সাম্প্রতিক

আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জে দিনদুপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম

জানা গেছে, গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আলমডাঙ্গার গড়চাপড়া গ্রামের মৃত রবিউলের ছেলে মুন্সিগঞ্জ রেলবাজারের মুদিব্যবসায়ী ভাই ভাই স্টোরের মালিক শামীম (৩৭) নিজ দোকানে ব্যবসার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় গড়চাপড়া গ্রামের শিলন ও তার সাথে থাকা ৪ জন মোটরসাইকেলযোগে রাম দা, চা পাতি ও ছুরি নিয়ে বাজারে প্রবেশ করে মুদিদোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে কোপাতে থাকে এবং দোকানে মালামাল কিনতে আসা হৈদারপুর গ্রামের বাবু জোয়ার্দ্দারের ছেলে প্রিন্সকে (২৮) কুপিয়ে জখম করে যাওয়ার সময় মদনবাবুর মোড়স্থ মুনির বই বিতানের মালিক মুনিরকে তাড়া করলে তিনি পালিয়ে প্রাণরক্ষা করেন। আহত অবস্থায় শামীম ও প্রিন্সকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শামীমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হয়।

ঘটনার বনর্না দিতে গিয়ে শামীমের মুদিদোকনের কর্মচারী সাঈদ ও সবুজ জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শামীম ব্যবসার কাজে দোকানে ব্যস্ত ছিলো। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলযোগে গড়চাপড়া গ্রামের মৃত ইসলামের ছেলে জেহালা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শিলন (৩২) একই গ্রামের আতিয়ারের ছেলে শিলন (৩৫) মৃত শহীদের ছেলে আলী (২৫) ও হান্নানের ছেলে কামাল (২৫) রামদা, চাপাতি ও ছুরি নিয়ে দোকানে ঢুকে শামীমকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ধারালো দায়ের কোপে শামীমের বাম হাত কেটে যায়। দোকানে থাকা খদ্দের প্রিন্সকেও কুপিয়ে জখম করে ফেলে যায়। তার পায়ে জখম হয়। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলযোগে ফিরে যায়। তাদের চিৎকারে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ব্যাপারে মুনির বই বিতানের মালিক মুনির জানান, শামীমের ওপর হামলা চালিয়ে ফেরার পথে আমাকে মারার জন্য নিয়ে তাড়াতে থাকে। সংবাদ পেয়ে মুন্সিগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশের আইসি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করেন। সংবাদ পেয়ে র‌্যাব-৬ ও চুয়াডাঙ্গা পুলিশের এসএসপি (সার্কেল) ছুফি উল্লাহ, আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মামুন অর রশিদ, সেকেন্ড অফিসার এসআই জুয়েল, এসআই অচিন্ত্য পাল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।

বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, জেহালা সর্দারপাড়ার মৃত তারাচাদের ছেলে শহিদুল বাজারের জুতোব্যবসায়ী মেহেরাজের নিকট ব্যবসার টাকা পেতেন। গতপরশু মঙ্গলবার শিলন টাকা আদায় করতে যান। তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শিলন, মিলন ও আলী তাকে পিটিয়ে জখম করে। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। বাজারের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শিলনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠে বিচার দাবি করেন। ব্যবসায়ীরা শিলনের বিরুদ্ধে ফুঁসিয়ে তোলার অভিযোগ এনে শামীমের ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক বাজারের ২০-২৫ জন ব্যবসায়ীরা জানান, শিলন বাজারের প্রতিটা দোকানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫শ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাকি করে। বাকি টাকা চাইতে গেলে মারধের করে। বাজারের এমন কোনো দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই তার কাছে টাকা পাবে না। প্রিন্সকে চুয়াডাঙ্গায় রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।