সাম্প্রতিক

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ব্যবসায়ী হত্যার ভয়ঙ্কর জবানবন্দি দিলেন ফয়সাল

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ঝুট ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান সেলিম চৌধুরীকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ফয়সাল (২৮) হত্যার দায় স্বীকার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সেলিম চৌধুরীর পাওনা দুই লাখ টাকা আত্মসাতের জন্যই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বস্তায় ভরে লাশ গুমের উদ্দেশে মাটিতে পুঁতে রাখে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাউছার আলমের আদালতে হত্যাকাণ্ডের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন ফয়সাল।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জবানবন্দি গ্রহণ শেষে ফয়সালকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ মামলায় মোহাম্মদ আলী ও সোলায়মান নামে আরও দুইজনকে সাতদিন করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মামুন আল আবেদ জানান, গ্রেফতার ফয়সাল ঝুট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর কর্মচারী। মোহাম্মদ আলীর কাছে ব্যবসায়িক দুই লাখ টাকা পাওনাদার ছিলেন সেলিম চৌধুরী। এ টাকা আত্মসাতের জন্যই সেলিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আলী। পরিকল্পনা মতে ৩১ মার্চ বিকেলে সেলিম তাদের ভোলাইলের ঝুটের গোডাউনে গেলে মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে ফয়সাল। এতে মাটিতে পড়ে গেলে আরও কয়েকটি আঘাত করে। এরপর ফয়সাল ও মোহাম্মদ আলীসহ চারজন মিলে সেলিমের হাত পা বেঁধে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে রাখে।

তিনি আরও বলেন, পরে তারা ব্যবসার কাজের জন্য গোডাউনের বাইরে চলে যায়। কাজ শেষে রাতে গোডাউনে এসে সেলিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে গোডাউনের ভেতরে মাটি খুঁড়ে। সেখানে সেলিমের লাশ মাটিতে পুঁতে রাখে এবং লাশের পাশে চুন ছিটিয়ে দেয়। যাতে লাশের দেহ মাটিতে মিশে যায়। তবে ওইদিন আলীর ব্যবসায়িক পার্টনার পারভেজকে টুকরো টুকরো করে হত্যার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু পারভেজকে হত্যা না করে সেলিম চৌধুরীকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখে।

তিনি বলেন, সেলিমকে যেখানে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে সেখানে চৌকি রেখে নয়দিন ফয়সাল ঘুমিয়েছে। দশদিনের দিন ১০ এপ্রিল মোবাইল ট্র্যাকিং করে সেলিমের নিখোঁজের সময়কার অবস্থান নিশ্চিত করে এবং ভোলাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মোহাম্মদ আলীর ঝুটের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে কর্মচারী ফয়সালকে আটক করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা মোহাম্মদ আলী ও সোলয়মানকে আটক করা হয়। তাদের দেয়া স্বীকারোক্তিতে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সেলিমের স্ত্রী রেহেনা আক্তার রেখা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।

নিহত কামরুজ্জামান সেলিম ওরফে সেলিম চৌধুরীর বাড়ি ফতুল্লার বক্তাবলী কানাইনগর এলাকার মৃত সামছুল হুদা চৌধুরীর ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে একই থানাধীন শিবু মার্কেট এলাকায় বসবাস করতেন।