সাম্প্রতিক

বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুষ্টিয়া বিআরবি গ্রুপের বাংলা বর্ষবরণ উদযাপন

মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা। এসো, এসো, এসো, হে বৈশাখ।’ আবার এসেছে পয়লা বৈশাখ। নতুন স্বপ্ন, উদ্যম ও প্রত্যাশার আলোয় রাঙানো নতুন বাংলা বছর ছিল রবিবার। স্বাগত ১৪২৬। বৈশাখের নবপ্রভাতেই বাঙালির তাই প্রার্থনা-যা কিছু ক্লেদাক্ত, গ্লানিময়, যা কিছু জীর্ণ বিশীর্ণ দীর্ণ, যা কিছু পুরনো- তা বৈশাখের রুদ্র দহনে পুড়ে হোক ছাই। গ্রীষ্মের এই তাপস-নিশ্বাস বায়ে পুরনো বছরের সব নিষ্ফল সঞ্চয় উড়ে যাক-দূরে যাক, যাক দূর-দিগন্তে মিলিয়ে। তাইতো বাঙালি মিলিত হয়েছিল তাদের সর্বজনীন অসাম্প্রদায়িক উৎসবে। দেশের প্রতিটি পথে-ঘাটে, মাঠে-মেলায়, অনুষ্ঠানে ছিল কোটি মানুষের প্রাণের চাঞ্চল্য, আর উৎসব মুখরতার বিহবলতা। নতুন বছর মানেই এক নতুন সম্ভাবনা, নতুন আশায় পথ চলা। একদিকে বাঙালিরা তাদের সর্বজনীন অসাম্প্রদায়িক উৎসবের মাধ্যমে নববর্ষকে স্বাগত জানাল, অন্যদিকে সম্পূর্ন ভিন্ন আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ১৪২৬ সালের ১লা বৈশাখ শুভ নববর্ষকে স্বাগত জানালেন বিআরবি গ্র“প। প্রতি বছরের ন্যয় এবারও প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ, কর্মকর্তা-কর্মচারী বিসিক শিল্প নগরীর বক্ষতলে একই ছায়াতলে মিলিত হয়ে মিলাদ মাহফিলের মধ্যে দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। কুষ্টিয়ার বিআরবি কেবল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ পবিত্র মিলাদ মাহ্ফিল ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জাকজমকপূর্ন পরিবেশে বর্ষবরন পালিত হল। বিআরবি গ্র“পের মাননীয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মহান সৃষ্টিকর্তাকে স্মরন করে ১৪২৬ সালের ১লা বৈশাখকে স্বাগত জানান। রবিবার সকালে বিআরবি কেবল ইন্ড্রাষ্ট্রিজ লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ষবরণ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের মধ্যমনি কুষ্টিয়া জেলার কৃতি সন্তান কিংবদন্তী, গরীবের বন্ধু ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব শিল্পপতি আলহাজ্ব মজিবর রহমান প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, আমার এই পরিবারের সদস্য আপনারাই। আমরা সবাই যদি এই প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে মনে না করি তাহলে এ প্রতিষ্ঠানকে কখনই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। চলার পথে আমাদের ক্রটি-বিচ্যুতি ঘটবেই। কিন্তু সেই ক্রটি-বিচ্যুতি ধরে বসে থাকলে চলবে না। অতীতের সব ভুল-ক্রুটি শুধরে নিয়ে নতুন উদ্যোমে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। শ্রমিক-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, আমাদের ধর্মে আছে যে ব্যক্তি নিজে তার ভাগ্য বদলের চেষ্টা করে না আল্লাহ তাকে সাহায্য করে না। আপনারা প্রত্যেকেই সততার সাথে নিজেদের ভাগ্য বদলের চেষ্টা করুন দেখবেন এক দিন সত্যিই আপনাদের ভাগ্য বদল হয়ে গেছে। মজিবর রহমান বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি বাংলাদেশে এমন কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে আপনাদের জন্য আল্লাহুর দরবারে দোয়া করা করা হয়। এক বেলা আপনাদের সবাইকে সাথে নিয়ে দুটো ডাল ভাত খাওয়া হয়। তিনি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করার আহবান জানিয়ে বলেন, দু:খ-কষ্ট মনের মধ্যে পুষে না রেখে আমাদের কাছে খোলা মনে জানতে হবে। দু:খ-কষ্ট সবাই মিলে ভাগ করে নিতে হবে। সবাই এক জায়গায় একত্রিত হওয়ার জন্যই আমরা আজকের এই দিনটি বেছে নিয়েছি। আল্লাহু পাক যে আমাদের সবাইকে একত্রে বসার সুযোগ করে দিয়েছেন এজন্য মহান আল্লাহুর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। এলাকার মানুষের আরও কর্মসংস্থানের জন্য দিনরাত পরিশ্র্রম করে যাচ্ছি, কুষ্টিয়াতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হচ্ছে সেখানে প্রায় তিন হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে, স্কুল করেছি সেখানে যায়গার সংকুলান না হওয়ায় আরও বাড়ানো হচ্ছে। একদিন এটা কলেজ হবে তারপর বিশ্ববিদ্যালয় হবে, এগুলো আপনাদের সন্তানদের জন্যই করা হচ্ছে। আমি আরও কর্মসংসংস্থানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, আপনারা শুধু আমার দোয়া করবেন। তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, কুষ্টিয়া মোহিনী মিল মাটির সাথে মিশে গেছে, টেক্্রটাইল মিলের ও একই অবস্থা, সুতারাং আপনারা আমাদের এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এমন কিছু করবেন না যাতে ঐ সকল সকল প্রতিষ্ঠানের মত অবস্থা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের অনেক পরিধি অনেক বেড়ে গেছে প্রতিষ্ঠানকে ভাল রাখার জন্য আপনাদের সজাগ থাকতে হবে। এছাড়াও শ্রমিক কর্মচারীদের উদ্দ্যেশে বিভিন্ন দিক নির্দেশনামুলক কথাবার্তা বলেন তিনি। এমআরএস ইন্ডাষ্ট্রিজ লি: এর সুযোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শামসুর রহমান নববর্ষের প্রথম দিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন আমরা চাই এভাবেই যেন হাসি-আনন্দের মাঝে নববর্ষ আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য পেশ করেন কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম ও কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মো: আসগর আলী। সকাল ৯ টায় ফ্যক্টারী চত্বরে শুরু হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। চলে দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত। তিনটি পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানের ১ম পর্বে ছিল মিলাদ মাহফিল। মিলাদ মাহফিল পরিচালনা করেন বি আর বি জামে মসজিদের পেশ ইমাম আলহাজ¦ মো: মওলানা সাইফুদ্দিন, এনামুল হক শাফী ও বড় বাজার জামে মসজিদের ইমাম মওলানা রফিকুল ইসলাম। মিলাদ মাহফিলে প্রতিষ্ঠানের উন্নতি কামনার পাশাপাশি দেশ ও দশের মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিআরবি কেবল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেডের সচিব ফরহাদ হোসেন সুমধুর কন্ঠে ইসলামী হামদ গেয়ে শুনিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিআরবি গ্র“পের সিনিয়র পাবলিক রিলেশন অফিসার মো: কামরুজ্জামান। মিলাদ মাহফিল শেষে বিআরবি গ্র“পের অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা পৃথক-পৃথক ভাবে উন্মুক্ত আলোচনা সভায় শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিআরবি গ্র“পের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মো: মজিবর রহমান যাদের চাকুরীর মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং চাকুরীরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ও অবসর গ্রহন কারী কর্মকর্তা কর্মচারী ব্যক্তিদের হাতে তাদের সমুদয় বকেয়া পাওনা তুলে দেন। অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উক্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিআরবি গ্র“পের বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারী বৈশাখের গান উপহার দিয়ে সকলকে মনোমুগ্ধকর কওে তোলেন। অনুষ্ঠান শেষে সবার হাতে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মিষ্টিসহ দুপুরের খাবারের প্যাকেট তুলে দেয়া হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বছরের শুরুতে তাঁরা আল্লাহর কাছে আলহাজ্ব মজিবর রহমান ও তার পরিবার পরিজনদের জন্য দীর্ঘায়ু কামনা ও শুকরিয়া আদায় করেন এবং বিআরবি গ্র“পের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে উত্তরোত্তর সফলতা সমৃদ্ধি কামনা করেন।