সাম্প্রতিক

‘আমি বাঁচতে চাইছিলাম’ আত্মহত্যার আগে চিরকুটে ইডেনছাত্রী

‘আমি বাঁচতে চাইছিলাম। কিন্তু মাহিবি আর ওর মা আমাকে বাঁচতে দেয় নাই। আমি বারবার মাহিবির কাছে কুত্তার মতো যাই আর ও দিনের পর দিন আমারে পায়ে ঠেলে। ওর মা বোন আমারে যা তা বলে।’

আত্মহত্যার আগে ইডেন কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ঝালকাঠির মেয়ে সায়মা কালাম মেঘার লেখে যাওয়া চিরকুটের প্রথম ছয় লাইন এগুলো।

গত রোববার সন্ধ্যায় রাজধানী কাঁঠালবাগান এলাকার একটি বাসা থেকে মেঘার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার প্রথম থেকেই মেঘার প্রেমিক ঝালকাঠির ছেলে বরিশাল হাতেম আলী কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মাহিবি হাসান ও তার মাকে মেঘার মৃত্যুর জন্য দায়ী করে আসছিল মেঘার পরিবার।

গত শুক্রবার এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেন মেঘার বাবা আবুল কালাম আজাদ। শনিবার মেঘার ব্যাগপত্র/লাগেজ ঘাটতে গিয়ে উদ্ধার করা হয় মেঘার নিজ হাতে লেখা দুই পাতার ২২ লাইনের একটি সুইসাইড নোট।

মেঘার বাবা এর ফটোকপি সাংবাদিকদের সরবরাহ করেন। সুসাইড নোটে মেঘা লেখেন, ‘আব্বু-আম্মু আমারে মাফ কইরা দিও। আমার লাশের আশপাশেও যেন মাহিবি আসতে না পারে।’

‘আল্লাহ মানুষকে মেয়ে দেয়। কিন্তু সবাইকে মেয়ে দেয়া উচিত নয়। আল্লাহ যাদের অনেক টাকা-পয়সা দেয়, শুধু যেন তাদেরই মেয়ে দেয়। তাহলে আমার মতো গরিবের মাইয়া নিয়া ওরা খেলতে পারবে না। ‘

মায়ের উদ্দেশে মেঘা লেখেন, ‘আম্মু আমি জানি আমি ছাড়া তোমার আর কেউ নেই। কিন্তু আমি নিরুপায়। তুমি মুক্তা চাচির কাছে জিজ্ঞেস কইরা দেইখো আমার পিঠ দেয়ালে ঠেইকা গেছে। তাই আজকে আমি মইরা গেলাম। আমার ভাইটারে মানুষ বানাইয়ো। যেন আমার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে পারে। আর আব্বুরে সামলাইও। আব্বুকে বুঝাইও, আমি নিরুপায় হইয়া মরছি। – মেঘা।’

মেঘার বাবা সুইসাইড নোট সরবরাহ করে সাংবাদিকদের বলেন, এটি এখন আমি ঢাকা কলাবাগান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করব। তিনি আরও বলেন, মেঘা এবং মাহিবির প্রেমের বিষয়টি উভয় পরিবার জানতাম। বিয়ের কথাবার্তা চললেও বাধা হয়ে দাঁড়ান মাহিবির মা সেলিনা বেগম। তিনি কোনোমতেই মাহিবি-মেঘার সম্পর্ক মেনে নেননি। মায়ের বাধায় মেঘাকে বিয়ে করতে টালবাহানা শুরু করে মাহিবি। একাধিকবার বিয়ের দিন ঠিক করে আবার পরিবর্তন করে নতুন কৌশল অবলম্বন করেন মাহিবি ও তার পরিবার। বিষয়টি নিয়ে মাহিবির সঙ্গে একাধিকবার বাগ্বিতণ্ডা হয় মেঘার। ২১ এপ্রিল বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে মাহিবিকে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে মেঘা।

ভিডিওতে মেঘার করুণ মৃত্যু দেখেও মন গলেনি মাহিবির। মৃত্যর পর মেঘার সহপাঠী আফরিন জাহান আনিকা ও মেঘার মা রুবিনা আজাদকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান মাহিবি নিজেই। পুলিশ লাশ উদ্ধার করার পর মোবাইল ফোন বন্ধ করে গাঢাকা দেয় মাহিবি ও তার পরিবার।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝালকাঠি শহরের পূর্ব চাঁদকাঠির বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন ডেকে মেয়ের আত্মহত্যার বর্ণনা দেন মেঘার বাবা-মা। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার চাচা আবুল বাশার।

২২ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার দুপুরে ঝালকাঠি শহরের মুসলিম পৌর কবরস্থানে মেঘার দাফন সম্পন্ন হয়।

এদিকে মেঘার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেঘা ও মাহিবির বেশকিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চলছে মাহিবি ও তার মায়ের বিচার দাবি করে নানা ধরনের বক্তব্য।

x

Check Also

আবারও শাহবাগ মোড়ে ঢাবি শিক্ষার্থীরা দাবি: সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল

রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজের অধিভুক্তি চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে বাতিলের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগ মোড় ...