সাম্প্রতিক
৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিজিবি অধিনায়কের প্রত্যাহার দাবি

যশোরের ৩ দারোগার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ২ লাখ টাকা আদায়

যশোরে এক যুবককে আটকের পর ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। গত ৬ জুন গভীর রাতে সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের আজমতপুর গ্রামে ঘটে এ ঘটনা। যুবকের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, হঠাৎ করেই ২ জন এসআই ও একজন এএসআইর নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাদের বাড়িতে হানা দেয়। কোনো কিছু বোঝার আগেই পুলিশ সদস্যরা ঘরে ঢুকে আহসান হাবিব সুজনকে ঘুম থেকে তুলে হাতকড়া পরিয়ে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়। আটকের সময় পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে বাসা থেকে সোয়া তিন লাখ টাকাও লুটে নেয়। বিচার চেয়ে ও ঘটনা অবহিত করে সুজনের বাবা আবদুল কাইয়ুম গত ১১ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, ডিসি ও এসপির কাছে চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিজিবির সাবেক সৈনিক আবদুল কাইয়ুম জানান, গত ৬ জুন রাতে পুলিশ সদস্যরা আমাদের বাড়িতে ঢুকেই আমাকে ও আমার ছেলে সুজনকে হাতকড়া পরায়। কারণ জানতে চাইলে তারা উপরের নির্দেশের কথা বলেন। তবে জানায়, ১০ লাখ টাকা দিলে তোদের ছেড়ে দেয়া হবে। পরে একজনের পরামর্শে আমাকে ছেড়ে দেয়। পরে দুই লাখ টাকায় রফা হয়। পরের দিন ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা দিয়ে সুজনকে ছাড়িয়ে আনা হয়। বাড়ি তল্লাশি করে পুলিশ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে বলে অভিযোগ করেন কাইয়ুম।

অভিযুক্ত তিন পুলিশ কর্মকর্তা হলেন- অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজমল হুদা বলেন, সুজনকে আটকের পর টাকা আদায়ের বিষয়টি আমার জানা নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, সুজন আটক হয়েছিল কিনা কাগজপত্র না দেখে বলতে পারব না। সব কিছু তো মনে থাকে না। মনে থাকে বলেন?

গত ১১ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন আবদুল কাইয়ুম। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, বিজিবি চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছিলাম। দ্বিতীয় সন্তান আহসান হাবিব সুজন গ্রামে একটি রাইস মিল পরিচালনা করেন। ৬ জুন রাত ৩টার দিকে কোতোয়ালি থানার এসআই আমিনুর রহমান, এসআই জামিল আহমেদ, এএসআই বিপ্লব হোসেনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র পুলিশ তার বাড়িতে যায় এবং সুজনকে (২২) আটক করে। কারণ জানতে চাইলে জানায়, ‘তোকে ও তোর ছেলেদের ক্রসফায়ারে দেয়ার অর্ডার আছে।’ এই বলে ছেলের সঙ্গে আমার হাতেও হাতকড়া পরানো হয়। সে সময় পাশ থেকে এক পুলিশ সদস্য বলেন ‘বাবাকে ছেড়ে দেন। তা না হলে টাকার জোগাড় করবে কে?’ হাতকড়া খুলেই বলে ১০ লাখ টাকা দে, সুজনকে ছেড়ে দেব। অপারগতা জানালে ৫ লাখ দাবি করেন। এরপর দুই লাখে নামে। আটকের সময় তল্লাশি চালিয়ে ঘরে থাকা ৩ লাখ ২০ হাজার টাকাও নিয়ে নেয় তারা। পরের দিন লেবুতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলিমুজ্জামান মিলন ছোট ছেলে রিপনকে নিয়ে থানায় যান এবং ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা দিয়ে সুনজকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। গরু বিক্রি এবং জমি বন্ধক দিয়ে এই টাকা জোগাড় করতে হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দিয়ে পুলিশ সদস্যরা বলেন, জানালে ছোট ছেলেকেও আটক করা হবে।

জানতে চাইলে ঘটনার শিকার আহসান হাবিব সুজন মুঠোফোনে বলেন, রাতে বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলাম। একদল পুলিশ বাড়িতে হানা দেয়। এরপর ঘুম থেকে তুলে নিয়ে হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়। পরবর্তীতে পুলিশকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছি। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বিপ্লব হোসেন বলেন, ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না। এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না।

জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুর রহমান বলেন, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ সঠিক নয়। সুজনের বড় ভাই সন্দেহভাজন জঙ্গি হিসেবে ঢাকায় আটক আছে। ৬ জুন রাতে এসআই জামিল, এএসআই বিপ্লবসহ আমরা সুজনকে বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউপি মেম্বার ও সুজনের ছোট ভাইয়ের উপস্থিতিতে তাকে চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেয়া হয়। টাকা-পয়সার কোনো লেনদেন হয়নি। বাড়ি থেকে টাকা লুটের অভিযোগও সঠিক নয়।