সাম্প্রতিক

ছাত্রীদের সাইকেলে যাতায়াত

নড়াইল সদর উপজেলার গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক ছাত্রী শিক্ষার আলোয় নিজেদের গড়তে এখন সাইকেল চালিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। চার বছর আগে হাতেগোনা কয়েকজন ছাত্রী সাইকেল নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত শুরু করে।

এরপর এর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। এসব ছাত্রী তাদের বান্ধবীদেরও সাইকেলের পেছনে বসিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করে। বিদ্যালয়েও তাদের এখন আর অনুপস্থিত থাকতে হয় না।

তাই আগের তুলনায় বিদ্যালয়ে এখন পরীক্ষার ফলাফলও অনেক ভালো। সাইকেল চালিয়ে মেয়েদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের ঘটনাটি একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। জানা যায়, নড়াইল শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার শেখহাটি ইউপির গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিদ্যালয়টিতে নড়াইল সদর ও যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।

দুটি উপজেলার মালিয়াট, বাকলি, হাতিয়াড়া, গুয়াখোলা, বেনাহাটি, কমলাপুরসহ এগারোটি গ্রামের ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় তিনশ’। বিদ্যালয়টি দুই জেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় এলাকাটি অনেকটা অবহেলিত এবং অধিকাংশ রাস্তাঘাট কাঁচা। ৫-৭ কিলোমিটার দূরের শিক্ষার্থীরা এ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। ৪-৫ বছর আগে ছেলেরা সাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করলেও মেয়েদের ভ্যানে ও পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হতো।

দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের যৌথ প্রয়াসে মেয়েদের সাইকেল ক্রয় করে দেয়া হয়। বাবা-মায়ের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেয়া, বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে বখাটের উপদ্রবের মতো অনেক সমস্যারই সমাধান করে দিয়েছে এ বাইসাইকেল। দশম শ্রেণীর ছাত্রী শান্তনা গুপ্ত বলেন, ‘আমার বাড়ি সদর উপজেলার বাকলি গ্রামে। বিদ্যালয় থেকে দূরত্ব ৫ কিলোমিটার।

একসময় ভ্যানে ও পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতাম। ঠিকমতো ক্লাস ধরতে পারতাম না। তখন আমরা কয়েকজন ছাত্রী মনে করলাম ছেলেরা যদি সাইকেল চালিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারব না? শিক্ষকরাও আমাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে সাইকেল ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেয়।’ প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, ‘গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। এ বিদ্যালয়টিতে প্রায় তিনশ’ ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না