সাম্প্রতিক

মালয়েশিয়ায় যেতে ঢাকায় এসেছিল ২৬ রোহিঙ্গা

রাজধানীর খিলক্ষেতের একটি বাসা থেকে আটক রোহিঙ্গারা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন দালাল ধরে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার শরণার্থী শিবিরে থেকে পালিয়ে তারা ঢাকায় আসেন। গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন  এই তথ্য। তিনি জানান, তাদের কাছে ‘কাগজপত্র’ ছিল। তবে কী ধরনের কাগজপত্র পাওয়া গেছে তাও তিনি খুলে বলেননি।

তবে পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, আটক রোহিঙ্গাদের কাছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ছিল।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশ এই ২৬ জন রোহিঙ্গাকে খিলক্ষেতের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। এদের ২২ জনই নারী।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে শরণার্থী শিবিরের বাইরে আসার অপরাধে মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

বাতেন বলেন, আটক রোহিঙ্গাদের সাথে মানব-পাচারকারীদের যোগাযোগের বিষয়টি তারা এখন খুঁটিয়ে দেখছেন।

রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার মো. আব্দুল কালাম বিবিসিকে বলেছেন, শিবির থেকে কয়েকজন নারী পুরুষ পালিয়ে যাওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। তিনি বলেন, নজরদারির সম্ভাব্য সবরকম ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু তারপরও সবসময় সবাইকে চোখে চোখে রাখা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, ‘১০ লাখেরও বেশি লোক থাকে এখানে, এরা দেখতেও স্থানীয় লোকজনের মতোই। সবসময় চোখে চোখে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।’

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের নিরাপত্তা এবং নজরদারির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১১টি ক্যাম্প রয়েছে। তারপরও মাঝেমধ্যেই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকেই আটকের খবর পাওয়া যায়।

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে কর্মরত একটি এনজিও’র কর্মকর্তা শিউলি শর্মা বিবিসিকে বলেন, অনেক রোহিঙ্গা যে নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়িয়ে শিবির থেকে বাইরে যাচ্ছে, এটা একরকম ‘ওপেন সিক্রেট’।

‘প্রথম কথা শিবিরের কোনো বাউন্ডারি নাই। বাইরে যাওয়ার অনেক পথ। রাস্তা দিয়ে, পাহাড় দিয়ে বাইরে চলে যাওয়া যায়।’

তাছাড়া, শিউলি শর্মা বলছেন, চেহারা এবং ভাষার কারণে চট করে তাদের আলাদা করা সত্যিই মুশকিল।

‘অনেক রোহিঙ্গা এখন বাঙালিদের মতো পোশাক পরছে, তাদের মতো করে কথা বলতে শিখছে… লুঙ্গির বদলে জিনসের প্যান্ট পরছে।’

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার শোনাতে তিনি বলেন, ‘কদিন আগে টেম্পোতে আমারই পাশে বসে কক্সবাজার আসছিল এক রোহিঙ্গা তরুণ। পরনে জিনস, শার্ট। আমি নিজেও ঘুণাক্ষরে বুঝতে পারিনি। পরে পুলিশ থামিয়ে অনেক জিজ্ঞাসাবাদের পর সে স্বীকার করে।’

কেন এরা শিবিরের বাইরে যায়? ওই কর্মকর্তা বলছেন, শিবিরে তারা অনেক খাবার পায়, ওষুধ পায়, কিন্তু তাদের কাছে নগদ টাকার অভাব আছে। এজন্য কাজের জন্যই বাইরে যেতে চায় তারা। -বিবিসি বাংলা