সাম্প্রতিক

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের কাজ করছে পুলিশ

20170318_182508-660x330পুলিশ জনগণের বন্ধু। এই বাহিনী কর্মতৎপরতা ও দক্ষতা দিয়ে জনগণের মন জয় করে চলেছে। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। পুলিশ সন্ত্রাসমুক্ত ও জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার পুলিশকে আধুনিক করার সব চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। গতকাল শনিবার চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনে আয়োজিত জেলা পুলিশের বার্ষিক পুলিশ সমাবেশ ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা বিভাগীয় পুলিশ প্রধান এসএম মনির-উজ-জামান (বিপিএম, পিপিএম) এসব কথা বলেন, তিনি আরও বলেন, বার্ষিক পুলিশ সমাবেশে আজ সকলে সকলের সাথে আমরা খোলামেলা ভাবে মিলিত হয়েছি। এদিনে আমাদের শপথ হবে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করা। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত প্রত্যয়দীপ্ত কণ্ঠে উপরোক্ত চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেছেন দেশবাসীর উদ্দেশে। সেটি শুধু খেলাধুলার মধ্যদিয়ে নয়, জীবনের সকল স্তরে দাঁড়িয়ে যে যেখানে আছি সেখান থেকে এর বাস্তবায়ন ঘটিয়ে আমাদের সকল অনুভূতির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তার সফল বাস্তবায়ন ঘটানো। আমাদের সকল মমত্ববোধ দিয়ে দেশটাকে ভালোবেশে দারিদ্র ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এর ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রিয় দেশ যেন বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।

গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন্স মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বার্ষিক পুলিশ সমাবেশ ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পুলিশ খুলনা বিভাগের রেঞ্জ ডিআইজি এসএম মনির-উজ-জামান (বিপিএম, পিপিএম)। ক্রীড়া পতাকা উত্তোলন করেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার ভারপ্রাপ্ত মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। এরপর বিভাগীয় পুলিশ প্রধান শ্বেতকবুতর অবমুক্তকরণ, রঙিন বেলুন গুচ্ছ উড্ডয়ন, মশাল প্রজ্জ্বলন, মনোরম সাজে সজ্জিত পুলিশ সমাবেশে চৌকশ পুলিশ সদস্যদের মার্চপাস্টের সালাম গ্রহণ শেষে উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। মার্চপাস্ট ও কুচকাওয়াজ সমাবেশটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তরিকুল ইসলাম। উদ্বোধন ঘোষণা শেষে প্রধান অতিথি রেঞ্জ ডিআইজি ভিআইপি লাউন্সে আসন গ্রহণ করেন। যেখানে পূর্ব থেকেই অবস্থান করছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস, মেহেরপুর জেলা পুলিশ প্রধান আনিছুর রহমান, ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ প্রধান মিজানুর রহমান, নড়াইল জেলা পুলিশ প্রধান সরদার রকিবুল হাসান, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ সামসুল আবেদীন খোকন, চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপুসহ চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা। প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপভোগ করতে থাকেন মনোমুগ্ধকর ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। একদিকে যখন চলতে থাকে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ইভেন্ট অন্যদিকে তখন চলতে থাকে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা ও সাপুড়ের সাপখেলা। মনোমুগ্ধকর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইভেন্ট ছিলো পুলিশ সদস্যদের গৃহিণীদের সবজি তরকারি বাছাই, পুরুষ পুলিশ সদস্যদের কলাগাছের মাথায় ওঠা ও বালিশ যুদ্ধ। ২০টি ইভেন্টের প্রতিযোগিতা শেষে বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার ভারপ্রাপ্ত মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিভাগীয় পুলিশ প্রধান এসএম মনির-উজ-জামান। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি পুলিশ লাইন্স এলাকা ত্যাগ করেন। এরপর জেলা পুলিশের আয়োজনে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আয়োজন করা হয় নৈশভোজের। নৈশভোজ শেষে ঢাকার গুণী সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের গাওয়া গান এবং কৌতুক অভিনয়ের মাধ্যমে গভীর রাত পর্যন্ত চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন।