সাম্প্রতিক

ব্রেন টিউমার হলে করণীয়

 ব্রেন টিউমার শব্দটা শুনলেই মুত্যুভয় পেয়ে বসে। সব মস্তিষ্কের টিউমারের নিরাময় অসম্ভব নয়। অনেক ব্রেন টিউমার অপারেশনের মাধ্যমে পুরোপুরি নির্মূল করা যায়। এ ধরনের টিউমারে আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারে। এ জটিল অপারেশন এখন আমাদের দেশেই সম্ভব।
ব্রেন বা মস্তিষ্কের টিউমারের উৎপত্তি প্রধানত দুটি উৎস থেকে। একটি হল অন্য কলা বা কোষ থেকে উৎপন্ন ম্যালিগন্যান্ট টিউমার, যা মস্তিষ্কে রক্ত সংবহন, লসিকাগ্রন্থি বাস্নায়ুরস যেমন সিএসএফের সাহায্যে মেটাসটেসিস বা দ্বিতীয় হিসেবে আসে।
দ্বিতীয়টি মস্তিষ্কের বা ব্রেনের প্রাইমারি বা মস্তিষ্কের কোষ কলা থেকে প্রত্যক্ষভাবে তৈরি প্রাথমিক টিউমার। মেটাসটাটিক ব্রেন টিউমার প্রধানত আসে ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সার থেকে। যেমন এর প্রধান উৎস হল ফুসফুসের ক্যান্সার, স্তন বা ব্রেস্ট ক্যান্সার, অন্ত্রের ক্যান্সার, রক্ত ক্যান্সার বা লিউকেমিয়া।
লক্ষণ
যে কোনো ব্রেন টিউমার বা ক্যান্সারের প্রধান লক্ষণ হল মাথাব্যথা। এটা সাধারণত মস্তিষ্কের মধ্যে প্রেসার বাড়ার কারণে হয়ে থাকে, যাকে বেশি ইন্ট্রাক্রানিয়াল প্রেসার বলে। এ ব্যথার কারণ হল ট্রাকশান বা নড়াচড়া এবং ব্যথা বহনকারীস্নায়ুর উত্তেজনা। ব্রেনের কোনো স্থানে ক্যান্সার সৃষ্টি হলে এর সঙ্গে মাথা ব্যথার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে সাধারণত মাথার পেছনে বা অক্সিপিটাল এলাকায় ক্যান্সার বা টিউমার হলে মাথা ব্যথা, মাথার পেছন এবং ঘাড়ে অনুভূত হবে।
খিঁচুনি
ব্রেনের টিউমার বা ক্যান্সারের আরেকটি প্রধান লক্ষণ হল খিঁচুনি হওয়া। এ খিঁচুনি শরীরজুড়ে বা জেনারালাইজড অথবা স্থানীয় কোনো অঙ্গে বা লোকালাইজড হিসেবে প্রকাশ পায়। যদিও খিঁচুনি অন্যান্য রোগ যেমন মৃগী বা এপিলেপসি, হাইড্রোকেফালাস, রক্তজমা বা অন্য যে কোনো কারণে, আবার যখন মাথার মধ্যে ইন্ট্রাক্রেনিয়াল প্রেসার বেড়ে গেলে হতে পারে। ফোকাল ডেফিসিট

খিঁচুনির সঙ্গে ব্রেনের কোনো জায়গায় টিউমার বা ক্যান্সার হয়েছে তার লক্ষণ প্রকাশ পাবে। যেমন ব্রেনের ফ্রন্টাল লোব বা সামনের অংশে টিউমার বা ক্যান্সার হলে ব্যক্তিগত, সামাজিক আচরণগত পরিবর্তন, প্যারাইটাল লোবে টিউমার বা ক্যান্সার হলে কথাজড়তা, হিসাবে গরমিল; টেমপোরাল লোবে ক্যান্সার বা টিউমার হলে কানে সমস্যা, গন্ধের সমস্যা পেছনের দিকে বা অক্সিপিটাল লোবে টিউমার বা ক্যান্সার হলে দৃষ্টিশক্তির অসুবিধা হবে।

রোগ নির্ণয় যত শিগগিরই সম্ভব নিউরোমেডিসিন বা নিউরোসার্জারির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখিয়ে নিচের রোগ নির্ণয়ক পরীক্ষাগুলো করাতে হবে।
* স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা দেখার জন্য ইলেক্ট্রো এনকেফালোগ্রাফি বা ইইজি।

* স্নায়ুতন্ত্রের পরিবহন ক্ষমতা বা নার্ভ কন্ডাকশান টেস্ট বা ইলেক্ট্রমায়োগ্রাফি রেডিওলজি বা ইমেজিং যেমন  ব্রেনের সিটিস্ক্যান এবং এমআরআই যে কোনো ধরনের ব্রেনের রোগ নির্ণয়ের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট।

* সিটি গাইডেড এফএনএসি_ যে কোনো টিউমার বা ক্যান্সার রোগ নির্ণয়ে অত্যন্ত নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা। এর সুবিধা হল রোগীকে অজ্ঞান করতে হয় না এবং একের অধিকবার এ টেস্ট করা যাবে।
* স্টেরিওস্কোপিক বায়োপসি_ নির্ভুল রোগ নির্ণয়ের জন্য ব্রেন টিউমার বা ক্যান্সারে আক্রান্ত কোষ কলার কিছু অংশ কেটে বের করে, বিশেষ স্টেইনের মাধ্যমে মাইক্রোসকোপের নিচে পরীক্ষা করা।
* সিএসএফ বা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুয়িড পরীক্ষা_ লাম্বার পাংচার করে স্নায়ুরস বা সিএসএফ পরীক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি পরীক্ষা।