সাম্প্রতিক
আক্রান্তদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার পরামর্শ
আক্রান্তদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার পরামর্শ

আক্রান্তদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার পরামর্শ

স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন ‘ব্রেস্ট ক্যান্সার এওয়ারনেস ফোরামে’র প্রধান সমন্বয়ক ডা: মো: হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। তিনি স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস-২০১৬ উপলক্ষ্যে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে এই আহ্বান জানান।

ক্যান্সার নিয়ে কাজ করে এমন ১৯টি সংগঠনের জোট বাংলাদেশে ‘ব্রেস্ট ক্যান্সার এওয়ারনেস ফোরাম’ স্তন ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর দিবসটি উদযাপন করে আসছে।

এই দিবস উপলক্ষ্যে ডা: মো: হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলেন, অনেক সময় দেখা যাচ্ছে একজন নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার পর তার ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে এবং তাকে বাবার বাড়িতে ফিরে আসতে হয়। এর পর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতেও অনেককে হিমশিম খেতে হয়। অনেকের পক্ষে সম্ভবও হয় না।

এই অবস্থায় স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনলে গরীব রোগীদের জন্য তা অনেক সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি।

‘স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তরা কি সামাজিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়ছেন?’ বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলেন, সামাজিকভাবে যথেষ্ট হেয় প্রতিপন্ন করা হয় বলে বিভিন্ন উদাহরণ দেখা যায়।

সমাজের ধনী-গরীব শিক্ষিত ও অশিক্ষিত অনেক পরিবারেই স্তন ক্যান্সারের কারণে ডিভোর্সের উদাহরণ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সী ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার বা আইএআরসি’র হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর নতুন করে ১৫ হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং এর মধ্যে ৭ হাজারই মৃত্যুবরণ করে।

দেশে স্তন ক্যান্সার নিয়ে নারীদের মধ্যে কিছুটা হলেও সচেতনতা বাড়লেও চিকিৎসা সুবিধা এখনও অপ্রতুল বলে উল্লেখ করেন হাবিবুল্লাহ। তিনি মনে করেন, যেভাবে এ বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে পড়া প্রয়োজন ছিল সেভাবে হয়নি।

একারণেই হয়তো স্তন ক্যান্সার আক্রান্তদের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য সরকার টাঙ্গাইলে যে পাইলট প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে সেখানে বিশেষ কেউ যাচ্ছে না।

দিবসটি উপলক্ষ্যে সকাল ৯টায় রাজধানীর শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশবিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সামনে থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত একটি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় ঢাকার ১০টি স্পটে লিফলেট বিতরণ, ছায়ানট ভবনে বিকেলে ও সন্ধ্যায় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।