সাম্প্রতিক
মোস্তাফিজ ফরায়েজী জেরী
মোস্তাফিজ ফরায়েজী জেরী

নারী অধিকার

মোস্তাফিজ ফরায়েজী জেরী

মোস্তাফিজ ফরায়েজী জেরী

নারীদের অধিকার নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলে, নারীদের যতটুকু না দেখেছি এ নিয়ে চিন্তা করতে তার চেয়ে বোধহয় পুরুষরা বেশি চিন্তা করে। নারীরা এ বিষয়ে অনেকটা উদাসীন। অনেক উচ্চশিক্ষিত নারীরাও। আমাদের বর্তমান সমাজে নারীরা ইচ্ছে করলেই সমাজের বিরুদ্ধে যেতে পারে, দু’চারটা কুরুচিপূর্ণ কাজ করতে পারে, তবে নিজের অধিকার বুঝে নিতে পারে না। বড্ড হীন কথা হলেও এটাই সত্যি। আধুনিক থেকে উত্তরাধুনিক পোশাক আর ফেসবুকে ছবি পোস্ট করাই তাদের কাজ হয়ে উঠেছে। উচ্চ শিক্ষা লাভ করেও অনেকে বরের ঘরে বসে থাকতেই পছন্দ করে। অলস জীবন, বদ্ধ ঘরের বাসিন্দা হবার জন্য তাদেরকে যতটা না পুরুষরা বাধ্য করছে তার চেয়ে নিজেরা নিজেদের আবদ্ধ রাখছে। তাদের মানসিক এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আবার যারা প্রেস্ক্রিপশন দিয়ে থাকেন তাদেরকে এ সমাজের লোকেরা কীভাবে দেখে তা সবাই জানে। তারা ধরম-অধর্মকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে নারী জাগরণের বুলি ছোড়েন। যেহেতু অধর্ম আমাদের এখানে একটি ধর্ম সেহেতু তাকে কতজনে গ্রহণ করে নিজের ধর্মকে বিসর্জন দেবে এটা বড় প্রশ্ন। অধর্মকে এদেশে ধর্ম বলছি একারণে যে, তারা ধার্মিকদের মতো অধর্মকে প্রচার করে, আবার অধর্মের বিরুদ্ধে কথা শুনলে তারা চড়াও হয়। যদিও তারা এখনো জঙ্গীদের মত অস্ত্র তুলে নেয় নি, তবে অদূর ভবিষ্যতে কী করবে বলা মুশকিল। ওদের কথা বাদ দিলাম, ওদের দিয়ে সমাজের কী উন্নতি বা অবনতি সাধন হবে তা আমার আলোচ্য বিষয় নয়। আমার আলোচ্য বিষয় নারী অধিকার। নারীদের যদি তাদের পর্যাপ্ত অধিকার বুঝে নিতে হয় তবে অবশ্যই তাদের জ্ঞান অর্জনের প্রতি জোর দিতে হবে। আপনারা একটু লক্ষ্য করলেই বুঝবেন, ফেসবুকে যত পুরুষ-নারীরা পোস্ট দেয় তার ভিতর পুরুষদের পোস্টে অধিক জ্ঞানের সন্ধান পাওয়া যায়, অন্যদিকে নারীরা অনেকটাই শুধু নিজের অনুভূতি নিয়ে কাজ কারবার করে। গত লাইনে পুরুষ-নারী লেখাতে তারা তাদের আত্মমর্যাদা গেল বলে আহাজারি করতে পারে, এতে করে তারা শুধু বোঝাবে তারা কত অসহায়। মোদ্দাকথা ওরা নিজেরাই সচেতন নয়, ওরা শুধু নিজেদের পক্ষে কিছু সহানূভুতিসম্পন্ন কথা শুনতেই ভালোবাসে। একারণে অদূর ভবিষ্যতে তাদের মানসিক প্রবৃদ্ধি লাভের কোন লক্ষণ আমি দেখি না। বরং আমি দেখি তারা শুধু তাদের পোশাক-আশাকে পাশ্চাত্যের একটা ভাব নিয়েই মনে করবে আমাদের অধিকার আদায় হয়েছে অথবা স্বামীর কাছে আবদার করে সপ্তাহে দু’দিন বসুন্ধরা শপিং মল কিংবা যমুনা ফিউচার পার্কে গিয়ে পোশাক কিনেই ভাববে আমাদের অধিকার এইতো আদায় হল, এইতো আমরা চাই। যতদিন না একটা চড় সহ্য করার ক্ষমতা নারীদের না হচ্ছে, ততদিন নারী অধিকার আদায় হচ্ছে না। বরং তারা আজীবন ওই চড়ের জন্য আদালতে চড়াকারের বিরুদ্ধে মামলা করতেই ব্যস্ত থাকবে, অন্যদিকে একটা নারীর চড় খেয়ে একটা পুরুষ শুধু মুচকি হেসে ভুলে যাবে অথবা সেই চড়ের প্রতিশোধ খুব একটা বেশি হবে না, আপাতত বলতে পারি পুরুষটি কখনোই আদালতে যাবে না।

x

Check Also

নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আ. লীগ লজ্জাজনক সংখ্যালঘুতে পরিণত হবে : ভারতীয় কূটনীতিক

মোঃ মিজানুর রহমান (সহঃ বার্তা সম্পাদক): বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী দক্ষিণ এশিয়া ...