সাম্প্রতিক

তিন জেলায় পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ নিহত ২১

বান্দরবান-রাঙামাটি-চট্টগ্রাম এই তিন জেলায় পাহাড় ধসে ২১ জন নিহত।আর নিহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার করতে ফায়ার সার্ভিস এলাকাবাসি কাজ করছে।

বান্দরবানে :

বান্দরবানে প্রবল বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসে পৃথক ঘটনায় মা-মেয়েসহ অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে শহরের কালাঘাটা ও লেমু ঝিড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, শহরের লেমু ঝিড়ি জেলেপাড়া এলাকার আবদুল আজিজের স্ত্রী কামরুন্নাহার বেগম (৪০), তার মেয়ে সুখিয়া বেগম (৮), কালাঘাটা এলাকার রেবা ত্রিপুরা (২২), লেমু ঝিড়ি আগাপাড়া এলাকার তিন শিশু- শুভ বড়ুয়া (৮), মিতু বড়ুয়া (৬) ও লতা বড়ুয়া (৫)।

খবর পেয়ে স্থানীয়দের নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

রাঙামাটি:

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে কমপক্ষের ১১ জনের মতো প্রাণহানি হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরোও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাঙামাটি শহর এবং আশেপাশের এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে।

সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে কয়েক জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, রুমা আক্তার, নুরি আক্তার, জোহরা বেগম, সোনালি চাকমা, অমিত চাকমা, আয়ুস মল্লিক, লিটন মল্লিক, চুমকি দাস। এদের মধ্যে মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন। বাকী ৩ জনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

সোমবার থেকে রাঙামাটিতে টানা বর্ষণ শুরু হয়। এতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ে। ধসে পড়া মাটির নিচে এখনও অনেকে চাপা পড়ে আছেন।

তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে বৃষ্টি কারণে উদ্ধার কাজ চালাতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম:

জেলার চন্দনাইশ উপজেলায় পাহাড় ধসে শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুজন। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

ধোপাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু ইউছুপ চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন।

আবু ইউছুপ চৌধুরী জানান, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী আসগর আলীর কাঁচা ঘরের ওপর মাটি ধসে পড়ে। এ ঘটনায় আজগর আলীর শিশুকন্যা মাহিয়া মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা যায়।

এ ছাড়া ছনবুনিয়া উপজাতিপাড়ায় একটি ঘরের ওপর পাহাড় ধসে একই পরিবারের দুই শিশু কেউচা কেয়াং (১০), মেমাউ কেয়াং (১৩) এবং গৃহবধূ মোকাইং কেয়াং (৫০) নিহত হন।

এ ঘটনায় ওই পরিবারের সানুউ কেয়াং (২১) ও বেলাউ কেয়াং (২৮) নামের আরো দুজন আহত হয়েছেন। তাদের বান্দরবান হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউছুপ চৌধুরী।