সাম্প্রতিক
অসহ্য গরমে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে শসা খান
অসহ্য গরমে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে শসা খান

অসহ্য গরমে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে শসা খান

অসহ্য গরমে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে শসা খান

অসহ্য গরমে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে শসা খান

স্বাস্থ্য ডেস্ক : যেভাবে গরম বাড়ছে, তাতে শরীর চাঙ্গা এবং রোগমুক্ত রাখতে শসার কোনো বিকল্প নেই। আসলে গবেষণাতেই দেখা গেছে প্রতিদিন শসা খেলে শরীরে পানির মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে রোগমুক্ত জীবন পেতে পারেন। সেই সঙ্গে আরো নানা উপকার পাওয়া যায়, বিস্তারিত সেসব আলোচনা করা হলো-

১. হার্ট ভালো রাখে: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত শসা খাওয়া শুরু করলে শরীরে পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এর প্রভাবে হার্টের ক্ষমতা এতটা বেড়ে যায় যে কোনো ধরনের হার্টের রোগ ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। এই কারণেই তো যাদের পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের প্রতিদিনের ডায়েটে শসাকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

২. খনিজের ঘাটতি দূর হয়: খেয়াল করে দেখবেন অনেকেই ত্বকের পরিচর্যায় শসা ব্যবহার করেন। শসার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম এবং সিলিকন। এই সবকটি খনিজ শরীরের উন্নতির পাশাপাশি ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যদি অল্প দিনেই তরতাজা ত্বক পেতে চান, তাহলে শসা লাগান ত্বকে।

৩. গরমের সময় দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে: প্রতিদিন গরম যাচ্ছে বেড়ে। এমন অবস্থায় দেহের তাপামাত্রা স্বাভাবিক রাখতে শাসা খাওয়াটা জরুরি। কারণ শসা দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে সানস্ট্রোকস হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। শুধু তাই নয়, প্রচন্ড তাপদাহের কারণে ত্বক পুড়ে গেলেও শসা লাগাতে পারেন। কারণ পোড়া ভাব কমাতে শসা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৪. কনস্টিপেশনের মতো রোগের প্রকোপ কমে: কোষ্ঠকাঠিন্য হয়? তাহলে আজ থেকেই শসা খাওয়া শুরু করা উচিত। কারণ এ ধরনের কষ্ট কমতে বাস্তবিকই শসার কোনো বিকল্প হয় না। আসলে এই সবজিতে থাকা ফাইবার, শরীরের ভিতরে বর্জ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো রোগের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না।

৫. শরীর বিষমুক্ত হয়: শসা শরীরের ইতি উতি জমে থাকা টক্সিক উপাদান ধুয়ে মুছে বের করে দেয়। ফলে শরীরে বিষের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে কোনো ধরনের রোগ হওয়ার আশঙ্কা কমে।

৬. ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ দূরে থাকে: এই গরমে সকলেরই সাবধান থাকাটা একান্ত প্রয়োজন। কারণ প্রতি বছর নতুন করে ক্যান্সার রোগে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই সেই সব খাবার বেশি করে খাওয়া উচিত যাতে এই মরণ ব্যধি দূরে থাকে। এক্ষেত্রে শসাকে বাদ দেওয়া কোনো ভাবেই চলবে না। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে শসাতে এমন কিছু উপাদান আছে, যা ক্যান্সার রোগকে প্রতিরোধ করতে বিশেষ ভাবে সাহায্য করে থাকে।

৭. ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা কমে: অতিরিক্ত ওজনের কারণে কি চিন্তায় রয়েছেন? তাহলে সকাল-বিকাল শসা খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে। কারণ শসাতে উপস্থিত বেশ কিছু উপকারি উপাদান শরীরে মজুত অতিরিক্ত চর্বি ঝরাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৮. পানির ঘাটতি মেটে: দেহে পানির মাত্রা স্বাভাবিক থাকাটা একান্ত প্রয়োজন। না হলে শরীর শুকিয়ে গিয়ে একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই তো প্রতিদিন শসা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। তাদের মতে শসার শরীরে এত মাত্রায় পানি আছে, প্রায় ৯৬ শতাংশ, যে খুব সহজেই পানির ঘাটতি দূর করে ডিহাইড্রেশন হওয়ার আশঙ্কা কমানো সম্ভব।

৯. ভিটামিনের ঘাটতি মেটে: শরীরকে সচল রাখতে ভিটামিনের প্রয়োজন পড়ে। সেই ভিটামিনের যোগান ঠিক রাখতে শাসা খাওয়া মাস্ট! কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, বি এবং এ থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি এনার্জির ঘাটতি দূর করতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

১০. ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায় : শসাতে সিলিকা নামক একটি উপদান রয়েছে, যা শরীরে প্রবেশ করে কোষের কর্মক্ষমতাকে বাড়িতে তোলে। ফলে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি তো পায়েই, সেই সঙ্গে শরীরের প্রতিটি পেশী, লিগামেন্ট এবং হাড়ের শক্তিও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এখানেই শেষ নয়, শসা খাওয়া শুরু করলে দেহে পানির পরিমাণ বাড়তে শুরু করে। ফলে ত্বকের ভিতরে জমে থাকা টক্সিক উপাদান বেরিয়ে য়ায়। ত্বকের বয়সও কমতে শুরু করে।

১১. ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে: একেবারে ঠিক শুনেছেন ব্লাড সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাস্তবিকই এই ফলটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসলে শসা খাওয়া মাত্র শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে ডায়াবেটিস সম্পর্কিত অন্যান্য সমস্যা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না