সাম্প্রতিক
কু-প্রস্তাবে রাজি না হলে ইন্টার্নি শেষ করতে দেবেন না শিক্ষক!
কু-প্রস্তাবে রাজি না হলে ইন্টার্নি শেষ করতে দেবেন না শিক্ষক!

কু-প্রস্তাবে রাজি না হলে ইন্টার্নি শেষ করতে দেবেন না শিক্ষক!

কু-প্রস্তাবে রাজি না হলে ইন্টার্নি শেষ করতে দেবেন না শিক্ষক!

কু-প্রস্তাবে রাজি না হলে ইন্টার্নি শেষ করতে দেবেন না শিক্ষক!

যশোর আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্নি কো-অর্ডিনেটর ও মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রিচমন্ড রোলান্ড গোমেজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।গত ৩ আগস্ট ওই শিক্ষক চেম্বারে ডেকে নিয়ে ইন্টার্নি চিকিৎসক শারমিন সুলতানাকে যৌন হয়রানি করেছেন। কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ইন্টার্নি কোর্স সম্পন্ন করতে দেবেন না বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি।

রোববার প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতনের শিকার ইন্টার্নি চিকিৎসক শারমিন এসব অভিযোগ করেন।এই ইন্টার্নি চিকিৎসকের দাবি, শিক্ষকের হাতে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকায় কলেজটিতে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে যৌন হয়রানি করা হয়। ভয়ে নির্যাতনের শিকার ছাত্রীরা মুখ মুলতে পারেন না।তিনি বলেন, এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট কোতয়ালি থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও মামলা রেকর্ড হয়নি। পুলিশ অভিযোগ খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ও থানার অভিযোগে ডা. শারমিন দাবি করেন, ‘আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্নি কো-অর্ডিনেটর সহকারী অধ্যাপক রিচমন্ড রোলান্ড গোমেজ অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। সেটি আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘তখন থেকে আমাকে মানসিকভাবে অসুস্থ করে তুলেছেন ওই শিক্ষক। শিক্ষকদের হাতে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকায় আমাকে ভয় দেখানো হতো। তার মন জুগিয়ে না চললে ফেল করিয়ে দেওয়া হবে। আমরা প্রথম ব্যচে এই কলেজ থেকে ২৬জন পাস করেছি।’ডা. শারমিন বলেন, ‘গত ২৫ এপ্রিল ইন্টার্নি চিকিৎসক হিসেবে যোগদান করতে গেলে যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়নি। এরপর ২৭ এপ্রিলও যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়নি। পরে বাবা-মা ও অভিভাবকরা ওই শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর গত ৮ মে আমাকে যোগ দিতে দেওয়া হয়।’তিনি বলেন, ‘তখন থেকে আমাকে নির্যাতন শুরু হয়। আমাকে ১৪ দিনের জন্য ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ক্লিনিক্যাল ইন্টার্নিতে পাঠানো হয়। আবহাওয়া ও শরীর অসুস্থ থাকায় দুদিন কর্মস্থলে হাজির থাকতে পারিনি। তবে স্বাক্ষরের স্থান খালি থাকায় ওই অনুপস্থিত দুদিন স্বাক্ষর করি।’

এই ইন্টার্নি চিকিৎসক বলেন, ‘অনুপস্থিতির বিষয়ে গত ৩ আগস্ট দুপুরে আমাকে স্যারের রুমে ডাকা হয়। সেখানে ডেকে নিয়ে ওই শিক্ষক কু-প্রস্তাব দেন। আমি রাজি না হওয়ায় শিক্ষক আমাকে ঝাঁপটে ধরে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। তার নির্যাতনে আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি।’তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে আমার বাবা-মা সেখানে হাজির হন। এ বিষয়ে শিক্ষকের কাছে আমার বাবা-মা জানতে চান। এসময় ওই শিক্ষক গার্ডদের দিয়ে আমার বাবা-মাকে লাঞ্ছিত করেন। আমার বাবা-মায়ের জামা-কাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয়। বাবাকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত আটকে রাখা হয়।’

ডা. শারমিন বলেন, ‘অনেক টাকা খরচ করে এমবিবিএস পাস করেছি। ইন্টার্নি করতে গিয়ে শিক্ষকের রোষানলে পড়েছি। আমি কোর্স সম্পন্ন করতে চাই। আমার প্রতি যেন অবিচার না করা হয়, সেই দাবি জানাচ্ছি।’সংবাদ সম্মেলনে ডা. শারমিন সুলতানার বাবা আলাউদ্দিন, স্বামী খন্দকার মুজাহিদুল ইমাম উপস্থিত ছিলেন।অভিযুক্ত শিক্ষক ইন্দোনেশিয়ায় থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।জানতে চাইলে আদ্‌-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. খান শাকিল আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ সঠিক নয়। ওই ইন্টার্নি চিকিৎসক কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি ওই শিক্ষকের কাছে গিয়ে ক্ষমা চান। শিক্ষক তাকে আশ্বাস দেন পরে তার বিষয়টি দেখবেন। কিন্তু ইন্টার্নি চিকিৎসক সেখানে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ইন্টার্নি চিকিৎসকের বাবা এসে শিক্ষককে মারধর করেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি ওই শিক্ষক জিম্মি করে যৌন হয়রানি করে থাকেন তাহলে এতদিন কেন অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে তো তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতাম। এখন কেন তিনি অভিযোগ করছেন?’ওই চিকিৎসক গত শুক্রবার ইন্দোনেশিয়া গেছেন বলে জানান অধ্যক্ষ।কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা বলেন, ‘ইন্টার্নি চিকিৎসকে যৌন হয়রানির অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পেলে মামলা রেকর্ড করা হবে।’