সাম্প্রতিক

ফের বাড়লো সোনার দাম

ঢাকা : বাংলাদেশের বাজারে ভালো মানের সোনার ভরি ফের ৫০ হাজার টাকা ছাড়ালো। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস সোনার দাম বাড়ানোর যে ঘোষণা দিয়েছে তাতে মঙ্গলবার থেকে প্রতি ভরি সবচেয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনা ৫০ হাজার ১৫৫ টাকায় বিক্রি হবে।

গত বছরের ১০ জানুয়ারি এই সোনার দর বেড়ে ৫০ হাজার টাকার উপরে উঠেছিল। পরে তা কমে এতোদিন ৫০ হাজার টাকার নীচেই বিক্রি হচ্ছিল।

এক বছর পর ভরিতে এক হাজার ১৬৬ টাকা বেড়ে তা আবারো ৫০ হাজার টাকা ছাড়ালো। ২০১২ সালে অবশ্য এই সোনার দাম বাড়তে বাড়তে প্রায় ৬০ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছিল।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। তিনি বলেন, গোল্ডের আন্তর্জাতিক বাজার চড়া। প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। এছাড়া স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সর্বশেষ চলতি বছরের শুরুতেই (১ জানুয়ারি) সোনার দর ভরিতে দেড় হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছিল। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সবচেয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনা ৫০ হাজার ১৫৫ টাকায় বিক্রি হবে। ২১ ক্যারেট সোনা বিক্রি হবে ৪৭ হাজার ৮২২ টাকা। আর ১৮ ক্যারেট সোনা বিক্রি হবে ৪২ হাজার ৮০৭ টাকায়।

সোমবার পর‌্যন্ত প্রতি ভরি সবচেয়ে ভালো মানের সোনা ৪৮ হাজার ৯৮৯ টাকায় বিক্রি হবে। ২১ ক্যারেট সোনা বিক্রি হবে ৪৬ হাজার ৬৫৬ টাকা। আর ১৮ ক্যারেট সোনা বিক্রি হবে ৪১ হাজার ৬৪০ টাকায়। এ হিসাবে ২২, ২১ এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে এক হাজার ১৬৬ টাকা করে বেড়েছে।

মঙ্গলবার থেকে নতুন দর কার‌্যকর হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাজুস। তবে গ্রামে-গঞ্জে, মফস্বলের ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিপ্রতি আগের ২৭ হাজার ৫৮৫ টাকাই থাকবে বলে জানায় বাজুস।

এর আগে ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট ১৮, ২১ এবং ২২ ক্যারেট সোনার দর এক হাজার ১৬৬ টাকা কমানো হয়েছিল।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ, ২১ ক্যারেটে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ১৮ ক্যারেটে ৭৫ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা থাকে।

সনাতন পদ্ধতির সোনা পুরনো অলঙ্কার গলিয়ে তৈরি করা হয়। এ ক্ষেত্রে কত শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা মিলবে তার কোনো মানদণ্ড নেই। অলংকার তৈরিতে সোনার দরের সঙ্গে মজুরি ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) যোগ করে দাম ঠিক করা হয়। রুপার দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের এক হাজার ৫০ টাকা ভরিতেই বিক্রি হবে রুপা।