সাম্প্রতিক

আমি যদি মেয়র হতাম!

আমার স্পষ্ট মনে আছে, আমাদের ক্লাসে এক গুরুগম্ভীর শিক্ষক ক্লাস নিতেন। উনাকে সকলেই নেহায়েত কারনেই ভয় পেতেন। হঠাৎ একদিন স্যার লিখতে দিলেন ‘আমার জীবনের লক্ষ’। কী লিখি, কী লিখি করে লিখে ফেললামর আমার জীবনের লক্ষ- মানবতার মহান কারিগর শিক্ষক; হুম, আমি শিক্ষক হতে চাই। স্যার জানতে চাইলেই কেন শিক্ষক হতে চাই। উত্তর দিতে পেরেছিলাম না। কারন ওটা ছিল গদবাধা কিছু বাক্য, মুখস্ত রচনা। কিন্তু এখন এসে যদি বলি জীবনের লক্ষ মেয়র। তবে এর কারন আমি বিস্তর বর্ণনা করতে পারব। কেননা, এখনকার উদ্দেশ্যটা মুখস্ত বিদ্যা, কিংবা আবেগ নয়, প্রয়োজনের তাগিদেই সৃষ্টি হয়েছে। এটা মনে থাকা উচিৎ প্রয়োজন অভাব মানে না।

শিক্ষকতা কিংবা মেয়র কোনটাই আমার উদ্দেশ্য নয়। তারপরও যদি আমাকে বলা হয় মেয়র হলে আমি কী করব? তখন এমন কিছু করব যা কখন কোন মেয়র করেনি কিংবা করবে না।

আমি মেয়র হলে প্রথমেই পরিকল্পিত নগর রাষ্ট্র গঠনের স্বিদ্ধান্ত নিতাম। পৌর এলাকাধীন নির্দিষ্ট এলাকা সমূহকেই কেবল আবাসিক বলে ঘোষণা দিয়ে সেগুলোকে বাসযোগ্য করতে যাবতীয় কাজ করতাম। পৌরসভার পরিকল্পনা মোতাবেক ছাড়া সে সব আবাশিক স্থানে কোন বাড়ি বা এ জাতীয় কিছু নির্মাণ করা যাবে না। বাড়ি নির্মাণ করতে হলে অবশ্যই পৌরসভার অনুমতি নিতে হবে।

শহরের কোলাহল কমিয়ে আনার জন্য সেই সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্ক করতাম যেগুলো পৌর এলাকার একপাশে থাকলেও কোন সমস্যা হবে না। এক্ষেত্রে আসতে পারে টিনের বাক্স বিক্রয়ের দোকান, গ্যারেজ, বোডিং স্টোরসহ এ যাবতীয়।কেননা, এগুলো পৌর এলাকার এক পাশে থাকলেও তাদের ব্যবসা কিংবা ক্রেতাদের ক্রয়ের কোন সমস্যা হবে না। পৌর এলাকার ভিতরে থেকে অযথা কোলাহল বাড়িয়ে দরকার কী! এমনকি প্রাইভেট বাস সার্ভিসের কাউন্টারগুলোও এক্ষেত্রে বিবেচ্য। আর বাস সার্ভিসগুলোর জন্য পৌর বাস টার্মিনালতো আছেই। তাদের আলাদা করে হাইরোডে কোন কাউন্টার রাখার প্রয়োজনই আমি অনুভব করি না।

আমাদের আলমডাঙ্গা পৌরসভার একদিক থেকে এগিয়ে আছে। বাইপাশ সড়কটা একটা পৌরসভার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পৌর এলাকাধীন যানজট এবং বিশৃঙ্খলা কোমাতে বাইপাশ সড়ক ব্যাপক ভূমিকা রাখে। মাঝে মাঝে লক্ষ করি বাইপাশ সড়ক থাকার পরেও ট্রাক, বাসসহ কিছু নিষিদ্ধ গাড়ি পৌর এলাকার ভিতরে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। আমি মাইকিং করে বাস, ট্রাক কিংবা ওইসব নিষিদ্ধ গাড়ির মালিকদের সতর্ক করে দিতাম তারা যেন পৌরসভার অভ্যন্তরে এই সব যানবাহনগুলো না নিয়ে আসে। তারপরেও যদি পৌর এলাকার অভ্যন্তরে এগুলো দেখা যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতাম।

আলমডাঙ্গা পৌরসভার আর একটি বড় সমস্যা ফুটপাত দখল। আমি মেয়র হলে ফুটপাতগুলো অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতাম। চারিদিকে তাকালেই দেখা যায় বিভিন্ন ব্যবসায়িরা ফুটপাতগুলোকে নিজেদের দখলে নিয়ে তাদের ব্যবসার কাজে লাগাচ্ছে। অথচ, ফুটপাত থাকার কথা ছিল উন্মুক্ত। যেটা দিয়ে পথচারিদের হেটে যাবার কথা। ফুটপাত দখলের কারণে দেখা যাচ্ছে মুল রাস্তা দিয়ে পথচারিরা হাটাচলা করছে আর তার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।

আলমডাঙ্গা পৌরসভার সব থেকে বড় সমস্যা রাস্তা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে জংধরা, মরিচাপড়া লোহার দন্ডের মতো হয়ে গেছে রাস্তাগুলো। একটু পর পরই রাস্তার মাঝখান থেকে অর্ধের উঠে গেছে। বর্ষাকালে পানি বেধে কাঁদা হয়ে যায়। এমনকি এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে আজও রাস্তাই হয়নি। রাস্তা পৌরসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আমি মেয়র হলে চেষ্টা করতাম কিছু না হলেও যেন রাস্তাগুলো ভালো রাখতে পারি।

ইদানিং মাইকিংয়ের শব্দে পৌর এলাকায় থাকায় দুষ্কর। কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। যখন তখন মাইকিং। আমি মাইকিং আইন প্রণয়ন করে নির্দিষ্ট একটা সময় ব্যাতিত মাইকিং করা যাবে না মর্মে সর্ব সাধারনকে জানিয়ে দিতাম।

আলমডাঙ্গায় ব্যাঙের ছাতার মতো কিন্ডার গার্টেন স্কুল দিন দিন বেড়েই চলেছে। যেগুলো অধিকাংশরই নি¤œমানসম্পন্ন। কোমলমতি শিশুদের তারা কী শিক্ষা দিচ্ছে সেটা অবশ্যই আমার দেখার বিষয়। যে প্রতিষ্ঠানের কোন খেলার মাঠ নেই, সেই প্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশুরা কী শিখবে? ছোটকাল থেকেই যারা গদবাধা কিছু নিয়েমের মধ্যে লালিত পালিত হচ্ছে। আমি মেয়র হলে এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই একটি খেলার মাঠ রাখার জন্য অনুরোধ করতাম এবং মাননহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধ করে দিতাম।

আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন ঐতিহ্যবাহী দো-তলা স্টেশন। স্টেশনটি মুল শহরের একপাশে অবস্থিত হওয়ায় যেমন শহরের ভিতরে কোলাহল সৃষ্টি হয় না, আবার এর কারনে বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রেনভ্রমণকারী আলমডাঙ্গা পৌরসভার আভিজাত্য বুঝতে পারে না। তাই স্টেশন এলাকায় পৌরসভার আভিজাত্য ফুটিয়ে তোলার জন্য একটি স্তম্ভ তৈরি করতাম এবং তা দৃষ্টিনন্দন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতাম। যাতে যাত্রী সাধারন স্টেশন এলাকা দেখেই বুঝতে পারে আলমডাঙ্গা পৌরসভা একটি অভিজাত পৌরসভা।

পৌর এলাকার শ্রী বৃদ্ধির জন্য লংওয়ের পাশে বৃক্ষরোপন করতাম। থাম্বায় থাম্বায় রোড লাইটের পাশাপাশি হাইরোডে স্পেশাল ইওলো লাইটের ব্যবস্থা করতাম, যাতে পৌর এলাকায় আভিজাত্য প্রকাশ পায়।

এক কথায়- আমি মেয়র হলে পৌরসভাকে একটি রাজকীয় পৌরসভা করে তোলার চেষ্টা করতাম। যেখানকার নাগরিক হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে নিজের কাছে গর্ববোধ হবে।

-আতিকুর রহমান ফরায়েজী