সাম্প্রতিক

কিডনি দেবে মা, নেই প্রতিস্থাপনের টাকা

দীর্ঘ ১০ মাস ১০ দিন সন্তানকে গর্ভে ধারণ করে একজন ‘মা’। পরে সেই মা যদি জানতে পারে তার প্রিয় সন্তানের দুটি কিডনি নষ্ট হয়েছে। তখন ওই মায়ের আর কষ্টের সীমা থাকে না। কোন মা চাইবে না তার সন্তানকে অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ুক।

সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে। এক মা তার সন্তানকে একটি কিডনি দিতে চাইলেও গরিব হওয়ায় আজ অর্থের অভাবে কিডনি স্থানান্তর করতে পারছে না ওই পরিবারের সদস্যরা।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের আমড়া পাড়া গ্রামের সাহদার রহমানের ছেলে জুলফিকার রহমান। জুলফিকার উপজেলার মুরারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জীবন শুরুর আগেই মরণব্যাধি কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে তার দুইটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে।

এদিকে, গরিব অসহায় পরিবার শেষ সম্বল টুকু বিক্রি করে হলেও আদরের সন্তানকে বাঁচাতে চান। সর্বশেষ মায়ের মমতা বসে থাকেনি, শেষ চেষ্টা হিসেবে ছেলেকে বাঁচাতে তার নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত ওই মমতাময়ী মা।

কিন্তু অর্থের অভাবে কিডনি প্রতিস্থাপনের দরকার ৭ লাখ টাকা। গরিব বাবা-মায়ের এই পরিমাণ টাকায় ছেলেকে বাঁচাতে পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসহায় পরিবারেব পাশে যদি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা এসে দাঁড়ায় তাহলে হয়তো আবারও জুলফিকার এই সমাজে মানুষের সাথে বেঁচে থাকতে পারবে।

এ বিষয়ে জুলফিকারের বাবা জানান, বসতবাড়ির ভিটা-মাটি বিক্রি করে ছেলে চিকিৎসা করাচ্ছেন। চিকিৎসকেরা বলেছেন, জুলফিকারের একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হবে। সর্বশেষ তার মা তাকে একটি কিডনি দিতে চেয়েছে।

কিন্তু সেই কিডনি প্রতিস্থাপন করতে এখন অনেক টাকার প্রয়োজন। সেই টাকা কিভাবে যোগাড় হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। টাকা যোগাড় না করতে পারলে চিরদিনের জন্য হারাতে হবে আমার সন্তান জুলফিকারকে।