সাম্প্রতিক

চট্টগ্রামের ইউএসটিসি শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

যৌন হয়রানির অভিযোগে ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রামের (ইউএসটিসি) ইংরেজি বিভাগের উপদেষ্টা শিক্ষক অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নির্দেশে এ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এর আগে উপমন্ত্রীর কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা।

ইউএসটিসি ইংরেজি বিভাগের কয়েকজন ছাত্রী সমকালকে বলেন, সাহিত্য পড়াতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে রোমান্টিসিজমের প্রসঙ্গ আসে। অধ্যাপক মাহমুদ এমন সময় বিষয়টি ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়ে যান। বিবাহিত ছাত্রীদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়গুলো বর্ণনা করতে বলেন। তখন ছাত্রীরা লজ্জা পান। তারা বলেন, ‘ধর্ষণ, ইন্টারকোর্স এগুলো উনার কাছে উপভোগ্য বিষয়। তিনি তা ছাত্রীদের কাছে খোলামেলা বর্ণনা করেন। ছাত্রীদেরও উত্তর দিতে উৎসাহিত করেন।’

স্মারকলিপিতে অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে ১৭ জন ছাত্রীর সঙ্গে ৫ জন ছাত্রও রয়েছেন। বিভাগের নবম ব্যাচের মাস্টার্সের এক ছাত্র বলেন, ‘স্যার যেভাবে কথা বলেন, আমরা ছাত্ররাও লজ্জা পাই। তিনি কথা বলেন বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের যৌক্তিকতা নিয়ে। তিনি শারীরিক সম্পর্কের সঙ্গী পরিবর্তন বিষয়ে বলেন। অথচ সমাজ বাস্তবতায় এসব বিষয় প্রকাশযোগ্য নয়। আমরা কোনো কোনো সময় তার কথার প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু ফেল করানোর ভয়ে কেউই এসব বিষয়ে মুখ খোলে না।’

শিক্ষার্থীরা জানান, তারা গত ১৬ এপ্রিল থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত উপাচার্য, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও জেলা প্রশাসকের কাছে অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছিলেন। তাতে কোনো ফল না হওয়ায় ২৫ এপ্রিল উপমন্ত্রী নওফেলকে স্মারকলিপি দেন। উপমন্ত্রী বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে সিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা রোববার সিএমপি কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক মাসুদ মাহমুদ সমকালকে বলেন, তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চার দশক শিক্ষকতা করেন। পাঁচ মাস আগে তিনি ইউএসটিসির ইংরেজি বিভাগের উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এখানে আগে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন না। যোগ দেওয়ার পর বিভাগে শিক্ষার মান উন্নত করতে কয়েকজনকে চাকরিচ্যুত করেন তিনি। এ কারণে শিক্ষার্থীদের দিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব সময় ক্লাস ও লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত থাকি। এ ধরনের নোংরা অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে, চিন্তাও করিনি।’

তদন্ত বিষয়ে সিএমপি কমিশনার মাহাবুবর রহমান সমকালকে বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে উত্তর জোনের উপকমিশনার বিজয় কুমার বসাককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবেন।’

ইউএসটিসির উপাচার্য ড. নুরুল আবসার সমকালকে বলেন, ‘আমি অভিযোগ পেয়েছি। তবে এখনও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারিনি। কারণ তারা শুধু আমাদের নয়, পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক এমনকি মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।