সাম্প্রতিক

কুষ্টিয়ায় অর্ধকোটি টাকার সরকারী গাছ কর্তন, গ্রেপ্তার ১

কুষ্টিয়ায় স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসার নামে প্রভাবশালী মহলের নেতৃত্বে সড়ক বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় অর্ধকোটি টাকার ছোট-বড় ৭শ সরকারী গাছ কর্তন করলেও কিছুই জানেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রায় মাসখানেক ধরে এসব গাছ কাটা হলেও সংশ্লিষ্ট কারো চোখে পড়েনি এটা অবিশ্বাস্য। বরং যা কিছু হয়েছে তা যোগসাজসেই হয়েছে; এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অবশেষে মাঠে নেমেছেন দুদক।

সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছেন, যারা এভাবে চুরি করে সরকারী গাছ কেটেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এঘটনায় শনিবার বেলা সাড়ে ৩টায় ঘটনাস্থল কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মশান বাজারের সন্নিকট থেকে গাছ কাটা অবস্থায় ১জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মিরপুর উপজেলাধীন কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের তাঁতিবন্দ গ্রামের হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদের কমিটিসহ স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ প্রায় ১কি:মি: এলাকার এসব গাছ কেটেছেন। প্রায় মাসখানেক ধরে এসব গাছ প্রকাশ্যে কাটলেও কেউ কোন কথা বলেননি।

হঠাৎ দুদকের লোক এসে তদন্ত করেছেন দেখেই তারা বুঝতে পারেন, আইন ভঙ্গ করে এসব সরকারী গাছ কাটা হয়েছে। তাছাড়া মসজিদ মাদ্রাসার নাম করে এসব গাছ কাটা হলেও এখনও কোন টাকা মসজিদ ফান্ডে কেউ জমা দেননি বলে জানান ঐ মসজিদের কয়েকজন মুসল্লি। তাদের অভিযোগ, ধর্ম প্রতিষ্ঠানের নামে গাছ কেটে কেউ যদি আত্মসাত করেন তাহলে সরকারী গাছা কাটার দায়ে তাদের বিচার করা হোক।

অভিযুক্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। দুইএকজনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তারা সাক্ষাতে কথা বলতে চাননি। তবে ঐ মসজিদ ও মাদ্রাসার সভাপতি বিশু ডাক্তারের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, এসব গাছ তো আমাদেরই। এই গাছ কাটতে কারো অনুমতির প্রয়োজন হয়নি।

মিরপুর-ভেড়ামারা অঞ্চলে বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা লিয়াকত আলী জানান, এসব গাছ কাদের বা কারা এসব গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছেন তা কিছুই জানেন না তিনি। সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের কেউ এসব গাছ কাটার অনুমোদন দেয়নি।

কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মৃন্ময় সাহা বলেন, রাতের আঁধারে সড়ক বিভাগের এসব সরকারী গাছ যারা কেটেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে ইতোমধ্যেই দুদক তদন্তে নেমেছেন। দুদকের পরামর্শে পরবর্তী আইগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক কুষ্টিয়ার অভিযানিক দলের দেয়া তথ্যমতে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের খালপাড়ের প্রায় দেড় কি:মি: এলাকাজুড়ে কর্তনকৃত গাছে সংখ্যা প্রায় সহস্রাধিক। যার মধ্যে শতাধিক বিভিন্ন জাতের বড় গাছ রয়েছে যার প্রতি একটির আনুমানিক মূল্য ৩০ হাজার টাকার উর্ধে হবে। গাছগুলির মধ্যে রয়েছে শীল কড়ই, শিশু, মেহগনি, সেগুন, নিমসহ মূল্যবান গাছ। এছাড়া ছোট খাটো গাছও আছে।

বাপাউবো কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী পীযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল পাড়ের ছোট-বড় প্রায় সাড়ে ৩শ’ গাছ কাটার তথ্য উল্লেখসহ আইনগত ব্যবস্থা নিতে মিরপুর থানায় অজ্ঞাতদের আসামী করে প্রথমে সাধারণ ডায়েরী করা হলেও পরে তা মামলা করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম জানান, মসজিদ, মাদ্রাসা বা স্থানীয় নেতৃবৃন্দ কেউই আইনের উর্দ্ধে নয়। ধর্ম প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে সরকারী সম্পদ কুক্ষিগত করার কোন সুযোগ নেই। সরকারী এসব গাছ কাটার সাথে যারাই জড়িত থাক তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সৌপর্দ করা হবে। গতকাল শনিবার বিকেলে গাছ কাটারত অবস্থায় ৪জনকে ইতোমধ্যে আটক করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হলেন মিরপুর উপজেলার মশান গ্রামের পিয়ারুল শাহ (৩৫)। সঙ্গীয় অন্যারা পালিয়ে যায়।