সাম্প্রতিক

শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা প্রতিবেশী দম্পতি গ্রেপ্তার

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় তিন বছরের এক শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেশী দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের একজন নিজেই ধরা দেন।
নিহত শিশুর নাম মুক্তা মণি। সে উপজেলার দর্শনা পৌরসভাভুক্ত ঈশ্বরচন্দ্রপুরের নিমতলাপাড়ার মো. মনিরুজ্জামান ও জামেনা বেগম দম্পতির একমাত্র মেয়ে।
নিহতের নানা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে খেলাধুলা করতে মুক্তা মণি পরিবারের সদস্যদের অজান্তে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। এরপর সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি। মুক্তার সন্ধান পেতে ওই দিন ঈশ্বরচন্দ্রপুর ও আশপাশের এলাকায় মাইকিং করা হয়। গতকাল সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে প্রতিবেশী নাসির উদ্দিনের পরিবার খবর দেয়, তাদের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে লাশ দেখা গেছে। খবর পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানা ও দর্শনা তদন্ত কেন্দ্রের একদল পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এদিকে লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিবেশী মো. নাসির উদ্দিন ও শিশুটির বাবা মো. মনিরুজ্জামানকে থানায় নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তদন্তের জন্য গ্রামে থেকে যাওয়া একদল পুলিশের কাছে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নাসিরের স্ত্রী পপি খাতুন নিজেই ধরা দেন এবং খুনের দায় স্বীকার করেন।
দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক শোণিত কুমার গায়েন বলেন, পপি বলেছেন, তাঁর ছেলে মো. সাদি ও মুক্তা মণি বুধবার বিকেলে খেলা করছিল। একপর্যায়ে তারা মারামারি করে। এ সময় তিনি (পপি) মুক্তার কান বরাবর থাপ্পড় দিলে সে মাটিতে পড়ে নিস্তেজ হয়ে যায়। পরে মুক্তাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে গলাটিপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। রাতে লাশটি কম্বলে মুড়িয়ে রেখে দেন। ভোররাতে বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ মো. ফকরুল আলম খান বলেন, নাসিরের সঙ্গে জমি নিয়ে মনিরুজ্জামানের বিরোধ চলছিল। এর জেরে শিশুটিকে খুন করা হতে পারে। এ ঘটনায় শিশুটির মা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আটক ব্যক্তিদের থানায় রাখা হয়েছে।

x

Check Also

আলমডাঙ্গার বকসিপুরে ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র নাহিদের সাহসিকতায় রক্ষা পেল শিশু আরাফাত

সাম্প্রতিকী ডেক্স: চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গার বকসিপুর গ্রামের ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র নাহিদ হাসানের সাহসিকতায় রক্ষা পেল ৫বছরের ...