেকে দাবি করেন। বিষয়টি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ অবগত হন। সকাল ১০ টার দিকে এস আই জিয়ার নেতৃত্বে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ও হাটবোয়ালিয়া ফাঁড়ি পুলিশের একটি টিম ওই বাড়ির চারিদিকে অবস্থান নেই। পরে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সে সময় আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মুন্সি আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কলিম উল্লাহ্ ও পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ দোতলা ঘরের বিভিন্ন রুম তল্লাশি করে ৪৮জন মহিলা জামায়াত নেতাকর্মিকে আটক করেন। এদের মধ্যে বাড়ির মালিক জাহিদুল ইসলাম টিটুর স্ত্রী জামায়াতের রোকন দিলারা আফরোজসহ বেশ কয়েকজন নেতৃত্বস্থানীয় মহিলা আছেন। পুলিশি অভিযান শুরুর পূর্বেই জামায়াতে ইসলামীর মহিলা নেত্রী নগরবোয়ালিয়ার মর্জিনা খাতুনসহ ২৪/২৫ জন মহিলা পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। পরে পুলিশ মহিলা নেত্রী মর্জিনা খাতুনের স্বামী খবির উদ্দীনকে আটক করেছে।
এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মওদুদীর কয়েকটি বই, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর লেখা বই, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নামক বই, নামাজ রোজার হকিকত নামক বইসহ ২৪টি বই,চাঁদা আদায়ের ২টি রশিদ বই, ইয়ানতের হিসাব রেজিস্ট্রার ৪টি, ব্যক্তিগত রিপোর্টবই ৬টি ও লিফলেট উদ্ধার করে।
এদিকে, আটক মহিলাদের থানায় নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কলিম উল্লাহর উপস্থিতিতে এ রিপোর্ট লেখাবধি উপর্যুপরি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে মানবিক কারণে ৪জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্য ৪৫ জনকে নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। মামলা আটককৃতরা হলেন নগরবোয়ালিয়া গ্রামের অহিদ বিশ^াসের ছেলে খবির উদ্দিন(৫৫), হাটবোয়ালিয়া গ্রামের জাহিদুর রহমান টিটুর স্ত্রী দিলারা আফরোজ মুক্তা (৩৫), বড়গাংনী গ্রামের জোহার স্ত্রী আফরোজা বেগম(৫৬), ভাংবাড়িয়া গ্রামের কাজলের স্ত্রী সুমি খাতুন(৩৭), বড়গাংনী গ্রামের আব্দুস সালামের স্ত্রী তানজিলা খাতুন(৪০), হারদী গ্রামের বাচ্চুর স্ত্রীর মুন্নি খাতুন(৩৪), কুয়াতলা মোহাম্মদপুর মসজিদপাড়ার মৃত আবু তালেবের স্ত্রী মেজবানু খাতুন(৫৬), হাটবোয়ারিয়া গ্রামের টুটুলের স্ত্রী রিমা খাতুন(২৬), উত্তর হাটবোয়ালিয়া গ্রামের বকুলের স্ত্রী রুপালী খাতুন(২৭), হারদী শেখপাড়ার আব্দুল বারেকের স্ত্রী মনোয়াারা খাতুন(৬০), বড়গাংনী গ্রামের হাসানুজ্জামানের স্ত্রী রুপা খাতুন(২৭), একই গ্রামের মন্টুর স্ত্রী নাজমা খাতুন(৪০), খোরদ গ্রামের মোশারেফ আলীর স্ত্রী মাজেদা খাতুন (৫০) , বড়বোয়ালিয়া গ্রামের আবুল হোসেনে স্ত্রী মরিয়ম নেছা(৫৫), খোরদ গ্রামের আবু ছদ্দিনের স্ত্রী হাজেরা খাতুন(৬৫),
একই গ্রামের মোফাজ্ঝেল হোসেনের স্ত্রী কোহিনুর খাতুন(৫৫), চরযাদবপুর গ্রামের নবীছদ্দিনের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন(৬৫), মোচাইনগর গ্রামের আনিছুর রহমানের স্ত্রী শাহিনুর খাতুন(৫৫), বামানগর গ্রামের আজিবর রহমানের স্ত্রী বেলি খাতুন(৩৭), হারদী গাংপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী মমতাজ ওরফে ময়না(৫০), হাটুভাঙ্গা গ্রামের আবুল বাশারের স্ত্রী রুপালী খাতুন(৪০), চরযাদবপুর গ্রামের তৌহিদের স্ত্রী শাহানুর খাতুন(৬৫), বড়গাংনী গ্রামের আশাদুলের স্ত্রী আঞ্জুমান আরা(৪৫), হাটুভাঙ্গা গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী রোকসানা পারভীন(৪৪)নগর বোয়ালিয়া গ্রামের আশাদুলের স্ত্রী তাজমিরা খাতুন(২৮), বড়গাংণী গ্রামের আবু তালেবের স্ত্রী শখেলা খাতুন(৪০), একই এলাহীর স্ত্রী পারুলা খাতুন(৪৮), হাটবোয়ালিয়া গ্রামের আব্দুস সোবহানের স্ত্রী আশুরা খাতুন(৫০), মৃত চাঁদ আলীর মেয়ে খাদিজা খাতুন(৩০), মৃত আব্দুল আজিজের মেয়ে হাদিজা খাতুন(৩০), ময়েন উদ্দিনের স্ত্রী জুলি খাতুন(৪০), আলমডাঙ্গা কোর্টপাড়ার আতিয়ার রহমানের স্ত্রী নিলু খাতুন(৪০), নগরবোয়ালিয়া গ্রামের বিশারত আলীর স্ত্রী ময়না খাতুন(৩৫), একই গ্রামের জামসেদ আলীর স্ত্রী চামিলি খাতুন(৪৫), ফিরোজ আলীর স্ত্রী জবেদা খাতুন (৩০) হাটবোয়ালিয়ার আব্দুর জব্বারের স্ত্রী জরিনা খাতুন(৪৫), একই গ্রামের সেলিম রেজার স্ত্রী রোকসানা(৫০), নগর বোয়ালিয়ার মনির উদ্দিনের স্ত্রী মুন্নি খাতুন(৪০), যাদবপুর গ্রামের নজরুলের স্ত্রী বেদানা খাতুন(৪০), চরযাদবপুর গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী সাবানা(৪০), বামানগরের জুবাইরুলের স্ত্রী টেনি খাতুন (৪৮) হারদী গ্রামের তসলিম উদ্দিনের স্ত্রী তাসলিমা বেগম(৪০) ভাংবাড়িয়া গ্রামের রফিকুলের স্ত্রী আফরোজা বেগম(৩৯), হাটবোয়ালিয়া গ্রামের মুরাদের স্ত্রী সোনালী(৩৫) ও সবুরের স্ত্রী লিজা খাতুন (৪৫)।

আলমডাঙ্গা থানার ওসি মুন্সি আসাদুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি উপজেলার হাটবোয়ালিয়াতে জামায়াতের মহিলা রোকনের বাড়িতে শতাধিক মহিলা জামায়াতের নেতা-কর্মীরা বৈঠক করছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ৪৮ জন মহিলা ও পরে একজন মহিলা নেত্রীর স্বামী জামায়াত নেতাকে আটক করা হয়। মানবিক কারণে এদের মধ্যে ৪ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।