সাম্প্রতিক

বিনামূল্যে ক্যান্সারের ঔষধ দিচ্ছে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল!

এক সময়ের মরণব্যাধি খ্যাত অসুখ ক্যান্সার এখন অনেকটাই নিরাময় যোগ্য ব্যাধি। তবে তুমুল ব্যয়বহুল এই রোগের চিকিৎসায় হিমশিম খেতে হয় প্রায় সব শ্রেণীর মানুষকেই। নিন্মবিত্ত মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত, কখনো কখনো উচ্চবিত্ত মানুষের জন্য এই রোগের চিকিৎসা একরকম গলার কাঁটা হয়ে দাড়ায়। মূলত, এই রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত ঔষধগুলোর দাম নাগালের বাইরে হওয়ায় ‘ক্যান্সার’ আজো একটি ভীতির নাম।

photo-1440396494

তবে এই ক্যান্সার মোকাবেলায় সরকারি হাসপাতালগুলো সবসময় পাশে দাড়ায় সাধারণ মানুষের। মানবিকতার সেই পথে আছে ঢাকার শহীদ স্মরণীতে অবস্থিত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালও। এখানে ক্যান্সার চিকিৎসায় রোগিদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের ঔষধ সরকারি সহায়তায় বিনামূল্যে সরবারহ করা হয়।

রেডিসন হোটেলের ঠিক উল্টোপাশের মনোরম পরিবেশে গোছানো অত্যাধুনিক অবকাঠামোর এই হাসপাতালটি ২০১২ সালের ১৩ মে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জন্মলগ্ন থেকেই দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য  স্বল্প খরচে ধনী ও দরিদ্র সকলকে এখান থেকে সেবা প্রদান করে আসছে হাসপাতালটি।

২০১৫ সালে হাসপাতালটিতে যুক্ত হয় ক্যান্সার বিভাগ। মাত্র একজন সহকারি অধ্যাপক, দু’জন মেডিকেল অফিসার  আর ১০ জন প্রশিক্ষিত নার্সের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে বিভাগটি সুনামের সাথে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। ক্যান্সার নির্ণয়ে রক্ত পরীক্ষা, বায়াপসি টেস্ট, সিটি স্ক্যান থেকে শুরু করে সব ধরণের ডায়াগনোসিস তো বটেই এখানে আছে ডে-কেয়ার কেমোথেরাপি ইউনিট। ৩০ শয্যা বিশিষ্ট এই ইউনিটের বিশেষ দিক হলো এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগিরা শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ থেকে অর্থনৈতিক অবস্থাভেদে শতভাগ রোগীই প্রয়োজনীয় ঔষধ পান একদম বিনামূল্যে।

50771887_1216167905224369_68380668240855040_n

গেল তিন বছরে এই বিভাগে অন্তত ১২০০ রোগি চিকিৎসা পেয়েছেন বলে জানান অনকোলজি ইউনিটের প্রধান সহকারি অধ্যাপক ড. মোস্তফা আজিজ সুমন। ক্যান্সারবিডিকে তিনি আরো বলেন,

‘আমরা দায়িত্বের সাথে এই ক্ষুদ্র জনবল নিয়েই রোগিদের সেবা দিয়ে আসছি , অচিরেই আমরা রেডিয়েশনের মাধ্যমেও ক্যান্সার চালু করতে পারবো বলে আশা রাখি। আর সেজন্য এরই মাঝে আমাদের অবকাঠামোগত সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রেডিয়েশন মেশিন পাওয়া মাত্রই আমরা তা শুরু করতে পারবো।’

এসময় তিনি ইউনিটটি আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জনবল আর রেডিয়েশন মেশিন বরাদ্দ করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন,

‘লোকবল বাড়লে আমরা আরো বেশি মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে পারবো।’

ক্যান্সার বিভাগে চিকিৎসারত রোগি ও তার স্বজনরা ক্যান্সারবিডিকে চিকিৎসার মান সম্পর্কে ইতিবাচক কথাই জানিয়েছে ক্যান্সারবিডিকে। সেইসাথে ক্যান্সার চিকিৎসায় তাদের সংগ্রামকে সহজ করতে সব সরকারি হাসপাতাল তো বটেই বেসরকারি হাসপাতালগুলোও যেন বিনামূলে ঔষধের ব্যবস্থা রাখে তার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান ক্যান্সার আক্রান্ত ও তার স্বজনরা।