সাম্প্রতিক

আলমডাঙ্গায় চিকিৎসার নামে শিশুর ওপর অমানবিক নির্যাতন

2017-03-22-10263-660x330শিশুর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে চিকিৎসা করছেন কবিরাজ বেবি খাতুন। তিনি সর্বরোগের কবিরাজ। জিন-ভুতে ধরা রোগী থেকে শুরু করে পেট ব্যথা, মাজা ব্যথা প্যারালাইজড রোগীও দেখছেন দেদার। যেকোনো রোগ সাথে সাথে নিরাময় হচ্ছে। এমন গুজবে কান দিয়ে নারী-পুরুষ ভিড় জমাচ্ছে আলমডাঙ্গার কৃষ্ণপুর গ্রামে। কয়েক দিন আগে বাইরে থেকে কথিত সাধু আর তার এক নারীভক্ত সরলসোজা মানুষকে ধোঁকা দিয়ে কামিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। এলাকার কয়েকজন শিক্ষক বললেন, চিকিৎসার নামে শিশুর ওপর যেভাবে কবিরাজ নির্যাতন চালাচ্ছেন তা দেখে সহ্য করার মতো নয়।

এলাকাসূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের বাহার আলী শাহর বাড়িতে কয়েকদিন আগে এসে আশ্রয় নেন বাউলবেশী কথিত পীর রংপুর জেলার রহমান শাহ ও ও তার নারী মুরিদ ঢাকা মিরপুরের বেবি খাতুন। যেকোনো রোগ বা সমস্যা একই দিনে ভালো হয়ে যাবে। এমন গুজব ছড়িয়ে তারা ব্যবসা ফেঁদে বসেন। গত রোববার থেকে শুরু হয় তাদের চিকিৎসা। গতকাল বুধবার দুপুরে কৃষ্ণপুরের বাহার আলী শাহর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার একটি বেড়ার ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। সেই ঘরে চলছে চিকিৎসা। দেখা গেলো ৮ মাসের এক শিশুর ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন মধ্যবয়সী নারী বেবি খাতুন। নাক ধরে গামলার পানি ঢালছেন শিশুর মুখে। শিশুর দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হচ্ছে। পরে ওই শিশুকে পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয় আধাঘণ্টা। এরপর তার দুই কানে গলগল করে তেল ঢেলে দিলেন কবিরাজ বেবি। শিশু চিল্লিয়ে কান্নাকাটি করছে। এভাবে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় আধাঘণ্টা। পারকৃষ্ণপুর গ্রামের আখের আলীর শিশুসন্তান দিপার কেন এই আজব ও মর্মান্তিক চিকিৎসা? সে ভালোবাবে খেতে চায় না। এ কারণেই পিতা-মাতা তাকে নিয়ে এসেছেন কবিরাজের কাছে। একই গ্রামের দম্পতি লিলটু হোসেন ও শুকজান। তাদের ১৫ বছরেও কোনো সন্তান হয়নি। কবিরাজের কথামতো নিয়ে আসা হয়েছে পাঁচটি রুই মাছের মাথা। সদ্য মাথাগুলো কেটে আনা হয়েছে। তখনও টাটকা রক্ত ঝরছে। কবিরাজ বললেন, মাছের রক্তমাখা কাল্লাগুলো পানিতে ভিজিয়ে দুজনকে খেতে। শুকজান নোংরা পানি খেতে আপত্তি জানালে কবিরাজ বেবি খাতুন বললেন ‘ওই নোংরাই খেতে হবে। না হলে সন্তান হবে কিভাবে? তাসমিনা, রুশিয়া, রূপজান, হালিমা খাতুন, সুফিয়া, হারেজ মণ্ডলসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েকশ নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। কারোর হাতে নতুন গামছা, কারোর হাতে কেজি কেজি তেল, কারোর হাতে ৪০-৫০টি করে ডিম। কবিরাজ এসব নিচ্ছেন বখশিস হিসেবে। সাথে নগদ টাকা নাজরানা। কারো মাজায় ব্যথা, কারোর প্যারালাইজড, কারোর সন্তান হয় না। এমন বিভিন্ন রোগী প্রতারিত হচ্ছে ওই কবিরাজের কাছে এসে।

এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শী পার্শ্ববর্তী সৃজনী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা ও সখের বানু বললেন, এক শিশুর ওপর চিকিৎসার নামে যে বর্বরতা দেখলাম তা একজন মা হয়ে সহ্য করা যায় না। ওই ভণ্ড কবিরাজের বিচার হওয়া উচিত। স্থানীয় মুন্সিগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ এসআই মহসিন আলী বলেন, বিষয়টি খুবই কষ্টদায়ক। আমি নিজেই সরেজমিনে গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।