সাম্প্রতিক

বিশ্বজুড়ে নারীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাবে ‘আফটার সেক্স পিল’

জন্মনিয়ন্ত্রণের নানা উপায় রয়েছে। বাজারে ওষুধও আছে নানা ধরনের। জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে সবাই নিজ নিজ পছন্দের উপায় অবলম্বন করে থাকেন। তবে বর্তমানে এমন একটি ওষুধ বেরিয়েছে, যেটি একটু ভিন্ন ধরনের। এর নাম দেওয়া হয়েছে আফটার সেক্স কন্ট্রাসেপটিভ পিল। চিকিৎসকরা বলছেন, নারীদের উচিত এই পিলটিই ব্যবহার করা। এটির বৈশিষ্ট্য হলো, মিলনের এক মাস পরে খেলেও এর দ্বারা গর্ভধারণ রোধ করা যায়।

ওষুধ কোম্পানিগুলোকে বলা হচ্ছে, তারা যাতে এটার এমন এক ভার্সন তৈরি করে, যা শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে ভ্রূণ তৈরির পর তা নষ্ট করে দেয়। কিন্তু কথা উঠেছে এই পিলের বিপক্ষে। সমালোচকরা বলছেন, এটা আসলে এক ধরনের গর্ভপাত বা ভ্রূণহত্যা। কারণ স্বামী-স্ত্রীর মিলনের এক মাস পরে যে ভ্রূণটি সৃষ্টি হয়, সেটি আসলে মানবদেহের ক্ষুদ্র সংস্করণ। পূর্ণাঙ্গ মানবদেহে রূপান্তরের প্রাথমিক লক্ষণগুলো ততদিনে ওই ভ্রূণের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়।

নিউইয়র্ক ও সুইডেনের বিজ্ঞজনরা বলছেন, আফটারসেক্স পিলটি নারীদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়তা পাবে, কারণ প্রতিদিন পিল খাওয়ার নিয়মানুবর্তিতার বেড়াজাল কিংবা অন্যান্য মোটাদাগের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির চেয়ে এটা অনেক বেশি আরামদায়ক। মাসে একবার খেলেই যখন কাজ হবে, তখন কে আর প্রতিদিন পিল খাওয়ার বিরক্তির মধ্য দিয়ে যেতে চাইবে?
এক জরিপে দেখা গেছে, ব্রিটেনের সাড়ে তিন কোটি নারী বর্তমানে এমন একটি পিল গ্রহণ করে, যার মধ্যে রয়েছে ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়া বন্ধ করার মতো একটি হরমোন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই পিলগুলোর নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওজন বাড়া. মাথা ব্যথা, স্তন ক্যান্সার, বমি বমি ভাব, রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার মতো নানা উপসর্গ। নিউইয়র্কভিত্তিক টেকনোলজি ফার্ম গাইনুটির পরিচালক ড. এলিজাবেথ রেমন্ড ও তার সহকর্মীরা অবশ্য আশা করছেন, আফটার সেক্স পিলটি বিশ্বজুড়ে নারীদের কাছে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। এমনকি এটাকে অ্যাবরশন বা গর্ভপাত বলে মনে করা হলেও। ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যান্ড রিপ্রডাক্টিভ হেলথ কেয়ারের সাময়িকীতে তারা বলেন, ‘এটা নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। তবে আমাদের কথা হলো, ২০ বছর আগেও মেয়েরা পিল খেতে চাইত। এখনও তারা তা চাইবে। তবে কম বিরক্তিকর প্রক্রিয়া হলে সেটা অবশ্যই জনপ্রিয়তা পাবে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না