সাম্প্রতিক

কবি আল মাহমুদের ইন্তেকালে কিশোর কণ্ঠের শোক

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি, কিশোরকণ্ঠের প্রধান উপদেষ্টা, কবি আল মাহমুদের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মাসিক কিশোরকণ্ঠের সম্পাদক কবি মোশাররফ হোসেন খান।

এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, কবির মৃত্যুতে বাংলাদেশের জনগণের মত কিশোরকণ্ঠ পরিবারও গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।

তিনি বলেন, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি আল মাহমুদ। কবিতা, গল্প এবং উপন্যাসসহ সকল শাখাতেই বিচরণ রয়েছে এই মহান কবির। তিনি ছিলেন একাধারে ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কথাশিল্পী, শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক। তবে কবি হিসেবেই ব্যাপক পরিচিত। তিনি কবিতাকে চেতনায় ও বাকভঙ্গিতে নতুন আঙ্গিকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার অনবদ্য সৃষ্টি লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালী কাবিন বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তাছাড়াও মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, বখতিয়ারের ঘোড়া, দ্বিতীয় ভাঙ্গন, একটি পাখি লেজ ঝোলা, পাখির কাছে ফুলের কাছে, আল মাহমুদের অনন্য কাব্য গ্রন্থ। গল্প লিখেছেন প্রচুর। গল্পসমগ্র, যেভাবে বেড়ে উঠি, কিশোর সমগ্র, কবির আত্মবিশ্বাস, কবিতাসমগ্র, কবিতাসমগ্র-২, পানকৌড়ির রক্ত, সৌরভের কাছে পরাজিত, গন্ধ বণিক, ত্রিশেরা, উড়াল কাব্যসহ বিভিন্ন সৃষ্টি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সাহিত্যে অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, শিশু একাডেমি পুরস্কার, ফররুখ স্মৃতি পুরস্কার, জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই কবি। বাঙ্গালি জাতির নিজস্ব সাহিত্য সত্তা ও সংস্কৃতিতে তার ভূমিকা অতুলনীয়। কিশোরকন্ঠ পত্রিকাকে জনপ্রিয়তায় পৌছাতে তার পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিশোরকণ্ঠ পরিবারের প্রতি তার ভালবাসা ও প্রত্যাশা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বাংলা সাহিত্য জগতে তিনি প্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবেন অনন্ত কাল। বাংলাদেশের মানুষ তাকে চিরদিন শ্রদ্ধার সাথেই স্মরণ করবেন।

তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবার যেন ধৈর্য্যধারণ করতে পারেন সেজন্য তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।