সাম্প্রতিক
খুলনা সিটি নির্বাচন : ফলাফল পাল্টে দিতে পারেন তারা
খুলনা সিটি নির্বাচন : ফলাফল পাল্টে দিতে পারেন তারা

খুলনা সিটি নির্বাচন : ফলাফল পাল্টে দিতে পারেন তারা

খুলনা সিটি নির্বাচন : ফলাফল পাল্টে দিতে পারেন তারা

খুলনা সিটি নির্বাচন : ফলাফল পাল্টে দিতে পারেন তারা

নির্বাচনের বাকি ১৬ দিন। দিন যত এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে নির্বাচন। তবে এখনই মুখ খুলছেন না ভোটাররা। এক ধরনের ভয়, আতঙ্ক আর পরিবেশ কেমন হবে সব দিক মাথায় রেখেই তারা গভীরভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। গত নির্বাচনে কেসিসিতে ভোটার ছিল চার লাখ ৪০ হাজার ৫৬৬। এবারের নির্বাচনে তা বেড়ে হয়েছে চার লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৪। নতুন ভোটার বেড়েছে প্রায় ৫৩ হাজার। এরমধ্যে বস্তিবাসীর ভোট এক লাখেরও বেশি। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট ৭০ হাজার। শ্রমিক ভোট প্রায় ৬০ হাজার। এসব ভোট বরাবরের মতোই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে যায়। তবে দল নিরপেক্ষ এসব ভাসমান ও নতুন ভোটারদের একটা বড় অংশই নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ভোটার ও বিশ্লেষকেরা।

আগের নির্বাচনগুলোর ফলে বরাবরই খুলনা মহানগরীতে ভোটের হিসাবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল এগিয়ে ছিল। এসব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নিজস্ব ভোট ব্যাংক ছাড়া আঞ্চলিক ভোটারদের একটি বড় প্রভাব কাজ করে। বিশেষ করে বরিশাল, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, মাদারীপুর, গোলাপগঞ্জ, নোয়াখালী, কুমিল্লা, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের প্রতি নজর প্রধান দুই প্রার্থীর। রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত না থাকা এসব ভোটারও নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর। আবার তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ রয়েছে সমাজের পরিচিত মুখ এবং অত্যন্ত সচেতন। যারা কোনো দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন না। সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনেও প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের ভাগ্য নির্ধারণ হবে এসব ভাসমান ভোটারের ভোটে। তাই কদর বেড়েছে এসব ভোটারের। প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকেরা ভোটার তালিকা ধরে বিভিন্ন পাড়া ও মহল্লায় গিয়ে এসব ভোটারের খোঁজ নিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করে দিয়েছেন।

চাকরির সুবাদে আঞ্চলিক ভোটারদের একটি বড় অংশই স্থায়ী-অস্থায়ীভাবে নগরীর খালিশপুর শিল্পাঞ্চল এলাকায় বসবাস করেন। আবার অনেকে এলাকার ঠিকানায় ভোটার হলেও কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে স্থানীয়দের কাছে অপরিচিত । তাদের বাসা বাড়ির ঠিকানাও প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। প্রার্থীরা ও তাদের কর্মী-সমর্থকেরা তালিকা অনুযায়ী এসব ভোটারের খোঁজে বাড়ি যাচ্ছেন সমর্থন আদায়ের জন্য। কিন্তু উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটারকে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন তারা। খুঁজে না পাওয়া এসব ভোটারদের প্রায় সবই ভাসমান ভোটার বলে অনেক প্রার্থী ও স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন।

কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্রী হেলেন জেরিন জানান, অপেক্ষায় আছি কাকে ভোট দেবো? তবে নতুন এবং তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে যারা কাজ করবেন তারাই ভোট পাওয়ার যোগ্য। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা জি এম হায়দার আলী বলেন, এবারের নির্বাচনের ফলাফলে নতুন ভোটাররা একটা বড় ভূমিকা রাখবে। খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম কাজল বলেন, শিল্পাঞ্চলে বরিশাল এলাকার ভোটারদের বেশি ভোট পাবেন মঞ্জু। তবে যে প্রার্থী যত বেশি আঞ্চলিক ভোট টানতে পারবেন তিনিই এগিয়ে থাকবেন।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব আশরাফ উজ জামান বলেন, খুলনার নির্বাচনগুলোতে সব প্রার্থী আঞ্চলিকতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এখানের সব প্রার্থীই খুলনার উন্নয়ন চান। তবে এখনো অনেকগুলো দাবি অবাস্তবায়িত। আশা করি জনগণের ভোটে যিনি মেয়র নির্বাচিত হবেন অবশ্যই খুলনা উন্নয়নে তার বিশেষ ভূমিকা থাকবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনার সাধারণ সম্পাদক কুদরত ই খুদা বলেন, আমি পরিষ্কার বলতে পারি, যে মেয়র প্রার্থী বেশি নির্দলীয় বা নিরপেক্ষ ভোট পাবেন, তিনিই জয়ী হবেন।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) খুলনার সভাপতি অধ্যাপক আনোয়রুল কাদির বলেন, প্রধান দুই দলই সেরা প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। আরো তিন প্রার্থীও আছেন। এখন ভোটারদের কোটে বল। ভোটারেরা কাকে নির্বাচন করবেন তা তাদেরই বিবেচনা। নানা দিক বিচার বিশ্লেষণ করেই ভোটারেরা প্রার্থী নির্বাচন করবেন। ভোটারদের যিনি কাছে টানতে পারবেন, তিনিই হাসবেন শেষ হাসি।

x

Check Also

ঝিনাইদহে শিক্ষক কর্তৃক তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীর শ্লিলতাহানী অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহে দিনের পর দিন মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক তৃতীয় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর শ্লিলতাহানীর ...