সাম্প্রতিক
শালিখায় নাম পরিবর্তন করে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার অভিযোগ : প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সুযোগ সুভিধা থেকে বঞ্চিত-আদালতে মামলা
শালিখায় নাম পরিবর্তন করে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার অভিযোগ : প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সুযোগ সুভিধা থেকে বঞ্চিত-আদালতে মামলা

শালিখায় নাম পরিবর্তন করে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার অভিযোগ : প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সুযোগ সুভিধা থেকে বঞ্চিত-আদালতে মামলা

 

শালিখায় নাম পরিবর্তন করে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার অভিযোগ : প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সুযোগ সুভিধা থেকে বঞ্চিত-আদালতে মামলা

শালিখায় নাম পরিবর্তন করে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার অভিযোগ : প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সুযোগ সুভিধা থেকে বঞ্চিত-আদালতে মামলা

শালিখা(মাগুরা)সংবাদদাতাঃ মাগুরার শালিখায় শুকুর আলী সরদার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আব্দুল খালেক মোল্যা নামের এক নিরুহ ব্যক্তির নাম ভাঙ্গিয়ে ও কাগজে কলমে শুকুর সরদার পরিবর্তন করে আব্দুল খালেক মোল্যা নাম ধারণ করে মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার অভিযোগ পাওয়াগেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের গোবরা গ্রামে। এব্যাপারে আব্দুল খালেক মোল্যা বাদী হয়ে মাগুরার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং শালিখা সিআর ১১৬/১৭। মামলা সূত্রে জানা যায়, শুকুর সরদার অত্যন্ত চালাক ও প্রতারক শ্রেণির লোক। সে প্রকৃত ভাবে কোন মুক্তিযোদ্ধা নয়। বাদীর নামকরণ নিজের নামে মুক্তিযোদ্ধার সনদ পত্র জাল জালিয়াতি করে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বণে গেছে। আসলে তিনি কোন মুক্তিযোদ্ধা নয়। তাঁর প্রকৃত নাম মোঃ শুকুর আলী সরদার, পিতা মৃত রহিম সরদার, মাতা মাজু বিবি। জাতীয় পরিচয় পত্র ভোটার তালিকা, জমির পর্চা,বিদ্যুৎ বিলসহ সকল কাগজ পত্রে তাঁর নাম ও সন্তানদের নামের পিতা এবং তাঁর স্ত্রীর স্বামীর নাম শুকুর আলী লিখিত আছে। অথচ সে প্রকুত নাম ঠিকানা গোপন করে আব্দুল খালেক নামে রক্ষিবাহিনীতে চাকরি করে যাবতীয় সুযোগ সুভিধা ভোগ করেন। পাশাপাশি তিনি বীর মুক্তি যোদ্ধা হয়ে সরকারি সকল সুযোগ সুভিধাও ভোগ করে আসছেন। এব্যাপারে অভিযোগকারি গোবরা গ্রামের মৃত মুনছুর আলীর ছেলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক মোল্যা সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, আমি আমার মুক্তিযোদ্ধার যাবতীয় কাগজ পত্র তৈরী করার জন্য উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিসে গিয়ে কাগজ পত্র যাচাই করে দেখতে পায় যে শুকুর আলী নামের এক প্রতারক অফিসকে ভূল বুঝিয়ে তার নাম শুকুর আলী পরিবর্তন করে আব্দুল খালেক লিখিত করে জালজালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সনদ পত্র তৈরী করে সরকারি সকল সুযোগ সুভিধা ভোগ করছে। সে এ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে সংশোধনীয় ভোটার তালিকায় তার জাতীয় পরিচয় পত্রের ৫৫০৫৮৭৫০৯২৮৭ নং শুকুর আলী নাম পরিবর্তন করে আমার ও আমার পিতার নাম ব্যবহার করেছেন। পাশাপাশি আমার সন্তানদের যে নাম, তার সন্তানদেরও সেই নামে নামকরণ করেছেন।খোজ নিয়ে জানতে পারি এভাবেই সে প্রতারণা করে আমার নাম ব্যবহার করে তৎকালিন রক্ষিবাহিনীতে চাকরি ও বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা হয়ে সরকারের বিভিন্ন সুযোগ সুভিধা ভোগ করে আসছেন। ১৯৭১ সালে আমার যুদ্ধ পরিচালনা কমান্ডার মহম্মদপুর নহাটা গ্রামের ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে বুনাগাতি, নহাটাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আমি যুদ্ধ করি। অথচ তিনি যুদ্ধ না করেই আমার ও আমার পিতার নাম ধারণ করে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। আমি সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানাতে চাই। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতারক শুকুর আলী সরদারের কঠোর শাস্তির দাবী করছি। আমি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। অথচ আমার নামের উপর ভূয়া কাগজ পত্র তৈরী করে সে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে গেছে। আসলে সে একজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা। এব্যাপারে শতখালী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোকছেদ আলী মোল্যা জানান, শুকুর আলী কোন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। আব্দুল খালেক একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। অথচ শুকুর আলী নামের ওই ব্যক্তি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেকের নাম জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা হয়েগেছেন। প্রকৃত পক্ষে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক ১৯৭২ সালে ঢাকা স্টিডিয়াম ময়দানে তৎকালিন কমান্ডার কায়েম আলীর নেতৃত্বে আব্দুল মজিদ মোল্যা,ইউসুব নিকেরী, উহাব ভান্ডরী, লুতফর মোল্যা,আব্দুল খালেক,আফসার মোল্যা,শুকুর নিকেরীসহ ৪২ জন মুক্তিযোদ্ধা অস্ত্র জমা দেন সেইদিন। এর মধ্যে মৃত মুনছুর আলীর ছেলে আব্দুল খালেক মোল্যা অস্ত্র জমা দিয়েছিলেন। সে উপজেলার বুনাগাতি,মহম্মদপুর নহাটাসহ বিভিন্ন স্থানে পাকবাহিনীদের সাথে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু শুকুর আলী সরদার নামের ওই ব্যক্তি তখন হরিশপুর গ্রামে এক ব্যক্তির বাড়ীতে মাইনে থাকতেন। তাদের সহযোগিতায় আব্দুল খালেকের নামকরণ করে শুকুর আলীকে রক্ষি বাহিনীতেও চাকরি দিয়েছিলেন। পরে তিনি ওই নামের উপর কাগজ পত্র জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। অথচ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার জন্য বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার,সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট ও সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এক দিকে তাঁর অভাবের সংসার তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। অন্যদিকে পরিবারের এতো গুলো সদস্যদের খাবার যোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁর। দেশের জন্য ৯ মাস আমরণ যুদ্ধ করে এখন এক প্রতারকের জন্য তাঁর মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি মিলছেনা। ভাবতে বড় কষ্ট হয়। এব্যাপারে এলাকার প্রবিণ ব্যক্তি মোঃ ছদর আলী বিশ্বাস,আতিয়ার মোল্যা,মোশারফ মোল্যাসহ আরো অনেকেই জানান, শুকুর আলী নামের ব্যক্তি কোন মুক্তিযুদ্ধ করেনি। কিন্তু সে কি ভাবে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে আমরা জানি না। এব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা আফসার ডাক্তারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে ঢাকা স্টিডিয়াম মাঠে আমিসহ ৪২ জন মুক্তিযোদ্ধা অস্ত্র জমা দি। এর মধ্যে গোবরা গ্রামের মৃত মুনছুর মোল্যার ছেলে আব্দুল খালেক মোল্যা আমার সাথে অস্ত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু একই গ্রামের মৃত রহিম সরদারের পুত্র শুকুর সরদার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল থেকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আব্দুল খালেকের নাম ধারণ করে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। সে এক জন ভূয়া মুক্তি যোদ্ধা। তিনি আরো বলেন, শুকুর সরদার কোন যুদ্ধ করেনি। সে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে সরকারের সকল সুযোগ সুভিধা ভোগ করে আসছেন। অথচ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও আব্দুল খালেক মোল্যা সব কিছু থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু বক্কার মাষ্টারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার জানামতে শুকুর আলী সরদার আর আব্দুল খালেক একই ব্যক্তি। যা ইউনিয়ন পরিষদের প্রত্যায়নসহ মুক্তিযোদ্ধা অফিসের সকল কাগজ পত্রে এই নাম আছে। এমনকি তৎকালিন সময়ে তিনি রক্ষিবাহিনীতেও চাকরি করতেন। প্রকৃত পক্ষে তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। তবে এব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালক অরফে শুকুর আলী সরদারের মুঠো ফোনে কল করে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোন জবাব না দিয়ে তিন তিন বার ফোনের লাইন কেটে দেন।

x

Check Also

মাগুরায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে তরুণ ক্রিকেটার হত্যা

 রাস্তায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে হত্যা ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একইরকম ঘটনা ঘটল মাগুরা ...