সাম্প্রতিক
ভৈরবে সংঘর্ষে ২৫ জন আহত
ভৈরবে সংঘর্ষে ২৫ জন আহত

ভৈরবে সংঘর্ষে ২৫ জন আহত

 

ভৈরবে সংঘর্ষে ২৫ জন আহত

ভৈরবে সংঘর্ষে ২৫ জন আহত

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের সাদেকপুর ইউনিয়নের মেন্দিপুর গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রায় ২৫ জন আহত হয়।বৃহস্পতিবার দুপুরে সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষ কমপক্ষে ১০টি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং শতাধিক খড়ের পারায় আগুন দিয়েছে।তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্যাট মো. জাকির হোসেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুরুতর আহতদের মধ্যে সাতজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এছাড়াও সাতজনকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।আহতদের মধ্য যাদেরকে ঢাকায় পাঠানো হয়, তারা হলেন- আক্কাছ আলী, ইয়াকুব, শহীদ মিয়া, শাহানা বেগম, এলাছ মিয়া, জাহের মিয়া ও মানিক মিয়া।ভৈরব হাসপাতালে যাদেরকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়, তারা হলেন- গুলজান বেগম, মাছুম, সাফিউদ্দিন, নাসিম, আনোয়ার হোসেন, জিলান উদ্দিন ও রমজান। বাকি আহতরা স্থানীয় ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা নেয়ার খবর পাওয়া গেছে।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. আমজাদ হোসেন জানান, আহতদের মধ্যে গুরুতর সাতজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও আহতদের মধ্য ইয়াকুবের অবস্থা আশঙ্কাজনক।স্থানীয়রা বলছে, গত ১৫ জুলাই ভৈরবের সাদেকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের সিএনজি চালক সিদ্দিক মিয়া ভাড়া নিয়ে ঝগড়ায় মেন্দিপুর এলাকায় নিহত হয়। এই ঘটনায় তার ভাই রইছউদ্দিন এলাকার চেয়ারম্যান সাফায়েত উল্লাকে প্রধান আসামি করে ৫৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করে। মামলার ৩০ জন আসামি গত সোমবার কিশোরগঞ্জ আদালত থেকে জামিন পেয়ে তারা আজ দুপুরে তাদের বাড়িতে এসেছিল। এর আগে হত্যার পর আসামিরা ২৪ দিন যাবত পলাতক ছিল। তারা জামিন পেয়ে দুপুরে সবাই একযোগে বাড়িতে আসলেই প্রতিপক্ষ বাদীর লোকজন তাদের বাধা দেয়। এসময় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে এই ঘটনা ঘটে।ভৈরব উপজেলার ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি।ভৈরব ফায়ার সার্ভিসের অফিসার ইনচার্জ আক্কাছ আলী জানান, মেন্দিপুর গ্রামে আগুনের ঘটনা ভয়াবহ। ১০ ঘর ও শতাধিক খড়ের পারা নেভাতে কর্মীরা কাজ করছে।ভৈরব থানার ওসি মো. মোখলেছুর রহমান জানান, সাদেকপুর ইউপির চারটি গ্রামই ঝগড়াতে গ্রাম হিসেবে পরিচিত। এসব গ্রামে দুটি শক্তিশালী গ্রুপ যুগ যুগ ধরে ঝগড়া সংঘর্ষ করছে। গত দুই বছরে এই এলাকায় চারটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব গ্রামবাসীরা এলাকার কাউকে মানে না এবং ভয় করে না। পুলিশ ওই ইউনিয়নের গ্রামে গেলে তারা পুলিশের ওপর পর্যন্ত আক্রমণ করে। হত্যা মামলার আসামিরা আদালত থেকে জামিন পেয়ে বাড়িতে গেলে আজ প্রতিপক্ষরা তাদের ওপর আক্রমণ করলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না