সাম্প্রতিক

আগে সন্ত্রাস দমন, পরে সংলাপ: ড. শফিউল আলম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেছেন, রাজনৈতিক সংকট নিরসনের একমাত্র উপায় সংলাপ। সন্ত্রাস দিয়ে রাজনৈতিক সংকট নিরসন অসম্ভব। রাজনীতির নামে এখন যা হচ্ছে সেটা সন্ত্রাস। আগে সন্ত্রাস সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, তারপর সংলাপে বসতে হবে। ১৬ কোটি মানুষের জীবন হুমকির মুখে রেখে রাজনৈতিক সমাধান হতে পারে না। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারলেই কেবল সংলাপের পরিবেশ তৈরি হবে। ঢাকাটাইমস টুয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদক আবু রাকিবের সঙ্গে কথা হয় এই অধ্যাপকের সঙ্গে
বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের ঢাকা হরতাল-অবরোধে দেশ প্রায় অচল এবং এতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আপনি কি বলবেন?
ঢাবির শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যঘাত খুব একটা হয় না। কারণ বেশিরভাগ বিভাগেরই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, অবরোধে ক্লাসও হচ্ছে। তবে যেটা হয় সেটা হচ্ছে-ছাত্রছাত্রীরা ভয় আতঙ্ক নিয়ে ক্লাসে আসে। আবার অনেকে ভয়ে ক্লাসে আসে না। তবে হরতাল ডাকলে ক্লাসে সমস্যা হয়।
চলমান আন্দোলনে ঢাবিতে সেশনজটের কোন শঙ্কা আছে কি?
এই মুহূর্তে তো সেশনজটের কোন শঙ্কা নেই। তবে এরূপ সংকট চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সেশনজটের সৃষ্টি হতে পারে।
দেশের চলমান সংকট নিরসনে কি করা উচিত বলে মনে করেন?
যে কোন রাজনৈতিক সংকট নিরসনের উপায় হল সংলাপ। কিন্তু এখন যেটা হচ্ছে সেটা সন্ত্রাস। আগে সন্ত্রাস সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, তারপর সংলাপ হলে হতে পারে। কিন্তু আমি মনে করি এই মুহূর্তে সংলাপের কোন পরিবেশ নেই। তাছাড়া কোকোর মৃত্যুতে হাসিনাকে খালেদার বাসায় ঢুকতে না দেওয়ায় বিএনপির সংলাপ না করার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
আপনি কি মনে করেন প্রধানমন্ত্রীকে খালেদা জিয়ার বাসায় ঢুকতে না দেওয়ায় সংলাপের পথ বন্ধ হয়ে গেছে?
একজনের বাসায় গেলে তাকে ভেতরে নেয়া আমাদের দেশে দীর্ঘ দিনের একটা প্রতিষ্ঠিত কালচার। তবে প্রধানমন্ত্রী যখন খালেদা জিয়াকে সান্ত¦ দিতে তার বাসায় গেলেন তাকে স্বাগত জানানো উচিত ছিল। এই কালচারটা আমরা সবাই মেনে চলি। এটা আসলে যারা ঢুকতে দেয়নি তদের মনের বহি:প্রকাশ। এটা অবশ্যই সংলাপে একটা প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করবে।
সহিংস পরিস্থিতি মোকাবেলায় যে কোন পদক্ষেপ নিলে তার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নেবেন বলে যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে সে ব্যাপারে আপনি বলবেন?
যে কোন পদক্ষেপে অপপ্রয়োগের একটা শঙ্কা থাকইে পারে। তবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সেক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে যারা প্রকৃত অপরাধী তারাই যেন এর আওতায় পরে।
খালেদা জিয়াকে যদি গ্রেপ্তার করা হয় তাহলে দেশে কি অবস্থার সৃস্টি হতে পারে বলে মনে করেন?
দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এক. তার দলের নেতা কর্মীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। দুই. নেতাকর্মীরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে উঠতে পারে।
সরকারের উপর কোন আন্তর্জাতিক চাপ আছে বলে মনে করেন?
আমি কোন আন্তর্জাতিক চাপ দেখছি না, তবে সবাই উদ্বিগ্ন। দেশের আইন শৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষা করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় কাজ সরকারের। আর জন্য সরকারকে কাজ করতে হবে।
অধ্যাপক ড. শফিউল আলম ভূঁইয়া, চেয়ারম্যান, ফিল্ম এ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, ঢাবি

x

Check Also

নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আ. লীগ লজ্জাজনক সংখ্যালঘুতে পরিণত হবে : ভারতীয় কূটনীতিক

মোঃ মিজানুর রহমান (সহঃ বার্তা সম্পাদক): বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী দক্ষিণ এশিয়া ...