সাম্প্রতিক

গনভোটে বিএনপিকে ভয় পেয়ে যত্রতত্র হামলা মামলা করছে আওয়ামী লীগ

বরিশাল ৪ আসনের ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী নুরুর রহমান জাহাঙ্গীরকে আহত করায় সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপি বলেছেন গনভোটে বিএনপিকে ভয় পেয়ে যত্রতত্র হামলা মামলা করছে আওয়ামী লীগ।

২০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় বরিশাল রিপোর্টারস ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এ কথা বলেন।সংবাদ সম্মেলনে নুরুর রহমানের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উত্তর জেলা বিএনপির সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম লাবু।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ১৯ ডিসেম্বর বুধবার দুপুর ১ টায় বরিশাল ৪ আসনের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার পাতারহাট বন্দরে গনসংযোগ করার জন্য যায় ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী নুরুর রহমান। তিনি স্থানীয় বিএনপির সাবেক সভাপতি আফসার হোসেন আলমের বাড়িতে গিয়ে আলোচনা করে বন্দর এলাকায় গনসংযোগে নামেন। এসময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে তাকে গণসংযোগ করতে নিষেধ করেন।

তিনি রাজনৈতিক অধিকারের দাবি তুলে প্রতিবাদ করলে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক সোহেল মোল্লা, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মনির জোমাদ্দার, ছাত্রলীগ নেতা শাকিল সহ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে তার মোবাইল ও ঘড়ি এবং নগদ ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।বিএনপি নেতাকর্মীরা ছাড়াতে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালায়।

এতে প্রার্থী নুরুর রহমান সহ ১০ থেকে ১৫ জন আহত হয়।আফসার হোসেনের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে মালামাল লুটপাট করে নেয়। খবর দেয়া হলে মেহেন্দীগঞ্জ থানা পুলিশ দুই ঘন্টা পর এসে প্রার্থী নুরুর রহমানকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এব্যাপারে মামলা করতে চাইলেও থানা পুলিশ মামলা নেয়নি।

আহত নুরুর রহমানকে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ডাক্তাররা তার বাম পায়ে ব্যান্ডেজ করে দেন ।তিনি বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নুরুর রহমানের ওপর হামলা চালানোই প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ ঘৃণিত ও অগনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে ইতিহাসের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাচ্ছে। সারা দেশের সাথে তাল মিলিয়ে হিজলা মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায়ও জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নেতাকর্মীদের হামলা মামলা করে প্রচার প্রচারণা করতে দিচ্ছেনা। তারা একচেটিয়া ভাবে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে।

বক্তব্যে নির্বাচন কমিশন মাহবুব তালুকদারের বক্তব্যর সমর্থন জানিয়ে তারা বলেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তো দূরের কথা ধানের শীষ প্রতীকের নেতাকর্মী, সমর্থকদের হুমকি ও অত্যাচার করে বাড়ি ছাড়া করেছে। কিছুদিন আগে আসন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও তার অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা হিজলা উপজেলার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক দেওয়ান মোঃ মনির হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সভাপতি অধ্যাপক ফখরুল আলম সবুজের বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে।

এছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ইউসুফ ফকির, বড়জালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ইয়ামিন রাড়ী,হিজলা সরকারী ডিগ্রী কলেজের ছাত্রদল নেতা গাজী সাইদুল ইসলাম, বড়জালিয়া ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির দেওয়ান, যুবদল নেতা রিপন মোল্লা, ইউনিয়ন তাতী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন কাজী, যুবদল নেতা জামাল হোসেন, তাতীদল ওয়ার্ড সভাপতি দুলাল হোসেন সহ অনেক নেতাকর্মীকে মারধর দিয়ে আহত বানায়।

তারা মেমানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় ভাংচুর করে এবং হিজলা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্জ্ব আব্দুল গাফফার তালুকদারের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি করে।নির্বাচনী এলাকা মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কার্যালয় দখল করে পঙ্কজ দেবনাথের ব্যানার টানিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে রুপান্তরিত করে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে।

আওয়ামী নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়ে আরও আহত হন উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও চর এককরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক জাহাঙ্গীর শিকদার, চাদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আমীর দেওয়ান, বিএনপি নেতা শাহাবুদ্দীন আকন,ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সাদ্দাম হোসেন, যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী ও বিএনপি নেতা আনোয়ার বেপারী।নুরুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন বরিশাল বিভাগের বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, যুগ্ম সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন দীপেন, হিজলা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট দেওয়ান মনির হোসেন ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর চৌধুরী প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না