সাম্প্রতিক

বৃষ্টি ও মেঘমালা | অসময়ে সমাপ্তির গল্প

সমালোচনা: তামান্না স্নিগ্ধা
বইয়ের নামঃ
বৃষ্টি ও মেঘমালা
লেখকঃ হুমায়ূন আহমেদ
মূল্যঃ ১৮৫ টাকা
পৃষ্ঠাঃ ১১৫
প্রচ্ছদঃ ধ্রুব এষ .

বইয়ের মূল চরিত্রের নাম হাসান। হাসানের পিএ লীনা। সহজসরল একটা মেয়ে, যে অল্পতেই ঘাবড়ে যায়। হাসানের প্রতি রয়েছে তার সীমাহীন শ্রদ্ধামিশ্রিত দুর্বলতা। লীনার ধারনা তার বসের মতো ভালো মানুষ পৃথিবীতে দ্বিতীয় কেউ নাই। লীনার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে ফিরোজ নামের একটি ছেলের সাথে। . ফিরোজ,লীনার প্রেমিকা,আবার আরেক দিক দিয়ে লীনার বড় ভাইয়ের বন্ধু। বন্ধু মারা যাওয়ার পর বন্ধুর পরিবার সব দায়িত্ব পালন করে সে। দুইবোন আর মা নিয়ে থাকা লীনাদের পরিবারে পুরুষ গার্জিয়ান বলতে এই একজনই। . ইয়াকুব সাহেব একজন হুলস্থুল রকমের ধনী ব্যবসায়ী। যার নাতনী থাকে বিদেশে। সে তার প্রবাসী নাতনীর জন্মদিনে বিশাল বড় কোন সারপ্রাইজ দিতে চায়। এজন্য একটা পার্ক তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। “মায়ানগর” নামের সেই পার্ক তৈরির দায়িত্ব পরে হাসানের ওপর। . হাসানের ছেলে অন্তু। বাবার প্রতি তার ভালোবাসা প্রবল । তার কাছে এই ছোট্ট পৃথিবীর একমাত্র অসাধারণ মানুষ তার বাবা। যে সব কিছু পারে। অন্তুর কাছে তার বাবা একজন আদর্শ পিতা এবং বন্ধু। কিন্তু কাজের জন্য ধীরে ধীরে অন্তুর সাথে তার দূরত্ব বেড়ে যায়। এটা ছোট্ট অন্তু বুঝতে পারে না, তার শুধু বাবার জন্য খারাপ লাগে। . হাসান এবং তার পিএ কে পার্কের কাজ সম্পন্ন করার জন্য জয়দেবপুরে যেয়ে থাকতে হয়। প্রচুর কাজ সেখানে। ইয়াকুব সাহেব হাসানকে নির্দিষ্ট একটা ডেট দিয়ে দেন যার ভিতর কাজ কমপ্লিট করতে হবে। হাসান কাজের চাপে বাড়িতে খোঁজ নেয়ার টাইম পায় না। এদিকে অন্তু হঠাৎ অসুস্হ হয়ে পরে। ডাক্তার বলে তার কিডনী ড্যামেজ হয়ে গেছে। হাসান সাহেবের স্ত্রী অন্তুকে চিকিৎসার জন্য মাদ্রাজে নিয়ে যায়। অন্তু মাদ্রাজে তার বাবার জন্য অপেক্ষা করছে । সে কেঁদে কেঁদে বলছে -বাবা কোথায় ? Where is my dad ? হাসান কি পারে তার ছেলের শেষ সময়ে উপস্থিত থাকতে? . পাঠপ্রতিক্রিয়া : এই বইয়ের সবচেয়ে অন্যরকম দিক হচ্ছে বইটা পড়া শেষ হলে প্রতিটা চরিত্র জন্য এক অদ্ভুত মায়া কাজ করে। এক কথায় এই বইটা হুমায়ুন আহমেদ এর খুবই সিম্পল বাট অসাধারণ এক জীবন কাহিনী নিয়ে লেখা। ব্যস্ততার কারনে আমরা অনেক সময় কাজের ভিতর ডুবে থাকি। কিন্তু যাদের জন্য আমাদের এই কাজ এই পরিশ্রম তারা যে এজন্য ধীরে ধীরে আমাদের থেকে দূরে সরে যায় এটা আমরা বুঝতে পারি না। যখন বুঝতে পারি তখন আর হাতে সময় থাকে না। এখানে হাসান চরিত্রটি সবার স্বপ্ন সাঁজাতে ব্যস্ত দিনরাত। অথচ দিনশেষে তাকেই বঞ্চিত হতে হয় সব দিক থেকে। হাসান ইয়াকুব সাহেবের স্বপ্নের পার্ক তৈরি করতে গিয়ে পরিবারের জন্য সময় সীমিত করে ফেলে। একদিকে নতুন একটা স্বপ্ন তৈরি হয় অন্যদিকে আরেকটা স্বপ্ন ভাঙ্গে। লেখক অত্যন্ত সুনিপুণভাবে মানুষের ভিতরকার মানসিক দ্বন্দ এই বইয়ে তুলে ধরেছেন। আমার রেটিং : ৯.৫/১০