সাম্প্রতিক

প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কৌশল যখন মামলা?

downloadচুয়াডাঙ্গায় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে দিয়ে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের মামলা করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্বীকার করেছেন, প্রথম মামলাটি সাজানো ছিল। আর প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ বলছে, দ্বিতীয় মামলাটিও সাজানো।

ঘটনাটি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের কোটালী দর্শনাপাড়ার। এ গ্রামের বাসিন্দা সার্ভেয়ার (আমিন) ফরজন আলীর বিরুদ্ধে গত বছরের ২৩ নভেম্বর যৌন হয়রানির অভিযোগে আদালতে এবং ১৩ মার্চ ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়। প্রথমটি নালিশি মামলা, যার বাদী একই গ্রামের এক বাসিন্দা। দ্বিতীয় মামলাটির বাদী তাঁর স্ত্রী।

১৭ মার্চ সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামের ঈদগাহ কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে ফরজনের সঙ্গে ওই ব্যক্তির দ্বন্দ্বের শুরু গত বছরের মাঝামাঝি। গত বছরের ১৯ নভেম্বর রাতে ফরজন মারপিটের শিকার হন। এ ঘটনায় ২০ নভেম্বর সদর থানায় প্রথম মামলার বাদীর দুই ভাইসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা হয়।

এলাকাবাসী বলছেন, মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ২৩ নভেম্বর ফরজনের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদরের আমলি আদালতে মামলার আবেদন করেন ওই ব্যক্তি। এতে বলা হয়, ১৯ নভেম্বর রাতে ফরজন তাঁর স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেন এবং ফুসলাতে থাকেন। আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ফরজনকে মারপিট করেন। আদালত আবেদনটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে সদর থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন। পুলিশ ৩০ নভেম্বর এজাহার গ্রহণ করে।

মামলাটি পরে চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ স্থানান্তরিত হয়। আদালতের বিচারক চুয়াডাঙ্গা সদরের ইউএনওকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন। ইউএনও মৃণাল কান্তি দে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ব্যক্তির স্ত্রী ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা ও সার্বিক বিষয় অনুসন্ধান করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলেনি। তদন্তে দেখা গেছে, চাপ প্রয়োগ করে ওই নারীকে দিয়ে মামলাটি করানো হয়েছে। আদালত ৬ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন।

এদিকে ওই ব্যক্তি ১৩ মার্চ সদর থানায় তাঁর স্ত্রীকে দিয়ে ফরজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করান। এজাহারে বলা হয়, ১২ মার্চ সকালে ‘পল্লীচিকিৎসক’ ফরজন আলীর বাড়িতে পেটব্যথার ওষুধ আনতে যান ওই নারী। এ সময় একা পেয়ে তাঁকে ধর্ষণ করেন ফরজন।

তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফরজন আলী পল্লীচিকিৎসক নন; তিনি পেশায় সার্ভেয়ার। আর ১২ মার্চ সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তিনি একই ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের খবির উদ্দিনের জমির মাপজোক করছিলেন। বেগমপুর ইউপির চেয়ারম্যান আলী হোসেন বিষয়টি
নিশ্চিত করেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আমীর আব্বাস বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের এ মামলাটিও সাজানো বলে মনে হয়েছে। বিস্তারিত খতিয়ে দেখার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।