সাম্প্রতিক

আগামী জুলাই থেকে খুলনায় মোটরচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ

মহানগরীতে ব্যাটারি ও মোটরচালিত রিকশা চলাচল বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে মালিকদের রিকশা থেকে ব্যাটারি ও মোটর খুলে ফেলতে সম্প্রতি মাইকিং করে জানানো হয়েছে। এর পরও মোটরচালিত রিকশা চললে ১ জুলাই থেকে তা আটক করার ঘোষণা দিয়েছে কেসিসি। এ নিয়ে নগরীতে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালের দিকে নগরীতে স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতের প্রধান বাহন ছিল পায়ে চালিত রিকশা। ২০০২ সালের দিকে বিএনপি নেতা শেখ তৈয়েবুর রহমান মেয়র থাকাকালে নগরীতে প্রায় ১৭ হাজার রিকশার লাইসেন্স দেন। পরে গত ছয়-সাত বছরে ব্যাপক হারে ইজিবাইক ও মাহিন্দ্র নামায় কমতে থাকে রিকশার সংখ্যা। এ কারণে মালিকরা রিকশায় মোটর লাগাতে শুরু করেন।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, ইজিবাইকের কারণে নগরীতে রিকশা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রিকশার লাইসেন্স নবায়ন হয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার। এর বেশিরভাগই মোটরচালিত। এই রিকশাগুলো খুবই দ্রুত গতিতে চলে। এতে সাধারণ যে ব্রেক রয়েছে, তা দ্রুত গতিতে চলার সময় ঠিকমতো কাজ করে না। ফলে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এ কারণে মোটরচালিত রিকশা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি করপোরেশন। সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, মোটরচালিত রিকশার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সে কারণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কেসিসির লাইসেন্স কর্মকর্তা (যানবাহন) হাবিবুর রহমান খান সমকালকে জানান, ৩০ জুনের মধ্যে রিকশা থেকে মোটর ও ব্যাটারি খুলে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মালিকদের। বিষয়টি জানাতে গত ২৩, ২৪ ও ২৫ এপ্রিল নগরীজুড়ে মাইকিং করা হয়। ১ জুলাই থেকে নগরীতে মোটরচালিত রিকশা চললে তা আটক করা হবে।

তবে সিটি করপোরেশনের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন নগরীর বাসিন্দাদের অনেকেই। শিহাব আহমেদ ও জুলফিকার আলী বলেন, সাধারণত ইজিবাইকগুলো বিভিন্ন মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তিন থেকে চারজন যাত্রী ওঠার পর চলতে শুরু করে। সেক্ষেত্রে তাড়া নিয়ে একা কোথাও যাওয়ার জন্য যাত্রীদের নির্ভর করতে হয় মোটরচালিত রিকশার ওপর। এটি বন্ধ হলে দুর্ভোগ পোহাতে হবে। রিকশাচালক সিরাজুল আলম ও শেখর মোল্লা বলেন, তাদের অনেক বয়স হয়েছে। পায়ে প্যাডেল চেপে রিকশা চালাতে খুবই কষ্ট হয়। মোটর আছে বলে তারা সহজে রিকশা চালাতে পারছেন। একাধিক রিকশাচালক জানান, প্রতিদিন মালিকদের সাধারণ রিকশার ভাড়া দিতে হয় ৬০ টাকা, আর ইঞ্জিনচালিত রিকশার ভাড়া দিতে হয় ২০০ টাকা। ইঞ্জিন খুলে ফেলা হলে বয়স্ক অনেক লোকই রিকশা চালাতে পারবেন না। 

এ ব্যাপারে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) খুলনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব বলেন, সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এসব রিকশায় যাতায়াত খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। উদ্যোগ কার্যকরের পাশাপাশি মনিটরিংয়ের দাবি জানান তিনি।