সাম্প্রতিক
দেরি করে রাতের খাওয়া মানেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা, জানাল গবেষণা

দেরি করে রাতের খাওয়া মানেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা, জানাল গবেষণা

 দেরি করে রাতের খাওয়া মানেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা, জানাল গবেষণা


দেরি করে রাতের খাওয়া মানেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা, জানাল গবেষণা

সাম্প্রতিক একটি গবেষণা বলছে, রাতের খাওয়া সারতে যদি দেরি হয় তবে বাড়ে রক্তচাপজনিত অসুখের সমস্যা। বিশদে জেনে নিন, ঠিক কী বলছে গবেষণা…

বাঙালি বা ভারতীয়রা ডিনার বলতে বোঝেন, রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগের খাবার। এদেশীয়রা লাঞ্চ বা ডিনার বলতে শিখেছেন ইংরেজদের থেকে। কিন্তু খাঁটি ইংরেজ জীবনযাপনের আদবকায়দা মতে, ডিনার করতে হয় সন্ধে ৬টা নাগাদ। সাতটার মধ্যে ডিনার সেরে কিঞ্চিৎ গল্পগুজব, হাঁটতে বেরোনো ইত্যাদির পরে, রাতে শোওয়ার আগে হালকা ‘সাপার’। এটি কিন্তু শুধু ব্রিটেন নয়, মোটামুটিভাবে গোটা ইউরোপের বনেদি গৃহস্থ-রীতি।

আধুনিক জীবনযাপনে এসে সেই রীতি থেকে ইউরোপীয়রা অনেকেই বেরিয়ে গিয়েছেন, আমেরিকানরাও তাই। আর এদেশে তো রাতের খাবার অনেকটা দেরি করে খেতেই অভ্যস্ত সবাই। তাও বছর চল্লিশ-পঞ্চাশ আগে, যখন ঘরে ঘরে টেলিভিশন আর লেট-নাইট শোয়ের হাতছানি ছিল না, বাঙালি বা ভারতীয়রা তখন ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে খেয়েদেয়ে শুয়ে পড়তেন। সাম্প্রতিক একটি গবেষণা বলছে, সন্ধে সাতটা নাগাদ রাতের খাবার খেয়ে নেওয়াই স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল।

তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এব্রু ওজপেলিত এই বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন। তিনি এবং তাঁর গবেষণা-দলের বক্তব্য, রাতে ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত দু’ঘণ্টা আগে ডিনার সেরে নেওয়া উচিত। কারণ, খাওয়া-দাওয়ার সময়ে শরীরে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ঘুমোনোর সময় যদি সেই রক্তচাপ অন্তত ১০ শতাংশও না কমে, তবে হৃদযন্ত্রে সমস্যা হতে পারে, কার্ডিওভাসকুলার অ্যাটাকের সম্ভাবনাও বাড়ে।এব্রু এবং তাঁর টিমের সদস্যরা এই বিষয়ে সমীক্ষা করে দেখেছেন, যাঁরা রাতে দেরি করে খান এবং তার পরেই ঘুমোতে যান, তাঁদের মধ্যে রক্তচাপজনিত অসুখের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তাই এব্রুর বক্তব্য, যতটা সম্ভব ভারী খাবার দিনের মধ্যে খেয়ে নেওয়াই ভাল আর ডিনার সারতে হবে সন্ধে সাতটার আগেই যাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে অন্ততপক্ষে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা হাতে সময় থাকে। গবেষকদের বক্তব্য, রাতে খাবার খাওয়ার পরেই ঘুমোতে গেলে শরীর তখনও পুরোপুরি রিল্যাক্স করে না এবং শরীরে স্ট্রেস হরমোনগুলি নিঃসৃত হতে থাকে। এই কারণেই রক্তচাপ কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারে না এবং কার্ডিওভাসকুলার অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।