সাম্প্রতিক

মেহেরপুর বিএটিসিতে অজাত বীজের তামাক বলে ফিরিয়ে দিচ্ছে চাষীদের

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির (বিএটিসি) প্রলোভনে তামাক চাষ করে শত-শত চাষী চাষের খরচ তুলতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়েছে। স্থানীয় চাষীদের অীভযোগ মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে কৃষকদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার কথা বলে কৃষকদের নিষিদ্ধ তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করে বিএটিসির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। কৃষদের বীজ সার কৃটনাশক ও দিয়েছে তারা। কিন্তু এখন চাষীরা তামাক বাচাই করে বিএটিসিতে নিয়ে গেলে অজাত বীজের তামাকের কথা বলে তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে । এতে চাষীরা বাধ্য হয়ে কমমূল্যে দালালদের কাছে তামাক বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
চাষীদের আরো আভিযোগ হলো কম মূল্যে দালারদের কাছে বিক্রি তামাক হাতঘুরে বিএটিসি বিক্রয় কেন্দ্রে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিএটিসিসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে লোন নিয়ে তামাক চাষ করে চাষীরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এতে চাষীদের অনেক লোকশান গুণতে হচ্ছে।
কৃষি আধিদপ্তর বলছে কোন বিশেষ বীজে কোন ফসল উৎপাদনে চাষী কে ব্যাধ্য করা যাবেনা । যদি কেউ এ কাজ করে থাকে তাহলে সেটা অন্যায়। বিএটিসির বক্তব্য বিএটিসির প্রদত্ত বীজের উৎপাদিত তামাক সর্বউৎকৃষ্ট তাই তারা অন্য কোন বীজের তামাক কিনবেনা।
তামাক চাষী সেলিম রেজা বলেন, বিএটিসির কথা মত আমরা তামাক চাষ করে সেই তামাক বিক্রির জন্য নিয়ে গেলে অজাত বলে ফেরত দিচ্ছে বিএটিসি কতৃপক্ষ । অথচ একই তামাক কোন বড় ব্যবসায়িক বা ক্ষমতাসীন দলের কোন নেতা নিয়ে গেলে অনায়েসে নিয়ে নিচ্ছে।
তামাক চাষী আবু বক্কর বলেন, প্রায় দশ বছর ধরে বিএটিসির সাথে তামাক চাষ করে আসছি প্রতি বছরই কোন না কোন অযুহাতে ভোগান্তি দিচ্ছে কতৃপক্ষ। কিন্ত এ বছর সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছি। প্রায় এক হাজার কেজি তামাক ঘরে পড়ে আছে বিক্রি করতে পারছি না । তামাক কোম্পানী বিএটিসিতে নিয়ে গেলে অজাত বলে বারবার ফেরত দিচ্ছে। অথচ বীজ তাদের কাছে থেকেই নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন , দশ বেল বিক্রি করার জন্য নিয়ে গেলে এক বেল কিনছে আর বাকিটা ফেরত দিচ্ছে। সেই তামাক কোন ব্যবসায়ীর কাছে অল্প দামে বিক্রি করে দিলে ব্যবসায়ীরা সহজেই বিএটিসির সাথে যোগসাজোস করে বিক্রি করছে।
তামাক চাষী কামরুল ইসলাম বলেন ‘বিএটিসি কোম্পানী একপ্রকার অসাধু দালালের হাতে চলে গেছে।’ কোম্পানীর কর্মচারি-কর্মকর্তার সাথে যোগসাজোস করে চাষীদের সর্বশান্ত করে দিচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, কোন দালালকে যদি বেল প্রতি একহাজার টাকা ঘুস দেওয়া যায় তবে তামাক বিক্রি হয়ে যাবে, তা না হলে বারবার ফেরত আসতে হবে।
তামাক চাষী রাজিবুল ইসলাম বলেন. ‘আমরা অসহায় কৃষক বলে আমাদের সাথে দুর্ব্যাবহার করে তামাক ফেরত দিচ্ছে অথচ কোন দলীয় নেতার তামাক বিএটিসি জামাই আদরে কিনছে। তামাক তিনি আরও বলেন ‘প্রতিদিন ১০ টি বেল নিয়ে আসা হয় এখানে কিন্তু বিক্রি হয় মাত্র একটি। বেশ কিছু টাকা খরচ করে তামাক চাষ করে প্রতিদিন গাড়ি ভাড়া দিতেই টাকা শেষ হয়ে যায় ।

এই ব্যাপারে বিএটিসি কোম্পানীর ডিপু ম্যানেজার মি. সাজ্জাদ বলেন, চাষীরা যা অভিযোগ করেছে তা সঠিক নয়। আমরা তামাক চাষীদের সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করি। বছরের প্রথমে আমরা তামাক চাষীদের সাথে একটি চুক্তি প্রত্র করি তাতে ৩৩ টা চুক্তি থাকে। এ চুক্তি মেনে আমরা চলি। বারবার তামাক নিয়ে এসে চাষীরা ফেতর দিচ্ছে এটা সঠিক নয়। আমরা চাষীদের হাইব্রিড বীজ দিয়েছিল কিন্তু চাষীরা তার পাশাপাশি অজাতের তামাক চাষ করেছে যা আমাদের কাছে গ্রহন যোগ্য নয় তাই আমরা ফেরত দিচ্ছি।
ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা চাষীদের কার্ড ব্যবহার করে তামাক বিক্রি করছে। আইনগতভাবেই একজন কৃষক আমাদের এখানে তামাক দিতে পারে। আমরা দেখছি চাষী তামাক দিচ্ছে । আমাদের কাছে রক্ষিত কার্ডের ছবির সাথে চাষীর ছবি মিলে যাচ্ছে তাহলে এটা আমরা কিভাবে আটকাবো।
কোম্পানীর লোন শোধ হয়ে যাওয়ার পর চাষিদের তামাক আর নেওয়া হচ্ছে না এমন কথার জবাবে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমরা প্রত্যেক চাষীদের একটা নির্দিষ্ট পরিমান তামাক চাষের কার্ড দিই। কিন্তু তার বাইরেও অধিক লাভের আশায় চাষীরা বেশি তামাক চাষ করছে সেই তামাক আমাদের কাছে আনা হচ্ছে বিক্রি করার জন্য। কিন্তু আমাদের কোম্পানীর একটা টার্গেট আছে তার বাইরে তো আমরা ইচ্ছা করলেও তামাক কিনতে পারবো না। তাই চাষীরা বেশি তামাক আমাদের কাছে নিয়ে এসে বারবার ফেরত যাচ্ছে। যেটাকে অজাত তামাক বলে ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
সেই তামাক আবার কেনা হচ্ছে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন , এখানে আমাদের প্রশিক্ষন প্রাপ্ত দক্ষ মানুষ দিয়ে তামাক ভেরিফাই করা হয়। এ ভেরিফাইয়ে এর ভিতর হয়তো ৫% ভুল হতে পারে। তিনি আরো বলেন, এবছর কড়া করলে আগামীতে কোন চাষি আর আজাত তামাক লাগানোর সাহস পাবেনা। এতে আমরা ওচাষীরা লাভোবান হবো। কোম্পানীর সাথে এরকম করলে মেহেরপুরের ডিপো উঠে যাবে। আমাদের কোম্পানী এতো বড় যে মেহেরপুরের মত ছোট যায়গায় থেকে কোম্পানী চলে গেলে আমাদের কোন ক্ষতিই হবে না। বরং চাষীরা তামাক চাষ করে যে মোটা অংকের টাকা পাচ্ছিলো সেটা আর পাবে না। তারা লোকশানে পতিত হবে। এখানে স্থানীয় যারা কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে তারা বেকার হবে।
মেহেরপুর কৃষিসম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক ডা. আক্তারুজামান বলেন, আমরা সবসময়ই চাষীদের তামাক চাষে নিরুৎসাহী করে থাকি। তবে কোন ফসল উৎপাদনে কোন প্রতিষ্ঠানই চাষীদের কোন বিশেষ বীজ বপনের জন্য বাধ্য করতে পারবেনা।