সাম্প্রতিক

বাংলাদেশের নিচে ভারত: মানতে নারাজ দিল্লি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত নতুন মানবসম্পদ সূচকে (হিউম্যান ক্যাপিটাল ইনডেক্স) ভারতের নিম্নমুখী অবস্থান মেনে নিতে পারছে দেশটির সরকার। ফলে তারা ওই সূচককে প্রত্যাখ্যান করেছে।আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত নতুন মানবসম্পদ সূচকে (হিউম্যান ক্যাপিটাল ইনডেক্স) ভারতের নিম্নমুখী অবস্থান মেনে নিতে পারছে দেশটির সরকার। ফলে তারা ওই সূচককে প্রত্যাখ্যান করেছে।

মানবসম্পদ সূচকে ১৫৭ দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১১৫তম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ পাকিস্তানের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। তারা শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এমনকি এই অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র দেশ নেপালের চেয়েও পিছিয়ে। তাই এই সূচককে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত।

অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে শিশুর মৃত্যুহার রোধ এবং নারী উন্নয়নে ঈর্ষনীয় সাফল্য পেয়েছে দেশটি। ফলে প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ।

কিন্তু এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারছে না নয়াদিল্লি।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেন, ‘সরকার বিশ্বব্যাংকের করা এইচসিআই রিপোর্টকে অগ্রাহ্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ কেননা এখানে শিক্ষা ও শিশুমৃত্যু রোধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের অর্জনগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

তবে এই রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করলেও সরকার দেশের মানব সম্পদ উন্নয়ন বিশেষ করে শিশুদের জীবনকে আরো সহজ করার মত কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী একটি শিশুর বড় হয়ে কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীল হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৪৮ ভাগ। ভারতে এই হার ৪৪ শতাংশ। পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার রোধে-ও বেশ উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। দেশে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৯৭ জন শিশুই ৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। ভারত ও পাকিস্তানে এই হার যথাক্রমে ৯৬ ও ৯৩ শতাংশ।

কিন্তু সূচকের এই তথ্য মানতে নারাজ ভারত। মানবসম্পদ সূচকের সমালোচনা করে অরুণ জেটলি বলেন, এই রিপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁক ছাড়াও প্রধান পদ্ধতিগত দুর্বলতা রয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, স্কুলে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর তালিকাভুক্তির হার ব্যবহার করে পরিমাপ করা হলেও, এখানে টেস্টিং কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক ছাত্রদের প্রধান অর্জনকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে চার বছর বয়সী শিশু স্কুল শুরু করলে ১৮ বছর হওয়ার আগে স্কুলজীবনের ১১ বছর শেষ করতে পারে। অন্যদিকে ভারতে শেষ হয় ১০ দশমিক ২ বছরে। পাকিস্তানে ৮ দশমিক ৮ বছর। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে এটি ১৩ বছর।

বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের বেঁচে থাকার হার শতকরা ৮৭ ভাগ। ১৫ বছর বয়সীদের ৮৭ শতাংশই ৬০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকেন। আর দেশে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে শতকরা ৬৪ ভাগ শিশুই।

ভারতীয় মন্ত্রী দাবি করেন, ভারতের একটি মেয়ে বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পর তার শিক্ষা সম্পূর্ণ করার সুযোগ পেয়ে থাকে। পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রেও তারা সম-অধিকার পেয়ে থাকে।

এদিকে এ সূচকেেএশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। তালিকার সেরা পাঁচে রয়েছে যথাক্রমে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, হংকং ও ফিনল্যান্ড।

এই সূচকে সবচেয়ে বাজে অবস্থানে রয়েছে আফি্রকার দরিদ্র দেশগুলো। বিশ্ব ব্যাংকের সদস্য ১৫৭ দেশের মধ্যে সবার পেছনে রয়েছে শাদ আর সাউথ সুদান।

ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে বার্ষিক বৈঠকে বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিশুমৃত্যু, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয়গুলোর ওপর জরিপ চালিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই সূচক।

সূত্র: এনডিটিভি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না

error: Content is protected !!