সাম্প্রতিক

আদালতকে উপেক্ষা করে গ্রাম্য আদালতের রায় কার্যকর।। নাটোরের  একটি পরিবার ৭ দিন ধরে অবরুদ্ধ

আদালতকে উপেক্ষা করে গ্রাম্য আদালতের রায় কার্যকর।। নাটোরের  একটি পরিবার ৭ দিন ধরে অবরুদ্ধ

আদালতকে উপেক্ষা করে গ্রাম্য আদালতের রায় কার্যকর।। নাটোরের  একটি পরিবার ৭
দিন ধরে অবরুদ্ধ

আদালতকে উপেক্ষা করে একটি পরিবারকে ৭ দিন ধরে অবরুদ্ধ করে রাকার অবিযোগ।
এলাকাবাসি ও ভুক্তভোগির পরিবার সুত্রে জানা যায়, উপজেলার পূর্ব মাধনগর গ্রামের নুরুল ইসলাম সরদার ১৯৮৯ সালে ১৩ নভেম্বর আর এস ১৮৭৬ খতিয়ান আর এস ১২৭৮ দাগে মালিক সাহেদা বিবি,আলেকজান নেছা, মলেজান নেছা,আদল প্রাং, গোলজান বেওয়া এজমালীতে স্বত্ববান থাকা আবস্থায় আলেকজান নেছার কাছ থেকে ৫ শতাংশ , সাহেদা বিবির কাছ থেকে ২ শতাংশ ও গোলজান বেওয়ার ওয়ারিশ সদা মৃধার কাছ থেকে দেড় শতাংশ জমিসহ মোট সাড়ে ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে সেই জমিতে বাড়ি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু ওই জমির পূর্বের মালিক মৃত
আদল প্রামানিকের ছেলে আজাহার আলী জমিটি তার দাবী করে জমিটি জবর দখল করার হুমকি ধামকি দেয়। ক্রয় সূত্রে মালিক নুরুল ইসলাম গত ২০১৪ সালে নাটোর সহকারী জজ আদালতে আদল প্রামানিক কে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন। বাটোয়ারা মামলাটি বর্তমান আদালতে বিচারাধীন এবং আগামী ২৭ এপ্রিল মামলার শুনানীর দিন ধার্য রয়েছে। বাটোয়ারা মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আদালতের মামলা আমলে না
নিয়ে ওই বিষয় নিয়ে গত বছরের ২০ অক্টোবর আজাহার আলী ২ নম্বর মাধনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দেওয়ানের কাছে বিচার চেয়ে লিখিত আবেদন করেন। এ বিষয়ে বাটোয়ারা মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে জেনেও মাধনগর ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দেওয়ান তার পরিষদে গ্রাম্য আদালত বসিয়ে নুরুল ইসলামের পরিবারের অনুপস্থিতে আজাহার আলীর পক্ষে এক তরফা রায় প্রদান করেন। রায় পেয়ে গত ৪ মার্চ শনিবার নরুল ইসলামের পরিবারের অনুপস্থিতিতে চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দেওয়ান পরিষদের চৌকিদার নিয়ে আজাহার আলী নুরুল ইসলামের বাড়ির বারান্দা ঘেষে টিনের বেড়া দিয়ে জমিটি দখলে নেয়। এতে নুরুল ইসলাম পরিবারের বাড়ির আঙ্গিনা ও রান্না ঘর দখলে নেওয়ায় একরকম অবরুদ্ধ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এলাকাবাসী সাজ্জাদ হোসেন জানান,নুরুল ইসলামের পরিবার গত শনিবার এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গেলে এ সুযোগে চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দেওয়ান ও তার লোকজন উপস্থিত থেকে নুরুল ইসলামের বাড়ির আঙ্গিনা ও বারান্দা ঘেষে বাঁশ ও টিন দিয়ে শক্ত বেড়া দিয়ে দখলে নিলেও নুরুল ইসলাম প্রতিবাদ করার সুযোগ পায়নি। জোড় করে জমি দখলের কথা অস্বীকার করে প্রতিপক্ষ আজাহার আলী জানান, তিনি কোন জমি দখল করেননি। তার জমিই তিনি বুঝে নিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে। এ ব্যাপারে অভিযোগকারী নুরুল ইসলামের আইনজীবী নাটোর জজ কোর্টের আইনজীবী মৃনাল কান্তি বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নুরুল ইসলামের জমির বাটোয়ারা মামলা আদালতে বিচারাধীন। সেকারনে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য আদালতের রায় নিয়ে তা কার্যকর করা আদালত অবমাননার সামিল। মাধনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দেওয়ান নুরুল ইসলামের পরিবারকে অবরুদ্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, নুরুল ইসলাম বার
বার আদালতে হেরে গিয়ে আপীল করে প্রতিপক্ষকে হয়রানী করে। এব্যাপারে আজাহার আলী গ্রাম্য আদালতে অভিযোগ দেয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রাম্য আদালতের মাধ্যমে তাদের সীমানা নির্ধারন করে দেওয়া হয়েছে। নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) নেয়ামুল আলমের সাথে মোবাইল
ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্বেও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়রম্যান কিভাবে গ্রাম্য আদালতে রায় দিলেন সে ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই। এমন ভাবে রায় দেওয়াটা আদালতকে অবমাননা করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এই ঘটনার পর নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় এজাহার দিয়েছেন। এজাহারটি তদন্ত শুরু করা হচ্ছে।

মোঃ রাজু আহম্মেদ (নাটোর)

x

Check Also

মা পেলেন জিপিএ ৪, মেয়ে জিপিএ ৫

লেখাপড়া করার এক অদম্য ইচ্ছে কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছে মাসুমা খাতুনকে। কিন্তু সেই ইচ্ছে বুকের মধ্যে ...