সাম্প্রতিক

চুয়াডাঙ্গায় সড়কে অবৈধ যানবাহন চলবে না

‘চুয়াডাঙ্গার সড়কে অবৈধ যান চলবে না, পরিষ্কার কথা। এই নিয়ে দ্বিতীয় কোনো কথা হবে না। সেই সঙ্গে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুরে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকচালককে খুঁজে আইনে সোপর্দ করতে হবে। যাতে কোনোভাবেই পালাতে না পারে, সেদিকে পুলিশকে খেয়াল রাখতে হবে।’

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির (আরটিসি) মাসিক সভায় আরটিএর সভাপতি চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, অবৈধ নছিমন, করিমনের কারণে অনেকে পঙ্গু হয়েছেন। সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, এ জেলায় প্রতি মাসে ৫৯ জন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছে।

 জেলা প্রশাসক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার পর আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি, দুর্ঘটনায় প্রথমে ধাক্কা লাগে। কিন্তু চালকেরা গাড়ি না থামিয়ে সামনে টেনে নিয়ে যান। এতেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।’

 সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম উদ্দীন, বিআরটিএর (চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সার্কেল) সহকারী পরিচালক আশরাকুর রহমান প্রমুখ।

 ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘সরকারের ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা নিয়মিত অবৈধ যানবাহন ধরি। কিন্তু জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের তদবিরের ঠেলায় আমাদের অবস্থা খুব খারাপ পর্যায়ে দাঁড়ায়। তখন না পারি গিলতে, না পারি ছেড়ে দিতে। মানুষের জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে অবৈধ যানবাহন চলাচল করতে দিতে পারি না। বাস্তবতা হচ্ছে, অবৈধ যান বন্ধ করতেই হবে।’

 ২৬ মার্চ জয়রামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১২ জন আহত হন। এই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপারের উদ্যোগে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। ১ এপ্রিল কমিটি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ১৪ দফা প্রস্তাব গ্রহণ করে। কমিটির সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আরটিসির সভায় প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—জেলার পাঁচটি প্রধান সড়কে অবৈধ যান চলাচল করবে না, সড়কের পাশ থেকে হাটবাজার সরাতে হবে, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে, অটোরিকশা মহাসড়কে উঠবে না ও পৌর এলাকার বাইরে যাবে না, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে সড়কের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করতে হবে, মোটরসাইকেলের গতিনিয়ন্ত্রণ ও হেলমেটবিহীন চালকদের কাছে পেট্রল বিক্রি বন্ধ ও অবৈধ যানবাহনে চলাচল নিরুৎসাহিত করতে প্রচারণা চালাতে হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, দাবিগুলো যাচাইবাছাই করে দেখা হবে। যেগুলো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।