সাম্প্রতিক

যশোর-বেনাপোল সড়কের পুরাতন গাছ কেটে ৬ লেন করার দাবি

যশোর-বেনাপোল সড়কের পুরাতন জীর্ণ, অকার্যকর গাছ অপসারণ ও ৬ লেনের দাবিতে সম্মেলন করেছে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।

মঙ্গলবার বিকালে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নিজস্ব ভবনে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে যশোর প্রেসক্লাব ও বেনাপোলের সাংবাদিকরা ছাড়াও বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বেনাপোল বন্দর রক্ষার সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বেনাপোল সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান স্বজন। বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহসভাপতি নুরুজ্জামান, বেনাপোল নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহসিন মিলন, সাবেক সহসভাপতি শামছুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী সব সদস্য।

সংবাদ সম্মেলনে মফিজুর রহমান স্বজন বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর দেশের সিংহভাগ শিল্প কলকারখানা ও গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির মালামাল আমদানি হয় এই বন্দর দিয়ে। সার্বিকভাবে এ বন্দর দিয়ে ৩০ হাজার কোটি টাকার মালামাল আমদানি-রফতানি ও ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে। ইতিমধ্যে এ বন্দরটি এশিয়ান হাইওয়ে সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে এবং ৪ দেশীয় ট্রানজিট করিডোর এই বেনাপোল-পেট্রাপোল।

তিনি বলেন, ভারতের কলকাতা থেকে বেনাপোল সন্নিকটে বিধায় কম সময়ে এ বন্দর দিয়ে মালামাল আমদানি করা সম্ভব। প্রতিদিন এই পথে ৮-১০ হাজার পাসপোর্ট যাত্রী ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াত করে থাকে। দুদেশের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবির কথা বিবেচনা করে কলকাতা বেনাপোল-খুলনা রুটে সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হয়েছে। আন্তঃদেশীয় ঐতিহাসিক ট্রানজিট চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে বেনাপোল বন্দর দিয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলকে রক্ষা করার জন্য বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনগুলো সরকারে কাছে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি-দাওয়া তুলে ধরে।

দাবিগুলোর অন্যতম হলো- যশোর-বেনাপোল সড়কের পুরাতন জীর্ণ এবং অকার্যকর গাছ অপসারণ করে সড়কটি আন্তর্জাতিক মানের প্রশস্তকরণ এবং পরবর্তীতে ৬ লেন করা, বেনাপোল চিটাগাং, মোংলা, পায়রা বন্দরের মতো পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ (স্বতন্ত্র বঙ্গবন্ধু স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ) ঘোষণা, সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পাসপোর্ট যাত্রীদের জন্য ইমিগ্রেশন চালু রাখা, খুলনা-কলকাতা মৈত্রী-বন্ধন ট্রেন সার্ভিসে বেনাপোল স্টেশন থেকে ২০০টি সিট বরাদ্দ রাখা, বেনাপোল বাইপাস সড়কের সম্মুখে (ফায়ার সার্ভিসের সম্মুখে) ট্রাফিক আইল্যান্ড রেখে বাইপাসের সঙ্গে মেইন সড়কে ২০ গজ জয়েন্ট সড়ক নির্মাণ, নাভারন ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বে কমপক্ষে ১০-১২ ফিট সড়ক চওড়া করা আবশ্যক (যেহেতু সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে) গদখালি ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বে এবং বেনেয়ালি টার্নিং পয়েন্টের দক্ষিণ পার্শ্বে সড়কটি ৫-৭ ফিট চওড়া করা, যশোর চাঁচড়া মোড়ে গোলচত্বরটি ছোট করা এবং দৃষ্টিনন্দন করা।