সাম্প্রতিক

সুস্থ থাকতে বেশি করে হাঁটুন

 হাঁটা শরীরের পক্ষে উপকারী একথা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু হাঁটা শরীরের জন্য কেন এতো গুরত্বপূর্ণ? এখনই হয়তো নেট ঘেঁটে প্রশ্নের উত্তরটি জেনে নিতে পারবেন। তবে বিশেষ বিশেষ কারণে হাঁটা যেখানে খুব উপকারী, তার কিছু টিপস রইল আপনাদের জন্য…

১. সুস্থ হৃদপিণ্ড, সুন্দর জীবন পেতে
যারা নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন তাদের হার্টের অসুখ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। এছাড়া হাঁটার সময় শরীর থেকে ক্ষতিকর কোলেস্টরল এলডিআর কমে যায় ও ভালো কোলেস্টেরল এইচডিআর-এর মাত্রা বেড়ে যায়। শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে যায়। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করলে শতকরা ২৭ ভাগ পর্যন্ত উচ্চরক্তচাপজনিত সমস্যা কমে। ফলে হার্টের বিভিন্ন রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়। রক্তে চিনির মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে ও স্থূলতার ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত হাঁটা একান্ত দরকার।
২. শরীর সুস্থ রাখতে
যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তারা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন। কিন্তু কেন? রোজ হাঁটলে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি একদম কমে যায়। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের প্রকাশিত তথ্যে পাওয়া যায়, নিয়মিত হাঁটলে ৬০ ভাগ পর্যন্ত কোলন ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। এটা স্বাস্থ্যের জন্যও খুব ভালো
৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে
ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য অসাধারণ ব্যায়াম হল হাঁটা। যদি ওজন কমাতে চান, তবে প্রতিদিন ৬০০ ক্যালরি শরীর থেকে ঝরিয়ে ফেলতে হবে, যা একদিনের খাবার থেকে প্রাপ্ত ক্যালরির চেয়ে বেশি। যার ওজন ৬০ কেজি তিনি যদি প্রতিদিন ঘণ্টায় ২ মাইল গতিতে ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করেন, তাহলে ৭৫ ক্যালরি শক্তিক্ষয় করতে পারেন। যদি ঘণ্টায় ৩ মাইল গতিতে হাঁটতে অভ্যস্ত হন তবে, ৯৯ ক্যালরি পুড়িয়ে ফেলতে পারেন। ঘণ্টায় ৪ মাইল গতিতে হাঁটলে আরও বেশি ক্যালরি ক্ষয় করতে পারবেন। এতে ক্যালরি ক্ষয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৫০। হাঁটলে দেহের পেশিগুলো আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
৪. স্মৃতিশক্তি বাড়াতে
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের স্মৃতিশক্তি কমে যায়। ৬৫ বা এর বেশি বয়সীদের মধ্যে প্রতি ১৪ জনের মধ্যে ১ জনের স্মৃতিভ্রম হয়। নিয়মিত বিভিন্ন ব্যায়াম অনুশীলনে মস্তিষ্কে রক্তচলাচল বাড়ে। এতে স্মৃতিহানি হওয়ার ঝুঁকি ৪০ ভাগ কমে যায়। বয়স্কদের মধ্যে যারা সপ্তাহে অন্তত ৬ মাইল পথ হাঁটেন তাদের স্মৃতিশক্তি অটুট থাকে।
সুস্থ থাকতে বেশি করে হাঁটুন

৫. গাঁটের ব্যথা নিরাময়ে

নিয়মিত হাঁটাচলা করলে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথার ঝুঁকি কমে যায়। সাধারণত বয়স বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে মহিলাদের শরীরের বিভিন্ন হাড় ও সংযোগস্থলে ব্যথা করে। শরীরের জয়েন্টগুলোকে সুস্থ রাখতে হাঁটা নিঃসন্দেহে খুবই কার্যকর ব্যায়াম।
৬. পায়ের শক্তি বাড়াতে
হাঁটলে শুধু পায়ের শক্তিই বাড়ে না পায়ের আঙুলেরও ব্যায়াম হয়। শুধু তাই নয়, কোমর এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গ নড়াচড়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ থাকে।
৭. পেশিশক্তি বাড়াতে
হাঁটলে শুধু পা চলে না দুহাতও সমান তালে চলে। এতে হাতের প্রতিটি জয়েন্ট, ঘাড় ও কাঁধের ব্যয়াম হয়। এতে ব্যাকপেইনের সমস্যা কমে যেতে পারে।
৮. ভিটামিন ডি-র অভাব পূরণ করতে
দিনের আলোতে, বিশেষ করে সকালে হাঁটার অভ্যাস করলে শরীর ভিটামিন ডি-তে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। দৈনন্দিন খাবার থেকে খুব অল্প পরিমাণে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কয়েকজন গবেষক, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ৪,৪৪৩ জনের শরীরে ভিটামিন ডি-এর প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাতে দেখা গিয়েছে যাদের শরীরে ভিটামিন ডি পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে, তারা অন্যদের তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ সময় রোগটির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকতে পারেন।
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, ভিটামিন-ডি অন্যান্য কোষের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে। এতে ক্যান্সারে আক্রান্ত কোষ সহজে অন্যকোষে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। এ জন্য হাঁটা হতে পারে উত্তম ব্যায়াম।
৯. প্রাণবন্ত শরীর ও মনের অধিকারী হতে
সকালের প্রকৃতি এমনিতেই থাকে স্নিগ্ধ। এ সময় হাঁটার মজাটাই আলাদা। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের সময় মন স্বাভাবিকভাবেই ফুরফুরে থাকে, শরীর ও মন সতেজ হয়। শরীরের প্রতিটি জয়েন্টে অক্সিজেনের প্রাণ-প্রবাহে মাংসপেশীগুলো শিথিল ও রিলাক্সড হয়।
১০. আমার মতো সুখী কে আছে
প্রতিক্ষণ যাদের নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস, তাদের সঙ্গীর অভাব হয় না। একজন আরেকজনের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্তগুলো ভাগাভাগি করেন। সামাজিক পরিমণ্ডলে প্রভাব বাড়ার পাশাপাশি মানসিক চাপ ও টেনশন কমতে শুরু করে।