সাম্প্রতিক

দাওয়াত খাওয়া নিয়ে আ’লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলায় দাওয়াত খাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে দুই পক্ষের বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। পরে দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামে একজন বৃহস্পতিবার মারা গেছেন।

বুধবার দিবাগত মধ্য রাতে বোয়ালমারীর চতুল ইউনিয়নের পোয়াইল গ্রামে এই হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চতুল ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক জামাল মাতুব্বর এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য নাজিমউদ্দিনের মাঝে এলাকায় আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। গত ১৮ মার্চ উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে এই বিবাদ আরো বেড়ে যায়। এদের মধ্যে নাজিম উদ্দিন ও তার সমর্থকরা নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করে আর জামাল মাতুব্বর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনরস প্রতীকের লিটন মৃধার পক্ষে কাজ করে। এই এলাকার ভোট কেন্দ্রে নৌকা প্রতীক কম ভোট পাওয়ায় উত্তেজনা চলছিল তখন থেকেই।

এলাকাবাসী জানায়, গতকাল এলাকায় একটি দাওয়াত অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে এক পক্ষকে দাওয়াত দেয়া হয়েছিল। সেই দাওয়াত খাওয়া নিয়ে রাতে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে গভীর রাতে নাজিমউদ্দিন গ্রুপ একত্রিত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জামাল মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালায়। জামাল মাতুব্বরের লোকজনও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিহত করতে গেলে সংঘর্ষ বেধে যায় দুই পক্ষের।

সংঘর্ষে আহতদের হাসপাতালে নিতে বাধা দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে জামাল মাতুব্বর গ্রুপের লোকজন। তারা জানায়, অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস আনা হলেও রোগী নিয়ে এলাকা থেকে বের হতে দেয়া হয়নি। এ অবস্থায় প্রায় ২ ঘণ্টা পর পুলিশের সহায়তায় রোগীদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ সেলিমুজ্জামান লিটু জানান, এদের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ ছিল। উপজেলা নির্বাচনে একজন নৌকার পক্ষে অপরজন আনারসের পক্ষে কাজ করে। উপজেলায় নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হলেও এই সেন্টারে নৌকা হেরে যায়। এর পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। কাল দাওয়াত খাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হলে রাতে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনর্চাজ শামিম আহমেদ জানান, স্থানীয় চতুল ইউনিয়নের পোয়াইল গ্রামে জামাল মাতুব্বরের সমর্থকদের সঙ্গে নাজিমউদ্দিনের সমর্থকদের একটি দাওয়াত খাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে এরই জের ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, এ সময় জামাল মাতুব্বরের সমর্থক দেয়োয়ার হোসেন গুরুতর আহত অবস্থায় ভোরে মারা যায়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বোয়ালমারী হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহতদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ থানায় দেয়া হয়নি, তবে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।