সাম্প্রতিক

ইয়াবা রেখে ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর চেষ্টা, এএসআইকে পিটুনি

photo-1477487321যশোরের চৌগাছায় উপজেলায় একটি দোকানে ‘সোর্সের’ মাধ্যমে ইয়াবা রেখে ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে। এ ঘটনার সময় জনতার পিটুনি ও ধাওয়া খেয়ে ওই এএসআই পালিয়ে যান। পুলিশ কথিত সোর্সকে আটক করেছে।

আজ বুধবার চৌগাছা উপজেলা সদর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর পরই বাজারের শত শত ব্যবসায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে এএসআইয়ের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বেলা দেড়টার দিকে চৌগাছা থানার এএসআই সিরাজুল ইসলাম শহরের মেইন রোডে সুপার ইলেক্ট্রিক অ্যান্ড ভ্যারাইটিজ নামের একটি দোকানে একজন সোর্সকে পাঠিয়ে তিনি কিছুটা দূরে অপেক্ষা করছিলেন। ওই সোর্স দোকানের মধ্যে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট রেখে আসার পর পরই এএসআই সিরাজুল ইসলাম দোকানটিতে যান। দোকানমালিক রাবণ কুমারকে ইয়াবা রাখার অপরাধে আটক করার চেষ্টা করেন এএসআই। এ সময় রাবণ কুমার নিজেকে নির্দোষ দাবি করতে থাকেন। হৈচৈ শুনে আশপাশের দোকানের মালিক-কর্মচারীরা এগিয়ে আসেন।

পরে রাবণ কুমার সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুলিশকে বলি, আমি মাদকের কারবার করি না। নিশ্চয় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তখন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। ফুটেজ দেখার কথা বলতেই এএসআই সিরাজ ও সোর্স আকাশ ওই দোকান থেকে সটকে পড়ার চেষ্টা করেন।’

এ সময় উপস্থিত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন এএসআই সিরাজকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি দোকান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

খবর শুনে অল্প সময়ের মধ্যে শত শত ব্যবসায়ী রাবণ কুমারের দোকানের সামনে জড়ো হয়ে এএসআই সিরাজের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে সেখানে যান চৌগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মারুফ আক্তার, চৌগাছা পৌরসভার মেয়র নূরউদ্দীন আল মামুন হিমেল ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইবাদৎ হোসেন। তারা এ ঘটনার বিচার হবে বলে আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ থামান।

এ ব্যাপারে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম মসিউর রহমান বলেন, ‘আকাশ নামের একটা ছেলে ওই দোকানে ইয়াবা রেখে পুলিশকে খবর দিয়েছিল। সে কারণে পুলিশ সেখানে গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আকাশই দোকানে ইয়াবা রেখে পুলিশকে খবর দিয়েছিল। আকাশকে আটক করা হয়েছে, এ ব্যাপারে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হবে।’

আকাশ পুলিশের সোর্স কি-না জানতে চাইলে ওসি বলেন, আকাশ পুলিশের সোর্স না। তিনি চৌগাছা শহরের বেলেরমাঠ এলাকার ফিরোজ শেখের ছেলে।

ওসি আরো বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আকাশ জানিয়েছে, ওই দোকানের এক কর্মচারীর সঙ্গে তাঁর শত্রুতা ছিল। এর আগে ওই কর্মচারী আকাশকে মারধর করেছিল। প্রতিশোধ নিতেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।