সাম্প্রতিক

বিদ্যুৎ সংযোগ নেই তবু বকেয়া বিলের মামলায় দিনমজুর কারাগারে!

বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলেও বকেয়া বিল পরিশোধ না করার অপরাধে আব্দুল মতিন (৪৫) নামে এক দিনমজুরকে গ্রেফতার করে কুমিল্লা জেলহাজতে প্রেরণ করেছে মুরাদনগর থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কোম্পানিগঞ্জ জোনাল অফিসের গ্রাহক ও সাধারণ মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) রাতে মুরাদনগর থানার এসআই কবির হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আবদুল মতিনকে গ্রেফতার করে। বুধবার দুপুরে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মনজুর আলম বলেন, একটি মামলায় মতিন মিয়ার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে আটক করা হয়।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কোম্পানিগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হাবিবুর রহমান আবেদন ফাইলে ছবি পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আবদুল মতিনের নামের মিটার সফিকুল ইসলাম ব্যবহারের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। মামলা হওয়ার পূর্বে মতিন মিয়া নোটিশ পেয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন তা হলে আজ এ ঘটনাটি ঘটত না।

জানা যায়, উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার ২৫৬টি পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ৪ বছর আগে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এ আবেদন করে। আবেদনের পর স্থানীয় বিদ্যুৎ দালাল আবুল কালাম আজাদ ও আবুল বাসার প্রতিটি গ্রাহকের কাছ থেকে মিটারপ্রতি ১০-১৫ হাজার টাকা আদায় করে।

ওই সময় মৃত অহিদ আলীর ছেলে আবদুল মতিন মিয়াও আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ সংযোগের অনুমোদন প্রদান করে। কিন্তু মতিন মিয়া দালাল চক্রদের ৪ হাজার টাকা দিলেও বাকি টাকা দিতে না পারায় বিদ্যুৎ অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অর্থের বিনিময়ে মতিন মিয়ার আবেদনে একই এলাকার মৃত আবদুস ছামাদের ছেলে সফিকুল ইসলামের ছবি লাগিয়ে দেয়।

পরে মতিন মিয়ার মিটারটিতে গত ২০১৫ সালের ২২ মার্চ সফিকুল ইসলামকে সংযোগ প্রদান করে। প্রায় ১৭ মাস তিনি বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখেন। কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর চান্দিনা অফিসের এজিএম লক্ষণ চন্দ্র পাল বাদী হয়ে বকেয়া বিল ৪ হাজার ৭ টাকা অদায়ের জন্য বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে একটি মামলা করেন। আর এরই পেক্ষিতে মতিনকে গ্রেফতার করা হয়।