সাম্প্রতিক

বড়লেখার মাসুম বন্ধুসহ ফিরলেন লাশ হয়ে

স্বজনদের মুখে হাসি ফুটাতে ১০ বছর আগে সংযুক্ত আরব-আমিরাতে গিয়েছিলেন সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন মাসুম । প্রায় তিন মাস আগে দেশে এসে ঘুরে যান তিনি। মাসুম
(৩০) আবারও দেশে ফিরেছেন। তবে জীবিত নয়, লাশ হয়ে।

একই ঘটনায় একই সঙ্গে লাশ হয়ে দেশে ফিরেছেন মাসুমের বন্ধু সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার জালাল।

সংযুক্ত আরব-আমিরাতের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ১০ দিন পর মাসুম ও তার বন্ধু জালালের লাশ বৃহস্পতিবার ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বজনরা তাদের দুজনের লাশ গ্রহণ করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। সন্ধ্যায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মাসুমের লাশ দাফন করা হয়। নিহত মাসুম মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের কাঁঠালতলী গ্রামের সৈয়দ মিছালত হোসেনের ছেলে।

অন্যদিকে নিহত জালাল আহমদের (৩০) বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পূর্ব গায়ালজুন গ্রামে। তিনি ওই এলাকার সিফাত উল্লাহর ছেলে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানাজা শেষে জালালেরও লাশ দাফন করা হয়েছে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ফুজিরা-দিব্বা রোডের তুইন নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় সড়ক গুরুতর আহত হন মাসুম ও তার বন্ধু জালাল আহমদ। পরদিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা দুজনই মারা যান। শুক্রবার দুপুরে মাসুমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শেষবারের মতো তাকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও বন্ধুরা। ছেলে মাসুমকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা-মা। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মাসুমের স্ত্রীও। তাদের সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না প্রতিবেশীরা। তারাও মাসুমের এমন মৃত্যুতে শোকাহত।

নিহত মাসুমের পরিবার সূত্রে গেছে, জীবিকার তাগিদে ১০ বছর আগে সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন মাসুম (৩০) সংযুক্ত আরব-আমিরাতে পাড়ি জমান। সেখানে তার নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দুই ভাইয়ের মধ্যে মাসুম বড় ছিলেন। তিনি এক বছর আগে দেশে এসে বিয়েও করেছেন। সর্বশেষ প্রায় তিন মাস আগেও তিনি দেশে এসে ঘুরে গিয়েছিলেন।

মাসুমের চাচাতো ভাই সৈয়দ মিহান জানান, প্রায় তিন মাস আগে মাসুম ভাই দেশে এসেছিলেন। কে জানত এটাই হবে ভাইয়ের সঙ্গে শেষ দেখা। কখনো ভাবিনি তিনি এভাবে লাশ হয়ে দেশে ফিরবেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ব্যবসায়িক কাজ শেষে ব্যক্তিগত গাড়িযোগে দিব্বায় ফিরছিলেন সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন মাসুম ও তার বন্ধু জালাল আহমদ। ফুজিরা-দিব্বা রোডের তুইন নামক স্থানে পৌঁছামাত্র তাদের গাড়িটির চাকা নষ্ট হয়ে যায়। গাড়িটি সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে চাকা লাগাতে গেলে দ্রুত গতির একটি ল্যান্ডক্রুজার তাদের গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়।

এ সময় দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের আহতবস্থায় উদ্ধার করে দিব্বা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাসুম ও জালাল মারা যান। অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুজনের লাশ দেশে পাঠানো হয়।