সাম্প্রতিক
শালিখার অনুদেব মৎস্য চাষ ও গবাদি পশু পালন করে স্বাবলম্বী-অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে স্থানীয় যুবকদের
শালিখার অনুদেব মৎস্য চাষ ও গবাদি পশু পালন করে স্বাবলম্বী-অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে স্থানীয় যুবকদের

শালিখার অনুদেব মৎস্য চাষ ও গবাদি পশু পালন করে স্বাবলম্বী-অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে স্থানীয় যুবকদের

শালিখার অনুদেব মৎস্য চাষ ও গবাদি পশু পালন করে স্বাবলম্বী-অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে স্থানীয় যুবকদের

শালিখার অনুদেব মৎস্য চাষ ও গবাদি পশু পালন করে
স্বাবলম্বী-অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে স্থানীয় যুবকদের

নাজমুল হক , শালিখা,মাগুরা ঃ মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের বয়রা গ্রামের অনুদেব দাস মৎস্য চাষ,দুগ্ধ গবাদি পশু পালন,লেয়ার ও পোল্ট্রি মূরগীর চাষ করে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি ১৯৯৭ সালে ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকার পূজি নিয়ে ৩০শতক জমির উপর একটি পুকুর খনন করে দেশীয় জাতের পোনা মাছের চাষ শুরু করেন। এসব মাছের মধ্যে রয়েছে,তেলাপিয়া, পাবদা ও মলা মাছসহ বিভিন্ন দেশীয় জাতের মাছ। তিনি এখন এক একর জমির উপর মাছের চাষ শুরু করেছেন। এসব মাছের প্রতি দিন প্রায় ১৫০০ টাকার খাবার দিতে হয়। ৩ মাস পর পর মাছ বিক্রি করেন। এতে লাভের অংশ অনেকটাই বেশি হয় বলে তিনি জানান। এর পর ১০০টি লেয়ার ও পোল্ট্রী মূরগী নিয়ে শুরু করেন একটি ছোট মূরগীর খামার। সেখানে এখন ৪ হাজার বয়লার মূরগী রয়েছে। এসব মূরগীর প্রতি দিনে ৩ বস্তা অর্থাৎ ১৫০কেজি খাবার দিতে হয়। যাহার আনুমানিক মুল্য ৬৯১০ টাকা। মূরগী প্রতি মাসেই বিক্রি করা হয়। এতে সব মিলিয়ে ভালই লাভের অংশ থাকে বলে তিনি জানান । পাশাপাশি তিনি এক একর জমিতে উন্নত জাতের ঘাস ও কলার চাষও করেন। ২০০৬ সালে গবাদি পশু পালনের জন্য একটি গরুর খামার তৈরী করেন। প্রথমে ২টি দুগ্ধ গরু নিয়ে খামার শুরু করেন। এখন সেখানে ১৩টি দুগ্ধ গরু রয়েছে। গরু বছরে ২ বার বিকিকিনি হয়। গরুর গোবরের জ¦ালানি এখন গ্রামের লোকজনের কাছে ভালই বিক্রি হচ্ছে। গরুর গোবর ফসলি জমির সার হিসাবেও বেশ কাজে লাগছে। পাশাপাশি গরুর দুধ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করছেন। ফার্মে ৬ জন শ্রমিকের কর্মস্থান হয়েছে। তাদের প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা করে বেতন দিচ্ছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে তার ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাভ থাকে। ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার পুজি নিয়ে ব্যবসায় নেমে এখন তার ১০ লক্ষাধিক টাকারও বেশি পুজি হয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দ্বীন ইসলাম জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে মৎস্য চাষ করে তিনি যেমন এক দিকে যুব সমাজকে বেকারত্ব দুর করতে উদ্ভুদ্ধ করছেন। অন্যদিকে এলাকার যুব সমাজের কর্মস্থানও সৃষ্টি করেছেন। এবছর তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষি হয়েছে।
এব্যাপারে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মাসুমা আখতার জানান, তাঁর চাষের পদ্ধতি দেখে উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি গবাদি পশু পালনে সাফল্য অর্জন করেছেন।
২০১৬ সালে কার্প মলা মিশ্র চাষে ইউএসএআইডি থেকে এই মাছ চাষের জন্য ২ দিন ব্যাপি প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদান করেন এবং কারিগরি পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য সহযোগিতা করা হয়। এরপর ২০১৭ সালে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে গলদা চিংড়ি ও পাবদা মাছ চাষের জন্য ২ দিন ব্যাপি প্রশিক্ষণ শেষে প্রকল্পের আওতায় ৯ হাজার পিচ পাবদা মাছের পোনা ও ১২০ কেজি মাছের খাবারসহ অন্যান্য সামগ্রী তাকে প্রদান করা হয়।এরপর ওয়াল্ড ফিস নামক একটি প্রতিষ্ঠানের আওতায় ২ দিন ব্যাপি প্রশিক্ষণ শেষে তাকে মৎস্য সনদ প্রদান করেন। ২০১৭ সালে মাগুরা জেলা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে কার্প মলা মিশ্র চাষে সফলতার জন্য শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষি হিসাবে অনুদেবকে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।
উপজেলার পুলুম গ্রামের খামারী সাধন কুমার দে জানান, অনুদেব দাসকে অনুসরণ করে আমিও মৎস্য ও গবাদি পশু পালন শুরু করে স্বাবলম্বী হয়েছি। বিভিন্ন সময় আমি তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে থাকি।
এব্যাপারে ফার্মের মালিক অনুদেব দাসের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ২০০৬ সাল থেকে ৩ বছর ৮ মাস গ্রামীণ ফোনের টেলিকম কর্মকর্তা হিসাবে চাকরি করতাম। এরপর বাংলালিংক কাষ্টমার কেয়ারে ৩ বছর ৬ মাস চাকরি করেছি। চাকরির পাশাপাশি মৎস্য চাষ, গবাদি পশু পালন পোল্ট্রি মূরগী চাষসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভাবতাম। এক সময় মনের আবেগেই এই চাষ পদ্ধতি শুরু করলাম। প্রথমে ৩০ শতক পুকুরে অল্প কিছু মাছের পোনা ছেড়ে শুরু করলাম। এর পর লেয়ার মূরগী ও গরুর চাষ শুরু করি। এখন এই চাষ করে আমি স্বাবলম্বী হয়েছি। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের যুব সমাজকে উৎসাহ ও উদ্বুদ্ধ করতে পারছি। এতে করে তাদের বেকার সমস্যার সমাধান হচ্ছে। ইতো মধ্যে আমার এই চাষের পদ্ধতি দেখে অনেকেই এই চাষে ঝুকে পড়েছে। পাশাপাশি ওয়াল্ড ফিসের সহযোগিতায় শালিখা উপজেলায় প্রান্তিক মৎস্য চাষিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছি। যাতে করে আমার এই চাষ পদ্ধতি প্রত্যেকটি জেলা ও উপজেলার বিশেষ করে বেকার যুবসমাজকে উদ্ভুদ্ধ করতে পারে। আমি চাই আমার চাষ পদ্ধতি দেখে ও অনুসরণ করে অন্যরাও ঝুকে পড়–ক এই চাষে। পাশাপাশি আমি মাছের খামারীদের মাছের বিভিন্ন রোগের সমাধানের জন্য উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যায়।

x

Check Also

মাগুরায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে তরুণ ক্রিকেটার হত্যা

 রাস্তায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে হত্যা ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একইরকম ঘটনা ঘটল মাগুরা ...