সাম্প্রতিক

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ভুট্টাব্যবসায়ীদের কাছে চাষীরা জিম্মি

স্টাফ রিপোটার : চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ভুট্টাব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি চাষীরা, ভুট্টার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশ। জীবননগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১৬,৯৪০ হেক্টর কৃষি উপযোগী জমির মধ্যে, চলতি বছরে প্রায় ৬,৫০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ করে জীবননগরের কৃষকরা। অন্যান্য ফসলের তুলনায় ঝুঁকি কম হওয়ায় এলাকার বেশিরভাগ কৃষকই ভুট্টার আবাদ করে থাকেন, বীজ রোপণের পাঁচ মাসের মধ্যেই কৃষকরা ঘরে তুলতে পারেন এ ফসল। বিঘা প্রতি ৪০ থেকে ৫০ মণ কাঁচাভুট্টা উৎপাদন হয়। প্রতি বিঘায় খরচ হয় ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা, প্রতি বারের মত এবারো ভাল দাম নিয়ে ঘরে ফিরবেন বলে আশায় বুক বেঁধেছিলেন এলাকার কৃষকরা, কিন্তু কাঁচাভুট্টার দাম অতি কম হওয়ায় লাভের পরিবর্তে লোকশান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। প্রতি মণ ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কাঁচাভুট্টা । ভুট্টাচাষী উপজেলার মেদনীপুর গ্রামের আবু তালেব অভিযোগ করে বলেন, জীবননগর বাজারে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, পরিকল্পিতভাবে ভুট্টার বাজার হাতের মুঠোয় রেখে কম দামে ক্রয় করছেন কাঁচাভুট্টা, আর সেই ভুট্টাগুলো নিজেদের চাতালে শুকিয়ে চড়া দামে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রপ্তানি করে লভ্যাংশের পুরোটাই হাতিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা আর লোকসান গুনতে হচ্ছে আমাদের মত সাধারণ ভুট্টাচাষিদের। একই অভিযোগ করেন, কয়া গ্রামের শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত বছর যে দাম ভুট্টাতে পেয়েছি তার চেয়ে অনেক কম দামে ভুট্টা বিক্রি করতে হচ্ছে এ বছর । এবার ভুট্টার যে দাম তাতে করে চাষে যে পরিমাণ খরচ হয়েছে ভুট্টা বিক্রি করে সেই টাকা পাবো কি না তার সন্দেহ আছে । এ দিকে ভুট্টাচাষিরা আরও অভিযোগ করে বলেন, সরকারিভাবে কৃষিপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার কার্যকরী পদক্ষেপ না থাকায় কৃষিপণ্য বিক্রিতে প্রতি নিয়ত ঠকছেন গ্রামের সাধারণ কৃষকরা, তেমনটি ঘটছে ভুট্টার ক্ষেত্রেও। তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ কৃষিপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রেখে অসহায় কৃষকের পাশে দাঁড়াবেন এমনটাই আশাবাদী কৃষকসহ সচেতন মহল।